টেকসই বিদ্যুৎ সঞ্চালন বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে কবে ? টেকসই বিদ্যুৎ সঞ্চালন বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে কবে ? - ajkerparibartan.com
টেকসই বিদ্যুৎ সঞ্চালন বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে কবে ?

4:25 pm , May 31, 2024

রিমেল তান্ডবে বরিশালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ রিমেল তান্ডব-এর তিনদিন পরেও বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিপূর্ণ পূণর্বাসন সম্ভব না হওয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের দূর্গতির শেষ নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের রেশ ধরে চিকিৎসা সেবা ও পানি সরবরাহ সহ টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধের ফলে এক চরম সংকটের কবলে পড়ে বিশাল জনগোষ্ঠী। সাথে প্রবল বর্ষণের সাথে জোয়ারের পানিতে সাধারন মানুষের ঘর-বাড়ী থেকে শুরু করে বিশাল জনপদ পানির তলায় চলে যাওয়ায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হন বিশাল জনগোষ্ঠী। এমনকি বিদ্যুতের অভাবে বরিশালের শত শত এটিএম বুথ সহ ফাষ্ট ট্রাকগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বন্ধের রেশ ধরেই সেল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘বিকাশ’ ‘রকেট’ ‘নগদ’ সহ সব ধরনের অনলাইন লেনদেনও বন্ধ হয়ে যায়। হাজার হাজার মোবাইল ফোন টাওয়ার বন্ধ হবার পরে অনেক এলাকার টেলিযোগাযোগ এখনো পরিপূর্ণ পূণর্বাসন সম্ভব হয়নি। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং ওজোপাডিকো তাদের সীমিত জনবল ও লাগসই প্রযুক্তি নিয়ে সম্ভব সব ধরনের চেষ্টা করেও দূর্যোগ পরবর্তি পরিস্থিতি থেকে পরিপূর্ণ উত্তরনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে দক্ষিণাঞ্চলে সর্ববৃহত চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ এ অঞ্চলের সবগুলো সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালগুলোতেও জরুরী অস্ত্রপচার সহ চিকিৎসা ব্যবস্থাই মুখ থুবড়ে পড়ে। সাথে বরিশাল মহানগরী সহ সবগুলো পৌর এলাকাগুলোতেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুতের অভাবে। টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে শিল্প ও ব্যবসা বানিজ্যে এখনো গতি ফেরেনি। এমনকি ৯০ কিলোমিটার বেগের ‘রিমেল’ আরো একবার বরিশালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নড়বড়ে অবস্থাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও তা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুটি বিতরন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের জন্য টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবে কিনা তা নিয়েও সন্দিহান এ অঞ্চলের আমজনতা।
২০০৭-এর ১৫ নভেম্বর কালরাতে বরিশাল সহ উপকুলভাগে আছড়ে পড়া ঘূর্নিঝড় ‘সিডর’এর গতিবেগ ছিল ঘন্টায় সোয়া ২শ থেকে আড়াইশ কিলোমিটার পর্যন্ত। কিন্তু সে ঝড়ের তান্ডবে বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরন, সঞ্চালন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের চেয়েও এবার তুলনামুলক ভাবে ক্ষতির পরিমান অনেক বেশী বলে মনে করছেন কারিগড়ি বিশেষজ্ঞগন। এর মূল কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কারিগড়ি বিশেষজ্ঞগন দীর্ঘদিনের পুরনো লাইন ও খুটি সহ যথাযথ সময়োচিত মেরামত এবং রক্ষনাবেক্ষন বিহীন সরবরাহ ও বিতরন ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মতে, এ অঞ্চলে তাদের প্রায় ২২ লাখ ১০ হাজার গ্রাহকের অন্তত সাড়ে ১২ লাখই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঝড়ে পুরো বিতরন ও সঞ্চালন ব্যবস্থাই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বিপত্তি ঘটে বলে জানিয়ে তা থেকে দ্রুত উত্তরনের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও জানান তিনি। তারমতে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ইতোমধ্যে অন্তত ৭৫ ভাগ গ্রাহক পুনরায় বিদ্যুৎ সুবিধা লাভ করেছেন। অবশিষ্ট গ্রাহকের ঘরেও দু-একদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ পৌছবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরন কোম্পানী-ওজোপাডিকো’র শহর এলাকার প্রায় ৩ লাখ গ্রাহকের প্রায় সবাই রিমেল-এর তান্ডবে অন্ধকারে ডুবলেও জনবল সংকটে পরিস্থতি সামালে উঠতে প্রতিষ্ঠানটি এখনো হিমশিম খাচ্ছে। পিডিবি’র সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, ঝড়ের তান্ডবে তাদের সবগুলো ফিডারেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খোদ বরিশাল মহানগরীতেই ৩৩ কেভি, ১১ কেভি ও .০৪ কেভি সঞ্চালন, বিতরন ও সরবরাহ লাইনগুলোর ওপর বিপুল সংখ্যক গাছ পড়ায় সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বলেও দাবী এ সিনিয়র প্রকৌশলীর। তারমতে, অনেক বিরূপ পরিস্থিতি কাটিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধা পূণর্বহালের কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে ৯০ ভাগ গ্রাহকের ঘরে বিদ্যুৎ পৌছেছে বলেও দাবী করেন তিনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ‘রিমেলকে প্রতিহত করার কোন সুযোগ না থাকলেও এসব দূর্যোগ মোকাবেলায় আরো টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারেনি এ কোম্পানিটি। প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০ বছর পরেও ওজোপাডিকো গ্রাহসেবা উন্নত করণের লক্ষ্যে পৌছা দুরের কথা, পিডিবি’র কাছ থেকে পাওয়া সুযোগ সুবিধা সমুহও ধরে রাখতে পারেনি। এমনকি খোদ বরিশাল মহানগরীর অভিযোগ ও গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল সহ ন্যুনতম কোন পরিবহন সুবিধা নেই। অভিযোগ কেন্দ্রগুলোতে গাড়ী না থাকায় কোন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা গোলযোগ দেখা দিলে অনেক টাকা খরচ করেই তা মেরামত করাতে হয়। এমনকি কথিত গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলোর টেলিফোন পর্যন্ত মাসের পর মাস বিকল থাকছে। এ নগরীর রূপাতলীতে ওজোপাডিকো’র ৩৩/১১ কেভী প্রধান সাব-স্টেশন ও নিয়ন্ত্রন কক্ষের টেলিফোনটিও বিকল গত ৬ মাসেরও বেশী সময় ধরে। এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল প্রকৌশলীদের উদাসীনতাকে দায়ী করেন গ্রাহক সহ ওয়াকিবাহাল মহল।
তবে রিমেল’এর মত ঘূর্ণিঝড় সহ যেকোন প্রাকৃতি দূর্যোগ মোকাবেলায় বরিশাল অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরো টেকসই ও উন্নত করার বিষয়ে সহমত পোষন করেছেন ওজোপাডিকো’র ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষও। এ লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্মসূচী বাস্তবায়নে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পেশ করার কথাও জানিয়েছেন দায়িত্বশীল মহল।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT