‘নো হেলমেট-নো ফুয়েল’ কার্যক্রমে ভাটা ‘নো হেলমেট-নো ফুয়েল’ কার্যক্রমে ভাটা - ajkerparibartan.com
‘নো হেলমেট-নো ফুয়েল’ কার্যক্রমে ভাটা

3:45 pm , May 22, 2024

জুবায়ের হোসেন ॥ সড়কে মোটরসাইকেল চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে নিয়মানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনতে ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। গত ১৮ মে এই নির্দেশনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায়। তবে তদারকির কঠোরতার অভাবে জনহিতকর এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বরিশালের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে। আগের মতই বেশির ভাগ পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট না থাকলেও জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু কিছু পাম্পে নির্দেশনা পালন করলেও নগরীর যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রয়কারী দোকানগুলোর কারনে গুরুত্বপূর্ন এমন কার্যক্রম বিফল হচ্ছে বলে জানিয়েছে নগরীর সচেতন বাসিন্দারা। পাম্প মালিকদের দাবি, নির্দেশনার বিষয়টি শুনলেও এ-সংক্রান্ত লিখিত কঠোর কোন নোটিশ পাননি এখনও। ট্রাফিক বিভাগের তদারকি কঠোর হলে তাদের নিয়ম না মানার কোন সুযোগ নেই বলে জানান। তবে খোলা বাজারে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রয় নিয়ন্ত্রনে আনতে না পারলে ফিলিং স্টেশন গুলোতে নিয়ম মেনেও কোন লাভ হবে না বলে জানায় তারা। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের দাবি, নির্দেশনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং তদারকিও চলছে। সকলের সহায়তামূলক অংশগ্রহনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা অচিরেই সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দেখা যাবে। আর নির্দেশনা না মানলে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। এছাড়া এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা খোলা বাজারের জ্বালানি তেল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়। সেখানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ নীতি গ্রহণের কথা বলেন। এর পর নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন জেলায় কাজ শুরু করে পুলিশ। গত ১৮ মে বেলা ১১টায় নগরীর সাগরদী এলাকার মেসার্স ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন ও এলপিজি কনভারশন সেন্টারে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সেখানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রুনা লায়লা, পরিদর্শক আ. রহিম, পল্লব কুমার সাহা, সার্জেন্ট জাকির হোসেনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কার্যক্রম শুরুর পর তেল নিতে আসা হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের জরিমানা করা হয়। এছাড়া পেট্রোল পাম্পগুলোতে জনসচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকার সাঁটানো হয়েছে। পাশাপাশি পাম্প কর্তৃপক্ষকে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি না দিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বরিশাল মেট্রাপলিটন এলাকায় পেট্রোল পাম্প রয়েছে ২০টি। এর মধ্যে মেসার্স ডোস্ট ফিলিং স্টেশন, মেসার্স লিলি ফিলিং স্টেশন, মেসার্স শাওন ফিলিং স্টেশন, রুপাতলী ফিলিং স্টেশন, হাজী ফিলিং স্টেশন, ইসরাইল তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সুরভী ফিলিং স্টেশন, রাব্বি ফিলিং স্টেশন এই গুলই বেশি পরিচিত ও বেশ চলমান ফিলিং স্টেশন। নির্দেশনার ৫ দিন হলেও এই সকল পাম্প গুলোর অনেককেই সরেজমিনে দেখা গেছে হেমমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের কাছে তেল বিক্রয় করতে। তবে আগের তুলনায় কম বিক্রি করলেও নির্দেশনার পুরোপুরি বাস্তবায়নের চিত্র দেখা যায়নি এই পাম্পগুলোর একটিতেও। বুধবার রুপাতলী হাজী ফিলিং স্টেশনে হেলমটে বিহীন এক চালকের কাছে তেল বিক্রির চিত্র দেখা গেলে প্রশ্ন করা হয় বিক্রয়কর্মীকে। তিনি বলেন, পরিচিত লোক তাই বিক্রি করেছেন। সবার কাছে করেন না। একই দৃশ্য দেখা গেছে রুপাতলী ফিলিং স্টেশন ও ইসরাইল তালুকদার ফিলিং স্টেশনে। তারা জানায়, বেশিরভাগ আরোহী হেলমেট পড়েই আসছেন, তবে যারা আসছেন না তাদের প্রথমবার সতর্ক করে তেল দিচ্ছেন। তাদের এমন কথার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি দুর থেকে নজর রেখে। যারা আসছে প্রথমবার সতর্ক করার নামে প্রত্যেকের কাছেই জ্বালানি বিক্রি করছেন এই পাম্পগুলোর বিক্রয়কর্মীরা।
অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনগুলো কিছুটা মানলেও নগরীর অসংখ্য অবৈধ খোলা বাজারের জ্বালানি তেল বিক্রি করা দোকানগুলোর এই নির্দেশনায় হয়েছে পোয়াবারো। অহরহ প্রকাশ্যে হেলমেটবিহীন চালকদের কাছে তেল বিক্রি করছে তারা। এই নির্দেশনার পরে তাদের ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে। নগরীর প্রত্যেক এলাকায় কম বেশি এই দোকানগুলো গড়ে উঠেছে। পেট্রোল পাম্পে কঠোরতা দেখানো হলেও অবৈধভাবে পরিচালিত এ সকল জ্বালানি তেল বিক্রয়কারী দোকানগুলোর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়ার দৃশ্য বিরল।
বিস্ফোরক পরিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলায় ২৯টি (ট-ফরম) পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি তেল বিক্রির বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া জেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির (এম-ফরম) পেট্রোলিয়াম বিক্রির বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের। পাশাপাশি আরও ৪২টি প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণির (ঝ-ফরম) পেট্রোলিয়াম বিক্রির বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া (চ-ফরম) এলপিজি সিলিন্ডার ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অনুমোদন রয়েছে ২০৭টি প্রতিষ্ঠানের। অথচ সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে শুধু বরিশাল নগরীতেই প্রায় সহস্রাধিক জ্বালানি তেল বা পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকান যেমন অবৈধ, তেমনি এদের তেল সংগ্রহ পদ্ধতিও অবৈধ। এদরে কারনেই নগরীতে ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে জািেনয়ছে সাধারন ও সচেতন বাসিন্দারা।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী মো. খান শাওন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে মেট্রোপলিটন পুলিশ শুক্রবার তাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছে। কোন লিখিত নির্দেশনা পাননি। তবে এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে সার্বিক সহায়তায় পাশে থাকার কথা বলেন তিনি। এছাড়াও সকল ফিলিং স্টেশন মালিকদের এই নির্দেশনা মানার আহবান জানান।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, সম্প্রতি নো হেলমেট, নো ফুয়েল নির্দেশনার বিষয়ে শুনেছি। তবে লিখিত নোটিশ পাইনি। পেলে নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের সহকারি কমিশনার মো. শাহজাহান বলেন, ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সকল পেট্রোল পাম্পে লিফলেট, ব্যানার ও স্টিকার দেয়া হয়েছে। তদারকিও করা হচ্ছে নিয়মিত। সকলের সহায়তামূলক অংশগ্রহনের মাধ্যমে নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন হবে অচিরেই। যারা নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে ট্রাফিক বিভাগ। অন্যদিকে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য দেয়া হলে খোলা বাজারে হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রয় করা দোকানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT