সরবরাহ কমায় নগরীতে বেড়েছে ডিমের দাম সরবরাহ কমায় নগরীতে বেড়েছে ডিমের দাম - ajkerparibartan.com
সরবরাহ কমায় নগরীতে বেড়েছে ডিমের দাম

4:03 pm , May 19, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজন প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, কোথাও এর বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঈদ উল ফিতরের পরে বাজারে ডিমের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। সরবরাহ কম থাকায়  দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রান্তিক পর্যায়ের ডিমের খামারিদের অভিযোগ যে দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে এর সুফল তারা ভোগ করছেন না। বরং অনেক খামারির উৎপাদন খরচ বাড়লেও ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। এ সময়ে ডিমের দাম বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ডিম ব্যবসায়ী সমিতির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেন খামারিরা। তাদের অভিযোগ জাতীয় পর্যায়ে গুটিকয়েক রাঘববোয়াল ডিম ব্যবসায়ী সমিতির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ডিম গুলো মজুদ করে ফেলেছে। রোজার মাসে চাহিদা একেবারেই কম থাকায় ওই সময় তারা সিন্ডিকেট করে ফেলে ডিম গুলো । এছাড়া গত মাসে প্রচন্ড তাপদাহ সারা দেশে খামারিদের প্রচুর পরিমাণে মুরগি মারা গেছে। প্রাকৃতিক কারণেও তৈরি হয়েছে সংকট। এরপরেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিম গুলো মজুদ  করা হয়। ক্রেতা পর্যন্ত আসতে ডিমের দাম বাড়তো তবে এতটা বাড়তোনা বলে দাবি খামারিদের। তবে,  এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিভিন্ন বাজারের ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বাড়ছে ডিমের দাম। বরং তারাও কোন কোন ক্ষেত্রে লোকসানে ডিম বিক্রি করছেন বলে দাবি করেন। নগরীর বাজাররোড, হাটখোলা, সাগরদি, চৌমাথা সহ বিভিন্ন বাজারে রোববার এক ডজন ডিমের দাম ১৫০- ১৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে দফায় দফায় ডিমের দাম বেড়ে ডজন প্রতি ১২০ টাকা থেকে এখন ১৫০ টাকায় এসেছে।
চৌমাথা বাজারে রোববার বাজার করেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাসিফ হোসেন খান। ডিমের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক ডজন ডিম কিনলাম ১৫০ টাকা দিয়ে। অথচ কিছু দিন আগেও ১৩০ টাকায় কিনেছি। যেটা ১২০ টাকা ডজন ছিলো দুই সপ্তাহ আগে। “মুরগি বা মুরগির খাবারে কি এমন সর্বনাশ হচ্ছে যাতে পাঁচ/ছয়দিনেই দামে এতো ব্যবধান হয়? এগুলা ডিম ব্যবসায়ীদের কারসাজি ” অভিযোগ এই ক্রেতার।
বাজার রোডের ডিম বিক্রেতারা বলছেন, তারা বেশি দামে কেনেন বলে তাদেরও লাভ রেখে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। কুদরত আলী নামে একজন খুচরা ডিম বিক্রেতা বলেন, “ আমরা যখন পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে দামে ডিম কিনি সেটার সাথে হিসাব করেই ভোক্তার কাছে ডিম বিক্রি করতে হয়। অর্থাৎ খুব বেশি না হলেও লাভের অংশ হিসাব করে আমরা বিক্রি করি। আমরা দাম বাড়াতে পারি না। প্রান্তিক খামারিদের অভিযোগ দেশে প্রতিদিন ডিমের চাহিদা চার কোটি। উৎপাদন হয় সাড়ে চার কোটি। সাড়ে পাঁচ কোটি মুরগি থেকে এই ডিম উৎপাদন হয় বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বাজারে যে ডিমের চাহিদা রয়েছে তার ৮০ শতাংশ উৎপাদন করছে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা। বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সূত্র মতে, সরকারের কোন প্রতিষ্ঠান বা সহযোগিতা না থাকায় প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিরা ডিমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। ফলে দিন দিন খামারির সংখ্যা কমছে। ডিমের যারা সিন্ডিকেট আছে তারা ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করে। তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি ও করপোরেট কয়েকটা প্রতিষ্ঠান তারা চাইলেই সারা দেশে দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন, আবার চাইলে দাম কমিয়েও দিতে পারে। পহেলা মে খামারে যে লাল ডিমের দাম ছিলো আট টাকা ২০ পয়সা, ২ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সেই দাম ক্রমাগত বাড়ছে। খামারিরা বলছেন, খামারে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ সাড়ে নয় টাকা থেকে সাড়ে দশ টাকা। কিন্তু তাদের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ডিম তারা উৎপাদন করলেও দাম নির্ধারণ করে তেজগাঁও ডিম সমিতি ও কয়েকটা করপোরেট প্রতিষ্ঠান। তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি খামারিদের কাছ থেকে ডিম কেনার পর ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের বিক্রির জন্য বেশি দাম নির্ধারণ করে দেয়।এই ডিম বিভিন্ন পাইকারের মাধ্যমে বরিশাল নগরীতেও আসে । ফলে বাজার থেকে ক্রেতা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এই মুহূর্তে কোন ধরনের পরিবর্তিত পরিস্থিতি না থাকলেও ডিম ব্যবসায়ীদের কারণেই ভোক্তা পর্যায়ে ক্রমাগত বাড়ছে ডিমের দাম। এখন সরকার খুচরা মূল্য বারো টাকা বা সাড়ে বারো টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে তা যৌক্তিক মূল্য। কিন্তু এটা থাকে না তখন ডিম ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে এটার দাম কমিয়ে ফেলেন। খামারিদের উৎপাদন খরচ দশ টাকা হলেও বিক্রি করতে হয় সাড়ে সাত টাকা থেকে আট টাকার ভেতরে। প্রান্তিক খামারিরা তাদের কাছে অসহায় । এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে দ্রুত হস্তক্ষেপ না, করা হলে অদুর ভবিষ্যতে এই সংকট আরো তীব্র হবে এবং দাম বাড়বে আরো।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT