প্রধানমন্ত্রী চান সোনালী আঁশের আভিজাত্য ফিরিয়ে আনতে -বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী চান সোনালী আঁশের আভিজাত্য ফিরিয়ে আনতে -বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী - ajkerparibartan.com
প্রধানমন্ত্রী চান সোনালী আঁশের আভিজাত্য ফিরিয়ে আনতে -বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী

4:19 pm , May 18, 2024

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী চান সোনালী আঁশের আভিজাত্য ফিরিয়ে আনতে জানিয়ে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন,যেকোন মূল্যেই আমরা পাটের গৌরবময় সোনালী ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। পাটবীজের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। দেশে ছয় হাজার মে.টন পাটবীজ প্রয়োজন। দেশে এক হাজার পাঁচশত মে. টন উৎপাদন হয়, বাকী সাড়ে চার হাজার বীজ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ব্যাপকভাবে পাটবীজ উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে। শনিবার দুপুরে খুলনায় বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিজেএর চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ আহমেদ আকন্দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম কামাল হোসেনসহ অন্যান্যরা।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী নানক বলেন, যেকোন মূল্যেই আমরা পাটের গৌরবময় সোনালী ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। পাটবীজের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। দেশে ছয় হাজার মে.টন পাটবীজ প্রয়োজন। দেশে এক হাজার পাঁচশত মে. টন উৎপাদন হয়, বাকী সাড়ে চার হাজার বীজ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ব্যাপকভাবে পাটবীজ উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ফ্রাষ্কফুর্টে পাঠালেন। আমাদের দেশের পাটপণ্যের ৫০ টি স্টল, ভারতের ২১টি স্টল। বিদেশে পাটপণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। কাঁচাপাট রপ্তানি করেও বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী চান সোনালী আঁশের আভিজাত্য ফিরিয়ে আনতে। পাটচাষি, পাট ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উৎস কর কমিয়ে আনতে সবার সঙ্গে কথা বলা হবে। এবিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী অর্থ সচিব এবং প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ৬ মার্চকে পাট দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছেন। মাননীয় নেত্রী এই পাটকে কৃষি পণ্য হিসাবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু পাট চাষীরা যখন ব্যাংকে যায় পাট ব্যবসায়ীরা যখন ব্যাংকে যায় তখন গাত্রদাহ হয়। সেইভাবে তারা একসেপ্ট করে না পাট ব্যবসায়ীদের। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এটার জন্য যা যা করা দরকার আমি আছি। আমি আপনাদের পক্ষ হয়ে সেই দায়িত্ব পালন করবো।
যে পাট আমাদের গর্বের ফসল ছিল। সেই গর্বের ফসল পাটে আবার আমাদের দেশ ফিরে যাবে। তাই সংশ্লিষ্টদের এধরনের কর্মশালা করারও ব্যাপারে উৎসাহ দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি পরিবেশবান্ধব এই সোনালী ব্যাগকে অতি দ্রুত উৎপাদনে নিয়ে আসার। পলিথিনের ব্যাগ বন্ধ করতে বলবো কিন্তু বিকল্প ভোক্তার হাতে দেব না বা বিক্রেতার হাতে দেব না, এটি হতে পারে না! বাজারে গিয়ে পাঁচ রকমের সবজি যদি কিনেন তাহলে পাঁচটা ব্যাগে পাঁচ রকম সবজি বিক্রেতা দেয় বিনা পয়সায়। তারপরও যদি বলেন সবগুলো আরেকটা ব্যাগে দিয়ে দেন সেটাও দিয়ে দেয় বিনা পয়সায়। কিন্তু আমাদের যে সোনালী ব্যাগ হচ্ছে সেটির উৎপাদনে যে দাম হচ্ছে সেটিকে আমরা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। সেটিকে আমরা মানুষের ক্ষয় ক্ষমতার মধ্যে সহনীয় পর‌্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নানক বলেন, আমি হেভিওয়েট মন্ত্রী না। আমরা রাস্তা থেকে বেড়ে ওঠা মানুষ। আমরা খুব সহজ মন্ত্রী। কাজেই আমাদের কাছে আসবেন। আমাদের দরজা খোলা। আমাদের কাছে আসবেন যেকোন সমসা নিয়ে যেকোন প্রয়োজনে আপনারা ডাকবেন। প্রয়োজনবোধে এই খুলনায় চলে আসবো।
এর আগে মন্ত্রী বিজেএমসি নিয়ন্ত্রণাধীন দৌলতপুর জুট মিলস লিমিটেড, প্লাটিনাম জুবলি জুট মিলস লিমিটেড, ক্রিসেন্ট জুট মিলস লিমিটেড খালিশপুর জুট মিলিস লিমিটেড এবং বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনা টেক্সটাইল মিলস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন বিজেএমসির চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রি. জেনারেল জিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মন্ত্রী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণায়য়ের আওতাধীন জুট মিলসগুলো ও টেক্সটাইলস মিল পরিশর্দন শেষে গণমাধ্যমর্কীদের ব্রিফিংকালে বলেন,পাটকলগুলো ইজারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল এই এলাকায় যারা দক্ষ শ্রমিক আছেন তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে পারা। কিন্তু যাদেরকে ইজারা দেওয়া হয়েছে তারা আশানুরূপ ফলাফল দিতে পারেনি । এটা দুঃখজনক। যাদের ইজারা দেওয়া হয়েছে তারা পাটকলগুলোতে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করতে পারেনি।
তিনি বলেন, সোনালী আঁশ পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য যা যা করা দরকার সবকিছু করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যাদের ইজারা দেওয়া হয়েছে তারা দীর্ঘদিনে পাটকলগুলোতে শুভ সূচনা করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিক বান্ধব। প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জন্য সবকিছু করে যাচ্ছেন। এ অঞ্চলের জুট মিলসগুলো বন্ধ হলেও প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। এলাকায় শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে এতে করে শ্রমিকদের সুদিন ফিরে আসবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT