শিক্ষার্থীর শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া বাইন মাছ বের হলো অপারেশন করে শিক্ষার্থীর শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া বাইন মাছ বের হলো অপারেশন করে - ajkerparibartan.com
শিক্ষার্থীর শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া বাইন মাছ বের হলো অপারেশন করে

4:21 pm , May 17, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরগুনার বেতাগীতে খালে মাছ ধরতে গিয়ে ছুটে দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর গলায় আটকে যাওয়া মাছ অস্ত্রপচারের মাধ্যমে বের করা হয়েছে। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকরা ৬ ঘন্টা অস্ত্রপচার করে মাছ বের করে করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বরগুনার বেতাগী উপজেলার কেওড়াবুনিয়া এলাকার জমাদ্দার বাড়ির বাসিন্দা কৃষক সিদ্দিক জমাদ্দারের ছেলে আব্দুল কাইউম বর্তমানে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সে বেতাগী ছালিয়া মাদ্রাসার আলিয়া বিভাগের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। শিক্ষার্থীর স্বজনরা জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে বাড়ির পাশের কেওড়াবুনিয়া খালে মাছ ধরতে যায় আব্দুল কাইউম। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মাছের জাল তোলার সময় হঠাৎ খালের পানিতে ডুবে যায় কাইউম। এসময় তার হাতে থাকা একটি ৬ ইঞ্চির বাইন মাছ মুখের মধ্যে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে কাইউমের খালা ও চাচাতো বোন তাকে উদ্ধার করে। কাইউমের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে প্রথমে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে রাত ১০ টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয় এবং দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় বাইন মাছটি বের করতে সক্ষম হন চিকিৎসকরা।
শিক্ষার্থী আব্দুল কাইউম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, নতুন খাল খনন করায় সেখানে গভীরতা বেশি হওয়ায় ঠাঁই পাচ্ছিলাম না। এরমাঝেই মাছটি হাত থেকে ছুটে গেলে আমি মুখ খুলে ডুব দেই। আর তখনই মাছটি আমার গলার মধ্যে ঢুকে যায়। এরপর কোনোভাবে আমি খাল থেকে পাশের রাস্তায় উঠতে পারলেও শ্বাস নিতে পারছিলাম না। তাৎক্ষণিক স্বজনদের কোনোভাবে ডাক দিয়ে পেটের মধ্যে বাইন মাছ চলে যাওয়ার কথা বলেছি।
এদিকে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই অস্ত্রোপচারটি সুষ্ঠভাবে সম্পূর্ণ করতে পেরে খুশি চিকিৎসকরা।
অস্ত্রোপচারের ঘটনার রাতের বর্ণনায় রেজিষ্ট্রারার ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর অক্সিজেন লাগানো অবস্থাতেও রোগী হাঁসফাঁস করছিলো বাঁচার জন্য। রোগীর বাবা জানায় গলায় বাইন মাছ চলে যাওয়ার কথা। শুরুতে গলা চেক কোথাও কোন মাছের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, তবে শ্বাসে মাছের আঁশটে গন্ধ ছিল। রোগীর কন্ডিশন খারাপ থাকায় এক্সরে করার সুযোগ না থাকলেও নানান লক্ষণে আমরা বুঝতে পারি মাছ টি শ্বাসনালিতে চলে গেছে। পরে সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান স্যারের নেতৃত্বে টানা ঘণ্টা তিনেক যুদ্ধ শেষে শ্বাসনালি কেটে বাইন মাছটি বের করা হয়।
হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে অসাবধানতাবশত একটি বড় বাইন মাছ রোগীর শ্বাসনালিতে চলে যায়। এতে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি দেখা দেয় রোগীর। আর তাকে খুব মুমূর্ষু অবস্থাতেই বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় শ্বাসনালি কেটে বাইন মাছটি কেটে রোগীকে সেইভ করা হয়। এরপর রোগী সুস্থ হলে ৭-৮ দিন পর তার শ্বাসনালিতে বসানো টিউব রিমুভ করি আমরা।
রোগী এখন সুস্থ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণের জন্য শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগে এখনও ভর্তি রাখা হয়েছে কাইউমকে। সেইসাথে অভিজ্ঞতা ছাড়া মাছ ধরতে সন্তানদের না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য আব্দুল কাইউম বরগুনার বেতাগী উপজেলার কেওড়াবুনিয়া এলাকার জোমাদ্দার বাড়ির বাসিন্দা কৃষক সিদ্দিক জমাদ্দারের ছেলে। ৫ ভাইবোনের মধ্যে কাইউম সবার ছোট। সে বেতাগী ছালিয়া মাদ্রাসার আলিয়া বিভাগের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT