নগরীর বাজারে এসেছে লিচু ॥ দামও চড়া! নগরীর বাজারে এসেছে লিচু ॥ দামও চড়া! - ajkerparibartan.com
নগরীর বাজারে এসেছে লিচু ॥ দামও চড়া!

3:15 pm , May 10, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ফলের বাজারে উঠতে শুরু করেছে মধু মাসের রসালো ফল লিচু। তীব্র দাবদাহে লিচু ঝরে যাচ্ছে, তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে পরিপক্ব হওয়ার আগেই লিচু বিক্রি করে দিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লিচু বাগান মালিকরা। ফলে লিচুর আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভোক্তারা, তবে দামও অনেক চড়া। নগরীতে প্রতি ১০০ পিস লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। তবে অপরিপক্ব লিচু না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। নগরীর ফটপট্টি ও পোটরোড এলাকার ফলের পাইকারী মোকাম সেখানে শুক্রবার দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছে পরিপক্ক ও অপরিপক্ক উভয় ধরনের লিচু। অপরিপক্ক লিচুর দাম কিছুটা কম হলেও বেশ চড়া দরে বিক্রি হচ্ছে পাকা লিচু।
পাইকার মোজাম্মেল জানান, ঈশ্বরদীর সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে এই লিচুগুলো। মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার এ মোকামে সামান্য কিছু লিচুর আমদানি হয়। বাগান থেকেও সরাসরি বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানি করা লিচুর পরিমানই বেশি। পাইকারিতে অপরিপক্ব দেশি লিচু ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা হাজার অর্থাৎ ১০০ লিচু ২০০ থেকে ২২০ টাকা দামে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। শহরের বাজারে এই লিচু শতকরা ৪০০ টাকা করে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চলতি মৌসুমে মোজ্জাফ্ফর জাতের (দেশি) লিচু অনাবৃষ্টি ও প্রচ- তাপপ্রবাহে কালচে হয়ে ফেটে যাচ্ছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে লিচু পাকার হলুদ ও লালচে রং ধারণের সঙ্গে সঙ্গেই লিচুর উপরের আবরণ কালচে হয়ে ফেটে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর প্রতিটি লিচু গাছের প্রায় ৪০-৫০ ভাগ গুঁটি ঝরে গেছে বলে জানায় লিচু চাষের সংশ্লিষ্টরা।
কৃষিবিদরা জানান, সুমিষ্ট ও রসালো লিচুর জন্য বিখ্যাত ঈশ্বরদী। লিচু ২৮-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। প্রায় মাসাধিক সময় ধরে ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ৩৯-৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে লিচুর আকার ছোট হয়ে এবং সুমিষ্ট এ ফলের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণেই পরিপক্ব হবার আগেই গাছ থেকে লিচু পাড়তে হচ্ছে। কারণ গাছ থেকে লিচু ঝরে পড়ছে। গাছে লিচু ফেটে যাচ্ছে। তবে লিচুর আবাদে চাষিরা লোকসান গুনলেও লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারে লিচু কিনতে আসা আমজাদ হোসেন জানান, বাজারে নতুন ফল এসেছে। তাই বাড়ির ছেলেমেয়েদের জন্য কিনেছেন। যদিও স্বাদ কম। আরও কিছুদিন গাছে থাকলে লিচু পুষ্ট হতো স্বাদও পাওয়া যেত।
সূত্র মতে প্রতি বছর মে মাসের ১০-১৫ তারিখের মধ্যে বাজারজাত হয়। অনাবৃষ্টির কারণে লিচু আকারে ছোট হয়ে গেছে। লিচু যখন পাকার উপযোগী হয় তখন কোনো অবস্থাতে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রার বেশি ধারণ করতে পারে না। রৌদ্রের তাপে গাছ থেকে লিচু একাই ঝরে পড়ছে। গাছের গোড়ায় পানি দিয়েও তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে চাষিরা।
চিকিৎসকদের মতে হাইপোগ্লাইসিন এ সাধারণত কাঁচা বা আধা পাকা অর্থাৎ পাকা নয়, এমন লিচুতে পাওয়া যায়। এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মারাত্মক বমি বমি ভাব সৃষ্টি করে। অন্যদিকে মিথাইলিন-সাইকো-প্রোপাইল-গ্লাইসিন উপাদানটি গ্রহণের ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত কমে যায়। এর কারণে বমি, অচেতন এবং দুর্বল হয়ে পড়ে রোগী। কাঁচা বা আধা পাকা লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সচেতনতাও বাড়াতে হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT