বাকেরগঞ্জে ইউএনও-নির্বাচন অফিসার ও পুলিশের উপর হামলায় পরাজিত প্রার্থীসহ সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুই মামলা বাকেরগঞ্জে ইউএনও-নির্বাচন অফিসার ও পুলিশের উপর হামলায় পরাজিত প্রার্থীসহ সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুই মামলা - ajkerparibartan.com
বাকেরগঞ্জে ইউএনও-নির্বাচন অফিসার ও পুলিশের উপর হামলায় পরাজিত প্রার্থীসহ সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুই মামলা

4:17 pm , May 9, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাকেরগঞ্জে উপজেলা পরিষদের ভোটের ফলাফল ঘোষনা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা করেছে নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার বাকেরগঞ্জ থানায় পৃথক দুই মামলা করা হয়েছে বলে ওসি আফজাল হোসেন জানিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফলাফল ঘোষনার পর পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসাইফুল ইসলামসহ তার সমর্থকরা ক্ষুদ্ধ হয়। তারা ফলাফল না মেনে তাদের উপর হামলা করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এলে পুলিশের উপর হামলা করা হয়। এতে তিনিসহ পুলিশ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র নামধারী সাইফুল ইসলাম ডাকুয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৭০ জনকে আসামী করেছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসআই নাসির উদ্দিন, এএসআই আরিফুর রহমানসহ পাঁচ জন আহত হয়েছে। তারা এখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় এসআই ফারুক খান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৬০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এরমধ্যে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফলাফল ঘোষনার পর পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া ও সমর্থকরা উপজেলার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় কয়েকটি পটকা বিস্ফোরন করা হয়। তখন  উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে শারিরীকভাবে আঘাত করে। প্রার্থীকে উপজেলা মিলনায়তনে ডেকে এনে ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকলে আপীল করাসহ নানা আইনী পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু প্রার্থী ও সমর্থকরা না মেনে মিলনায়তনে থাকা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে কিল-ঘুষি লাথি দিয়ে বেধরকভাবে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে রক্ষা করে। প্রত্যক্ষদর্শী আরো জানিয়েছেন, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেছেন। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করেছে।
উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম ভোট কারচুপির মাধ্যমে স্থানীয় এমপির আপন ছোট ভাই সালাম মল্লিককে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। এ সময় আমার সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে পুলিশ নির্বিচারে নারী-পুরুষদের উপর লাঠিচার্জ চালায়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা দেখিয়ে আমার একজন সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, ফলাফল ঘোষনার পর পরাজিত প্রার্থী ও তার সমর্থকরা আমাদের উপর হামলা করেছে। এতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ পুলিশ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও নির্বাচন কর্মকর্তা বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা করেছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT