কিশোর হত্যায় তরুনের ১০ বছরের কারাদন্ড কিশোর হত্যায় তরুনের ১০ বছরের কারাদন্ড - ajkerparibartan.com
কিশোর হত্যায় তরুনের ১০ বছরের কারাদন্ড

4:18 pm , April 22, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ উজিরপুরে দশম শ্রেনীর ছাত্র হত্যায় তরুনকে ১০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে শিশু আদালত। সোমবার বরিশালের শিশু আদালতের বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী কাজী হুমায়ুন কবির। দন্ডিত তরুন আশিক আব্দুল্লাহ (২২) বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠী গ্রামের মো. ওসমান হাওলাদারের ছেলে। বেঞ্চ সহকারী কাজী হুমায়ুন কবির বলেন, কিশোরকে হত্যায় আশিককে ১০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার সময় দন্ডিত আশিক আব্দুল্লাহ কিশোর ছিলো। তাই আইন অনুযায়ী তার বিচার শিশু আদালতে ছিলো। রায় ঘোষনার সময় সে এজলাসে উপস্থিত ছিলো। রায় ঘোষনার পর দন্ডিত আশিক আব্দুল্লাহ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি জড়িত ছিলাম না। কারা হত্যায় জড়িত কে ছিলো জানি না। সাজা তো হইয়াই গেছে, এ নিয়ে ভাবি না। হত্যার শিকার ই¯্রাফিল হাওলাদার নয়ন উপজেলার ভরসাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা চট্রগ্রামের ইপিজেডের গার্মেন্টস শ্রমিক আ. সোবাহান হাওলাদারের ছেলে। নয়ন বামরাইল হাইস্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্র ছিলো। মামলার বাদী সোবাহান হাওলাদার বলেন, সন্তান হত্যায় তিনজন জড়িত ছিলো। একজন শিশু হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে হয়েছে। অপর দুইজনের বিচার বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হচ্ছে। শিশু আদালতে দেয়া রায়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। এর বিরুদ্ধে আপীল করা গেলে, আপীল করবেন। মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী বলেন, বাদী সোবাহান গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে স্ত্রীকে নিয়ে চট্রগ্রামে বাস করতেন। ভরসাকাঠি গ্রামে বাবা-মায়ের কাছে থাকতো সন্তান নয়ন ও ফারজানা আক্তার। ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল নয়ন বাড়ির পাশে ক্ষেত থেকে দাদা-দাদী ও ছোট বোনের সাথে লাল শাক তুলতে ছিলো। এ সময় একটি ছেলে এসে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত ৯টার দিকেও নয়ন ফিরে না এলে আশে-পাশে খোজ শুরু করে। রাত ১০টার দিকে নয়নের কাছে থাকা মোবাইল ফোন নম্বর থেকে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল আসে। অল্প বয়সী কন্ঠের এক অজ্ঞাত ছেলে স্ত্রীর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ছেলেকে ফেরত দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেয়। পরে ১০ লাখ টাকায় ফেরত দেয়ার চুক্তি হয়। নয়নের বাবা চট্রগ্রাম থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল সকাল ৭ টায় পাশের বাবুগঞ্জ উপজেলার রমজানকাঠি গ্রামের সন্ধ্যা নদীতে ভাসমান অবস্থায় ছেলের লাশ পায়। এ ঘটনায় ২৮ এপ্রিল বাবুগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা করে সোবাহান হাওলাদার। ২০২২ সালের ২৯ মে পিবিআই’র এসআই গোলাম কাওসার একমাত্র আশিক আব্দুল্লাহকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট জমা দেয়। বিচারক ১৭ জনের স্বাক্ষ্য নিয়ে রায় দিয়েছেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT