ইলিশের গভীর সমুদ্রে চলে যাবার আশংকা তৈরী হচ্ছে ইলিশের গভীর সমুদ্রে চলে যাবার আশংকা তৈরী হচ্ছে - ajkerparibartan.com
ইলিশের গভীর সমুদ্রে চলে যাবার আশংকা তৈরী হচ্ছে

4:07 pm , April 17, 2024

মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপন্ন ॥ ডায়রিয়ার বিস্তৃতি

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপ প্রবাহে বরিশালে সুস্থ জনজীবন প্রায় বিপন্ন। গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ার ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটছে। বুধবার সকালের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালেই প্রায় সাড়ে ৬শ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। যারমধ্যে প্রায় ৩০ ভাগই শিশু। গ্রীষ্মের শুরুতে চলমান দাবদাহে মহানগরীর রাস্তাঘাট দুপরের আগেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের প্রায় ৫ ডিগ্রী ওপরে ৩৮.২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে গেছে বুধবার দুপুরে। শিশু এবং বয়োবৃদ্ধ সহ সাধারন মানুষের কষ্ট ও দূর্ভোগের সাথে স্বাস্থ্য ঝুকিও ক্রমশ বেড়ে চলেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বরিশারে তাপমাত্রা ৩৭.৮ ডিগ্রী সেলসিয়ানে  উঠে যাবার পরে সন্ধ্যায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়ার সাথে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে জরজীবন শিক্ত হলেও বুধবার সকাল থেকেই রোদের দাপট জনবীবন বিপন্ন হয়ে পরে। দুপুর ৩টায় বরিশাল আবহাওয়া অফিস মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড  করে ৩৮.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন ‘হিট স্ট্রোক’ থেকে সবাইকে সাবধান করে দিয়ে প্রয়োজন ছাড়া রোদে ঘোরাফেরা করা থেকে বিরত থাকা সহ পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহনেরও পরামর্শ দিয়েছেন। অব্যাহত তাপ প্রবাহে প্রায় ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধানের পরিচর্যা ব্যাহত হবার পাশাপাশি নদীর পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের গভীর সমুদ্রে চলে যাবার আশংকার কথাও বলেছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞগন। এমনকি প্রখর রোদের সাথে তাপ প্রবাহে জেলেরা নৌকা নিয়ে নদ-নদীতে নামতে পারছেন না। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সাগর পাড়ের খেপুপাড়াতে ৪০.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ঐ এলাকায় প্রায় ৮ ডিগ্রী বেশী ছিল। বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের ২-৩ ডিগ্রী ওপরে থাকছে। ফলে ভোরে একটু ঠান্ডা হাওয়ার স্বস্তিও মিলছে না। গত ৪ দিন ধরে অব্যাহত তাপ প্রবাহে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। গ্রীষ্মের শুরুতে এসময়ে বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের স্থলে বুধবার দুপুরে তা ৩৮.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছুয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। অব্যাহত এ তাপপ্রবাহের সাথে বরিশালে কাঙ্খিত বৃষ্টিও হচ্ছে না। আবহাওয়া বিভাগের মতে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমান স্বাভাবিকের অনেক নিচে রয়েছে। গত মাসেও বরিশালে স্বাভাবিকের ৩০% কম বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসেও স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতের খবর জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস। চলতি মাসে ৬-৮ দিনে বরিশালে ১২০ থেকে ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হলেও মাসের প্রথম ১৭ দিনে ২৩ মিলিমিটারের মত  বৃষ্টি হয়েছে। চৈত্রের শেষভাগ থেকেই তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ ওপরে ওঠা সহ বৃষ্টিপাতের ঘাটতিতে জনস্বাস্থ্যের সাথে কৃষি ও মৎস্য খাতেও বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভরা বোরো মৌসুমের এসময়ে পর্যাপ্ত সেচ ও সার প্রয়োগ এবং আগাছা দমন সহ মাঠে মাঠে ধানের ব্যাপক পরিচর্যা প্রয়োজন হলেও কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা খরতাপে জমির কাছেই যেতে পারছেন না। এমনকি বৃষ্টির অভাবে অতিরিক্ত সেচ প্রদানে এবার বরিশালে বোরো ধানের উৎপাদন ব্যায় বৃদ্ধিরও আশংকা করছেন কৃষিবীদগন। চলতি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে ৪ লাখ হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে প্রখর রোদের সাথে অব্যাহত তাপ প্রবাহে জেলেরাও নদ-নদী ও বাওরে স্বাভাবিক মৎস্য আহরন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি চলমান তাপ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বরিশালের অভ্যন্তরীন ও উপক’ল অভ্যন্তরের নদ-নদী থেকে ইলিশের ঝাক গভীর সমুদ্রে চলে যাবারও আশংকা করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞগন। মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক জানান, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে জেলেদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি’। তার মতে, ‘তাপ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইলিশের মাইগ্রেশন-এর আশংকা তৈরী হতে পারে’। তবে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনেরও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT