বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলমের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত শুরু বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলমের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত শুরু - ajkerparibartan.com
বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলমের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত শুরু

3:43 pm , April 16, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবে থাকা বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে তদন্ত। মেম্বারদের দেয়া দুর্নীতির অভিযোগ এবং অনাস্থা নিয়ে মঙ্গলবার তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত চলাকালে ইউনিয়ন পরিষদের বাহিরে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অনাস্থা অভিযোগ আনা ইউপি সদস্য মুসা আলী জানান, চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী সরকারী বরাদ্দ আত্মসাত, খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মানসহ ত্রানের টিন, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, গ্রামীন অবকাঠামোর চাল, গম ও অর্থ এবং ভিজিডি চাল আত্মসাত করেছে। তার দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে সরকারের ১১ টি দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেয়া অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বক্তব্য শুনতে এসেছেন উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা কবিরউদ্দিন হাওলাদার। এছাড়াও সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্য নেয়। এ সময় নুরে আলম বেপারীর ক্যাডাররা তার সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। তখন অন্যান্য ইউপি সদস্য স্থানীয়রা এসে প্রতিবাদ করে। তখন পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অভিযোগের তদন্ত করা উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা কবিরউদ্দিন হাওলাদার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছেন। অভিযোগকারী ইউপি সদস্য ও অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কার্ডধারীদের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। এছাড়াও প্রয়োজনী কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন। যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা রহমান বলেন, এক কর্মকর্তাকে ইউপি সদস্যদের দেয়া অভিযোগ তদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়ম দুর্নীতির প্রমান পেলে কোন ছাড় দেয়া হবে না।
চেয়ারম্যান নুরে আলম সরকার থেকে বরাদ্দ ত্রানের টিন, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, গ্রামীন অবকাঠামোর চাল, গম ও অর্থ আত্মসাত করেছেন। দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি চাল আত্মসাত করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কারের ১০ লাখ টাকা কোন কাজ না করেই তুলে নিয়েছেন। কার্ডধারী ৫১২ জন জেলের জন্য ৪০ কেজি করে বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতিটি গভীর নলকুপের জন্য ৩৫ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন তিনি। ২০২১ সালে ১৩টি, ২০২২ সালে ১৪টি ও ২০২৩ সালে ১৩ টিসহ মোট ৪০টি টিউবওয়েল থেকে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাত করেন চেয়ারম্যান।
খাস জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল করে সেখানে চার তলা ভবন করেছেন। ওই ভবনে একটি গোপন কক্ষ রয়েছে। সেই কক্ষে ইউনিয়নের সাধারন জনগন ও ইউপি সদস্যদের ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাননাশের হুমকি দেন চেয়ারম্যান। গরীব মানুষের জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন অবৈধ ইটভাটা ও জাহাজ নির্মানের ডক ইয়ার্ড। যা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই। মানুষের ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে ইট তৈরি করে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে। জাল দলিল দিয়ে বিভিন্ন নামে বেনামে কৃষি ঋন উত্তোলন করে আসছেন চেয়ারম্যান।
টেম্পোচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করা চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী ঈগল পরিবহনের সুপারভাইজার ছিলেন। বিভিন্ন পরিবহনে ডাকাতি করেছে অভিযোগ করে মেম্বর মুসা আলী বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছর কারাদ- এবং ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৮৫ টাকা জরিমানা দিয়েছেন। ভিজিডি ও জেলেদের চাল পাচারের সময় ৫ হাজার ১৫২ বস্তা চাল উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলার আসামী চেয়ারম্যান নুরে আলম।
ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, আবেদনের ভিত্তিত্বে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে তদন্তে আসেন। এসময় চেয়ারম্যান ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে পরিষদে প্রবেশ করে আবেদনকারী ইউপি সদস্যদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করেন। এনিয়ে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মেম্বারদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে একদল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে দেখা গেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পর পরই ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম ও তার সহযোগিরা মোটরসাইকেলযোগে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। এ সময় সরকারের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শত শত ভূক্তভোগীরা চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিদের অবরুদ্ধ করে নানা শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিরা উপস্থিত জনতার ওপর চড়াও হলে বিক্ষুব্ধরা তাদের ধাওয়া করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় থানা পুলিশ বিক্ষুব্ধদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে চেয়ারম্যানকে রক্ষা করেন।
তবে ইউপি সদস্যদের আনীত সকল অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে অভিযুক্ত কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী বলেন, আমার প্রতিপক্ষের লোকজনে ইউপি সদস্যদের পুঁজি করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT