ঈদকে সামনে রেখে বিপাকে সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকে বিনিয়োগকারীরা ঈদকে সামনে রেখে বিপাকে সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকে বিনিয়োগকারীরা - ajkerparibartan.com
ঈদকে সামনে রেখে বিপাকে সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকে বিনিয়োগকারীরা

3:58 pm , April 7, 2024

অনেক পরিবারে ঈদের আনন্দ ম্লান হতে পারে

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ঈদের লম্বা ছুটিতে বিপাকে বরিশালে সঞ্চয়পত্র সহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা। এমনকি সরকারি ও বেসরকারী এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঈদের আগে-পরের দু দফায় ৮ দিনের ছুটির ফলে গচ্ছিত বিনিয়োগের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবারেই ঈদের আনন্দ ম্লান হতে চলেছে। ফলে বরিশাল অঞ্চলে সঞ্চয় অধিদপ্তরের কয়ক লাখ বিনিয়োগকারী যথেষ্ট বিপাকে পড়েছেন।
সঞ্চয় অধিদপ্তর কাগজে কলমে বিনিয়োগকারীদের অটোমেশন পদ্ধতির কথা বললেও সাপ্তাহিক ছুটি সহ যেকোন সরকারি ছুটির দিনে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসেবে মুনাফার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হচ্ছেনা। ফলে কোন ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র’, ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র’ ও ‘পেনশনার সঞ্চয় পত্রের বিনিয়োগকারী যদি মুনাফা পাওয়ার দিন  যদি শুক্রবার হয়  তাহলে ওই মুনাফার অর্থ পাওয়া যাচ্ছে সোমবারে। কারণ শুক্র ও শনিবার দুদিন সপ্তাহিক ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ব্যাংক বা সঞ্চয় ব্যুরো থেকে ওইসব বিনিয়োগকারীর তথ্য অনলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর পরবর্তী কর্মদিবসে তা বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসেবে জমা হওয়ার পরেই কেবল অর্থ তুলতে পারছেন।
এ কারণেই ৫-৭ মার্চের তিনদিন ছুটির পরে আগামী ৯ থেকে ১৪ মার্চের একটানা বন্ধের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের যে বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী মুনাফার অর্থ বা আসল টাকা পাওয়ার কথা, তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র  ও ‘৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয় পত্রের যেসব গ্রাহকের দীর্ঘ এ বন্ধের সময়ে মুনাফা পাওয়ার কথা তাদের অনেকের পরিবারেই ঈদের আনন্দ ম্লান হতে চলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিনিয়োগকারী জানান, ‘সরকার কোনদিন কারো কাছ থেকে একদিনের সুদ আদায়েও ন্যূনতম কোন ছাড় দেয়না। অথচ প্রতি সপ্তাহে দুদিন সরকারি ছুটি ছাড়াও বিভিন্ন পর্বের বিপুল সংখ্যক বন্ধের দিনগুলোতে গ্রাহকরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থে মুনাফা সময়মত পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে’। তাদের অভিযোগ ‘যদি সঞ্চয়পত্রের পুরো বিষয়টি কম্পিউটারাইজড হয়ে থাকে, তবে বন্ধ আর খোলা যেকোন অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুনাফার অর্থ বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসেবে জমা হওয়ার  কথা’। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবী করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
এ বিষয়ে সঞ্চয় অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালক বলেন, বিষয়টি অধিদপ্তরের পরবর্তী সমন্বয় সভায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে বিভিন্ন বানিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি বা যেকোন সরকারি বন্ধের দিনে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর মুনাফা গ্রাহকের হিসেবে জমা না হওয়ার অভিযোগ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
অপরদিকে এনজিওগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। টিএমএসএস সহ নামি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সদস্য ও বিনিয়োগকারীদের হিসেব এখনো সম্পূর্ণভাবেই কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। এমনকি টিএমএসএস সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এবার ৪ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১১দিন ছুটি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির মাসিক মুনাফা ভিত্তিক হিসেবে যেসব বিনিয়োগকারী ১১ দিনের এ ছুটির সময়ে মাসিক বা ত্রৈমাসিক মুনাফা পাবার কথা, তা তারা পাবেন ১১দিন পরে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT