যাওয়ার যায়গা নাই ॥ মরণ আতঙ্কে রাত কাটে হারুনের যাওয়ার যায়গা নাই ॥ মরণ আতঙ্কে রাত কাটে হারুনের - ajkerparibartan.com
যাওয়ার যায়গা নাই ॥ মরণ আতঙ্কে রাত কাটে হারুনের

4:03 pm , March 24, 2024

‘সবাই শুধু নিষেধ করে। আমি থাকমু কই, কি খামু? মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতন পাই। তা দিয়াতো বাজারই জোটেনা।’ -হাতেম আলী কলেজের বাবুর্চি হারুন

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে জেনেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস হারুন বাবুর্চির। বলেন, কই যামু। যাওয়ার যে কোনো জায়গা নাই। ভাড়া দেয়ার ক্ষমতাও নাই। প্রতিদিন রাতে ঘুমাবার আগে মরণের আতঙ্ক নিয়ে ঘুমাই। কারণ জেনেশুনেই এই পরিত্যক্ত ঘরে ঠাঁই নিয়েছি আমি। আল্লাহরে শুধু বলি, ‘আমার বউ-বাচ্চার কোনো দোষ নাই। তাগো তুমি রক্ষা কইরো মাবুদ। আগে যেন আমিই মরি’। কথাগুলো বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বরিশালের শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাসের হেড বাবুর্চি হারুন অর রশিদ। তার কান্না শুনে কি হয়েছে জানতে ছুটে আসেন স্ত্রী শাহিদা। এসে স্বামীকে শান্তনা দিতে নিজেও কান্না শুরু করে দেন। তাদের অসহায় অবস্থার কথা শুনে চোখে জল চলে আসে প্রতিবেদকেরও।
২০০৪ সালে মাস্টাররোলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি পান গৌরনদীর হারুন অর রশিদ। সেই থেকে সরকারি হাতেম আলী কলেজের শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাসে হেড বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। তবে নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা মোকদ্দমায় রায় হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত তাদের কয়েকজন বেতন-ভাতা পাননা বলে জানান তিনি। শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাস এর পুরাতন ও সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন হারুন। আশেপাশের মসজিদের ঈমাম, মুসল্লী ও হাতেম আলী কলেজের ছাত্ররাও তাকে এই ভবনে থাকতে নিষেধ করেছেন জানিয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, কেউতো আমারে একটু থাকার ব্যবস্থা দেয়না। সবাই শুধু নিষেধ করে। আমি থাকমু কই, কি খামু? মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতন পাই। তা দিয়াতো বাজারই জোটেনা।
২০১০ সালে শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাসসহ নগরীর প্রায় অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত দফতর। তারপরও নানা জটিলতার কারণে তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানেও এই পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসটির সবগুলো ভবনে কিছু না কিছু উপকরণ রেখে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। শুধু পিছনদিক থেকে ব্যবহার উপযোগী সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় ওঠানামা করা যায়। দোতালায় মোট চারটি কক্ষে দুটি পরিবার বাবুর্চি হারুনের স্ত্রী-বাচ্চাসহ চারজন এবং তার সহকর্মী মাহিনূর ও সুন্দর আলী সন্তানসহ তিনজন বসবাস করছে। ঝড়-বাতাস হলে এখানে ভবনের দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। সেখানে এই ভবনের ভিতর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতে বাধ্য হারুন ও সুন্দর আলী। তাদের গ্রামে জমি আছে। কিন্তু বসবাস উপযোগী কোনো ঘর নেই দুজনের কারোই। তাই সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘর এদের ন্যায্য অধিকার বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি টিআইবির সাবেক সভাপতি শাহ সাজেদা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT