ঝালকাঠির পাউবোর কেটে নেয়া মেহগনি গাছ উদ্ধার ঝালকাঠির পাউবোর কেটে নেয়া মেহগনি গাছ উদ্ধার - ajkerparibartan.com
ঝালকাঠির পাউবোর কেটে নেয়া মেহগনি গাছ উদ্ধার

4:24 pm , March 19, 2024

ঝালকাঠী প্রতিবেদক ॥ ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তারই নির্দেশে বিশালাকার ২টি মেহগনী গাছ কেটে বরিশালে নিয়ে যাবার সময় পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বিকেলে। পুলিশ গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের পেট্রোলপাম্প মোড় থেকে ট্রলিসহ গাছ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি চাপা দিতে হাস্যকর এবং অযৌক্তিক যুক্তি দেখিয়ে গাছ কাটার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা জানান।
ট্রলি চালক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, গতকাল শেষ বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্য থেকে বিশাল আকৃতির দুটি মেহগনী গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে এ গাছ নিয়ে চালক বরিশালের একটি স্ব-মিলে যাচ্ছিল। ঘটনাক্রমে সংবাদকর্মীরা ট্রলি থামিয়ে জানতে চাইলে চালক নির্বাহী প্রকৌশলীর কথা জানালে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাছ ট্রলিসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস সহকারি মো. ফেরদৌস জানান, নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে গাছ কেটে স্ব-মিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে বরিশালে নয়। কারণ আমাদের অফিসের দালান থেকে বর্ষার সময় পানি পড়ে। তাই এ গাছ কেটে অফিস ভবনের ছাদে টিনের বেড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতবড় গাছ কেটে কেন টিনের বেড়া দেয়া হবে এবং বরিশালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে অফিস সহকারি ফেরদৌস বলেন, স্যারের স্ত্রী বরিশালের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ায় স্যার বরিশালে থাকেন। কিন্তু তিনি বরিশালের স্ব-মিলে নিতে বলেননি। সংবাদকর্মী এসএম রাজ্জাক হোসেন পিন্টু বলেন, আমরা যখন গাছ সহ ট্রলিটি বরিশাল যাবার পথে পেট্রোল পাম্প মোড়ে থামাই তখন পিছনে নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়ি ছিল। তিনি দূর থেকে গাছের ট্রলি থামানোর বিষয়টি দেখে পাশ কেটে জোরে গাড়ি টেনে বরিশালের দিকে চলে যান।
কথা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশার সাথে। তিনি প্রথমে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। বরিশালে কে বা কারা গাছ নিয়ে যাচ্ছিল তা আমার জানা নেই। তবে এই গাছ কাটার নির্দেশ আমি দিয়েছিলাম বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে। কি জন্য গাছ কাটা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার অফিস ভবনের অবস্থা নাজুক। বর্ষার সময় পানি পড়ায় ভবনের উপরে টিন দিয়ে কাঠের বেড়া নির্মান করতে গাছ কাটতে বলেছি। টিনের বেড়ায় এতো মূল্যবান গাছ কাটার যৌক্তিকতা কতখানি জানতে চাইলে তিনি বলেন কাল অফিসে আসেন। সামনা সামনি কথা হবে।
এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সদর থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝালকাঠি পেট্রোলপাম্প মোড় থেকে একটি ট্রলি গাছসহ আটক করেছি। এ সময় ট্রলিচালক জানিয়েছেন বরিশালের একটি স্ব-মিলে নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে এ গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। তাই কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে গাছ কাটার বৈধতা না পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।  গাছ কাটা প্রসঙ্গে ঝালকাঠি বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, কোন ডিপার্টমেন্টের কোন গাছ কাটার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। তবে দুপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে মিটিং এ বসে বলেছে ২টি গাছ অপসারণ করা দরকার। তাকে বলেছি ‘আপনি চিঠি দেন। আমি দেখব’। তিনি কি গাছ কোথা থেকে কাটছে তা আমার আদৌ বোধগম্য নয়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT