ভোলায় নদীর পাড় কাটার চলছে মহোৎসব ভোলায় নদীর পাড় কাটার চলছে মহোৎসব - ajkerparibartan.com
ভোলায় নদীর পাড় কাটার চলছে মহোৎসব

3:26 pm , March 11, 2024

মো: আফজাল হোসেন, ভোলা ॥ ভোলার মেঘনা নদীর পাড় সংরক্ষন ও বাঁধ নির্মানসহ ভাঙ্গন রোধে হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান অবস্থায়ই পাড় এবং বন বিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ার মহা উৎসব চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড,পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ দেখছি, ব্যবস্থা নেব আর চিঠি দিচ্ছি বলেই দায় সারছে। দ্বীপ জেলা ভোলা মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী বেষ্টিত। ফলে এখানে ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশী বিশেষ করে  তজুমদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায়। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে তজুমদ্দিন,লালমোহন এবং চরফ্যাশন এর বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন রোধের জন্য তীর সংরক্ষন,বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মানে  মির্জাকালু রেগুলেটর হতে চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩.১১০ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মান এবং ১৮.৫০০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষন কাজ চলমান রয়েছে। ৫২ কিলোমিটার কাজের জন্য একনেকে পাস হয়েছে পৃথকভাবে ১১শ কোটি টাকা কাজ যা চলমান রয়েছে। ৭টি স্লুইজগেট রয়েছে এই প্রকল্পের মধ্যে। সবকিছু মিলে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাচরা ইউনিয়নের কাটাখালী স্লুইজ সংলগ্ন দক্ষিণ চাচরায় ৫০৫ নামক ইটভাটাটি। একেবারে নদীর পাড়ে অবস্থিত অবৈধ ইটভাটার মালিকরা ভেকু দিয়ে ইট তৈরির জন্য নদীর পাড় কাটছে প্রকাশ্যেই। মাটি কাটতে গিয়ে একবার বাঁধ কেটে পর্যন্ত মাটি নিয়ে যায়। নদীর ভাঙন রোধের জন্য নদীর পাশেই জিও ব্যাগ দেয়া রয়েছে অথচ সেখান থেকেই মাটি কাটছে। অবৈধ চিমনীর ইটভাটায় ইট বানাচ্ছে এসব মাটি দিয়ে। ঐ ইটভাটায় গিয়ে জানাযায়,পানি উন্নয়ন বোর্ড এর লোকজন আসে আবার চলে যায়। তারা কিছুই বলে না।
চাচরা ইউপি চেয়ারম্যান মো: আবু তাহের বলেন, মাটি না কাটলে মাটি পাব কোথায়। প্রয়োজন হলে নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তুলে ভরাট করে দিব।
একই অবস্থা লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ফাতেমাবাদ রওনক ইটভাটার। একইভাবে এরাও নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিচ্ছে। এরা মূলত কারো কথা শুনছেনা। সবই যেন ফ্রি স্টাইলে চলছে।  দীর্ঘদিন ধরেই এসব হলেও হাজার কোটি টাকার কাজ যাদের মাধ্যমে হচ্ছে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের ধারনা।
সবচেয়ে বেশি চরফ্যাশন উপজেলায়। এখানে অনেকগুলো ইটভাটা রয়েছে যারা নদীর পাড় কেটে ইটভাটায় ইট তৈরি করছে। ভয়াবহ অবস্থা চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন কাজী ইটভাটায়। এখানে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে ভাঙন রোধের জন্য। অথচ ফ্রি স্টাইলে নদীর পাড় এবং বনের জমি কেটে ইটভাটায় ইট তৈরি করছে। বার বার বেতিয়ার লঞ্চঘাটটি ভেঙ্গে গেলেও কারোই যেন টনক নড়ছে না।
চরফ্যাশনের যুবলীগ নেতা এবং পৌরসভার  ৬নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর মো: মনির হোসেন এই কাজী ব্রিক্স এর মালিক। ঐ ইটভাটায় গেলেই তার ভাগ্নে মো: রাকিব লেবার নিয়ে  তেড়ে আসে। প্রবেশ করার কারন জানতে চেয়ে প্রবেশ নিষেধ বলে জানিয়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করেন। বলেন,এখানে কারোই প্রবেশ করার অধিকার নেই।
চরফ্যাশনে ২৫টার বেশি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে যারা কাঠ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছে। আর বহু আছে যারা চিমনী ব্যবহার করে। তারা পারলে আমরা কেন পারবোনা বলে ইটভাটার মালিক মনির হোসেনকে ফোন দিলে তিনি প্রাইভেটকার নিয়ে দ্রুত ইটভাটায় চলে আসেন। তখন ফোনে ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক বাবুলকে বলেন,পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: তোতা মিয়া এসেছিলো, তাকেসহ সবাইকে হোটেল মারুফে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান।
কাউন্সিলর মো: মনির হোসেন বলেন,কিছু মনে করবেন না,আসলে বয়স কমতো বুঝতে পারেনি। তবে ভালো নেই, কাঠ না পুড়লে টিকতে পারছি না। সবাই কাঠ দিয়েই ইট পুড়ছে কি করবো বলেন।
এছাড়া তেতুলিয়া নদীর পাড়ে ঘোষেরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে বহু অবৈধ ইটভাটা রয়েছে যারা নদীর পাড় কেটে ইটভাটায় ইট তৈরি করছে। যদিও এসব বিষয় পানিউন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর পক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ স্বাক্ষরিত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে রওনক, কাজী ও ৫০৫ ইটভাটার মালিকদের। মাটি না কাটার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। যদি তারা না মানেন তা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।
এসব বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন,আমরা জানার পরেই তজুমদ্দিন,লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার ৩টি ইটভাটার মালিক পক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে। সেখানে প্রকল্পের সমস্যার কথা তুলে ধরে মাটি না কাটারা জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড.মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন,আমি ভালোভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছি। পুরো বিষয়টি আমার জানা নেই। বনের ক্ষতি করে থাকলে বা কোন অনিয়ম হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT