বরিশালের বেড়িবাঁধ এলাকায় ভোগান্তিতে বৈধ ব্যবসায়ীরা: বাড়ছে অবৈধ স্থাপনা ও মাদকের আড্ডা বরিশালের বেড়িবাঁধ এলাকায় ভোগান্তিতে বৈধ ব্যবসায়ীরা: বাড়ছে অবৈধ স্থাপনা ও মাদকের আড্ডা - ajkerparibartan.com
বরিশালের বেড়িবাঁধ এলাকায় ভোগান্তিতে বৈধ ব্যবসায়ীরা: বাড়ছে অবৈধ স্থাপনা ও মাদকের আড্ডা

3:33 pm , March 7, 2024

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বিভাগীয় শহর বরিশালের সৌন্দর্যের প্রধান আকর্ষণ কীর্তনখোলা নদী ও নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকা। প্রতিদিন বিকেলে এই বেড়িবাঁধকে ঘীরে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড় নদী পাড়ে। এই ভীড়কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বেড়িবাঁধ এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশকিছু বৈধ দোকানপাট ও ক্ষুদে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর পাশাপাশি তীরবর্তী এই এলাকার পুরোটাই এখন দখল করে নিয়েছে অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট, হাঁস-মুরগি, ছাগলসহ বিভিন্ন বাড়িঘর। প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় বেড়িবাঁধের উপর ও আশেপাশের পুরো এলাকা জুড়ে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলেও একাধিক অভিযোগ। বেড়িবাঁধ জুড়ে চরবাড়িয়ার ৩কিলোমিটার ও নগররক্ষা বাঁধের ৫ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে বৃহস্পতিবার সকালে। ওপারের চরকাউয়া বেড়িবাঁধ নিয়েও একই অভিযোগ করলেন চরকাউয়া খেয়াঘাটের কয়েকজন। এসব এলাকায় দুপুর থেকে রাত দশটা-বারোটা পর্যন্ত মাদকের আড্ডা চলে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে উঠতি বয়সের যুবক ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের উৎপাত এই বেড়িবাঁধ ঘীরে।
এদিকে বরিশাল নগরীর নগররক্ষা বাঁধের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নোটিশ দেয়ার পরও গত ছয়মাসে একটিও স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হয়নি। অথচ এজন্য ক্ষতিপূরণের টাকাও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবী করেছেন  বিআইডব্লিউটিএর বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক। এই নোটিশ দেয়ার অবসরে বরিশালে গড়িয়েছে অনেক নদীর জল। স্পীডবোট বা ডিসিঘাটের দখলদারিত্বেরও হাতবদল ঘটেছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রন চলে গেছে খান হাবিব এর হাতে। শুধু একই রকম আছে নদী তীরবর্তী পাইকারী কাঁচা বাজারের সামনের কাটা তারের বেড়াটি। মাঝরাতে জমে ওঠা বাজারের ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমেনি। এগুলো দেখার জন্য যথেষ্ট সময় থাকলেও অবৈধ স্থাপনা ও নদী তীরবর্তী এলাকার দূষণমুক্ত করার কোনো উদ্যোগই  নেয়নি কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের। তারা জানান, বাজারের সামনে কাঁটা তারের বেড়া দেয়ার কারণে এখন আর মাল বোঝাই নৌকা এখানে ভীড়তে পারেনা। ফলে মালামাল আনা-নেওয়া করতে কষ্ট ও খরচ দুটোই বেড়েছে বলে জানান কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম।
অন্যদিকে কীর্তনখোলা নদীর লঞ্চঘাট থেকে দক্ষিণে কেডিসি হয়ে ত্রিশ গোডাউন পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটারের বেশি এলাকার ওয়াকওয়ে দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও পশুদের থাকার ঘর। নদী তীরবর্তী ডিসিঘাট থেকে কেডিসি পর্যন্ত ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। এরপর ১১, ১২ নং ও ২৪ নং ওয়ার্ডভুক্ত চাঁদমারী খেয়াঘাট থেকে ত্রিশ গোডাউন হয়ে গ্যাসটারবাইন পর্যন্ত। এই সীমানা জুড়ে প্রায় ৮/১০ হাজার বস্তিঘর তৈরি হয়েছে এবং এগুলোকে ঘীরে মাদকের বেচাকেনা ক্রমশ বাড়ছে। ১০ নং ওয়ার্ড এর নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, সন্ধ্যার পর এই ওয়াকওয়ে ধরে হাঁটাচলা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। বাতাসে শুধু গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের গন্ধ পাবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যৌথভাবে রাজত্ব করছে  নৌ পুলিশ ও মেরিন এর কর্মকর্তারা। অভিযোগের আঙুল কোষ্টগার্ডের দিকেও।তাদের প্রশ্রয়েই এখানে অবৈধ ঘরবাড়ি, দোকানপাট গড়ে উঠেছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে, বিআইডব্লিউটিএর অভিযান বারবার ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
চরকাউয়ার ৬ কিলোমিটার, চরবাড়িয়ার ৩ কিলোমিটার এবং বরিশাল ডিসিঘাট থেকে নদীপাড় ধরে  দক্ষিণে শহররক্ষা বাঁধ ঘুরে দেখা গেল নিত্য নতুন বৈধ ও অবৈধ স্থাপনা তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে । নগরীর ডিসিঘাটের দক্ষিণে পুরাতন ভাঙা কাঠের সেতু পার হতেই বাঁধের উপর অনেকগুলো হাঁস-মুরগি ও ছাগলের খোয়ার চোখে পড়ে। এখানে পশ্চিমের দেয়াল ঘেঁষে অসংখ্য দোকানপাট ও ঘরবাড়ি। কথা বলে জানা গেল, ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ নিয়েও এখনো নিজেদের স্থাপনা গুটিয়ে নেননি তারা। বলছেন,  কেউতো কিছু বলেনি আর। সামনের দালানের লোকরা সরে গেলে আমরাও সরে যাবো । অথচ এসব স্থাপনা নষ্ট করছে নদী তীরবর্তী এলাকার সৌন্দর্য। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এসব। নগরীর সীমানা পেরিয়ে চরবাড়িয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় ৩ কিলোমিটার সদ্য তৈরি বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রতিদিন দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাদকের আড্ডা চলে বলে একাধিক অভিযোগ করেছেন তালতলী ফেরীঘাট ও বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দারা। চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহতাব হোসেন সুরুজও এদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এ নিয়ে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। এরা নেশাশক্ত হয়ে বাঁধের উপর খোঁড়াখুঁড়ি করে বাদ নষ্ট করছে।
একই অভিযোগ চরকাউয়া বেড়িবাঁধ নিয়ে। চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, বেড়িবাঁধ এলাকায় এক শ্রেণির লোক বসে শুনেছি, তবে দেখিনি। মাঝরাতে আড্ডা হয়না। এখানে বাস টার্মিনাল খুবই জরুরী, বাস শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কোনো বসার স্থান নেই বলে জানান চেয়ারম্যান ছবি। এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, চরবাড়িয়া এলাকায় মাদকের বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে। গেলো বছরের অক্টোবরে আমরা এক ইউপি সদস্যকেও মাদকসহ আটক করেছিলাম। অভিযোগ পেলেই আমরা অভিযান চালাই।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT