ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাংলাদেশে অনেক বড় সার্ভিস দিতে পারতো নাহিয়ান ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাংলাদেশে অনেক বড় সার্ভিস দিতে পারতো নাহিয়ান - ajkerparibartan.com
ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাংলাদেশে অনেক বড় সার্ভিস দিতে পারতো নাহিয়ান

4:33 pm , March 1, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যদি সিড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার না থাকতো, সিড়ি চওড়া হতো, লিফট বড় থাকতো। হয়তো নিচে যেতে পারতো। রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকান্ড ট্র্যাজেডিতে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নাহিয়ান আমিন হারিস ফুফাতো ভাই ডা. নাভিদ নুর এমন মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে নাহিয়ানের লাশ এসে পৌছায় বরিশাল নগরীর পলিটেকনিক কলেজ রোডের বাসায়। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নাহিয়ানের ফুফাতো ভাই বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটের সহকারী রেজিষ্টার ডা. নাভিদ নূর বলেন, ওকে হারানো মানে আমাদের একটা ফ্যামিলির লস না। একটা দেশের লস। বরিশাল জেলার লস। বরিশাল জিলা স্কুলের গত ১০ বছরের মধ্যে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সেরা ৮/১০ জনের মধ্যে ওর নামটাও চলে আসবে জানিয়ে ডা. নাভিদ বলেন, এ ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাংলাদেশে অনেক বড় সার্ভিস দিতে পারতো। বাংলাদেশের ইনফ্রাকটেকচার ডেভলপমেন্টে কাজ করতে পারতো। বাংলাদেশের গভর্নমেন্টও পেলো না। আমরাও পেলাম না। নাহিয়ান আমিন হারিস পরিবারের গর্ব ছিলো জানিয়ে ডা. নাভিদ জানান, ২০২০ সালে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে। ২০২২ সালে ঢাকা নটরডেম থেকে এইচএসসি পাশ করার পর বুয়েটে ভর্তি হয় নাহিয়ান আমিন হারিস। বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলো সে। রাত দেড়টার দিকে হারিসের মৃত্যুর খবর পান জানিয়ে ডা. নাভিদ বলেন, ওর শরীরে বার্ন নেই। আমি যেটা শুনেছি, তাতে ধারনা করছি কার্বন মনোঅক্সাইডের বিষক্রিয়ার কারনে সে মারা গেছে। ভালো একটা ফায়ার এক্সিট থাকলে ছেলেটা হয়তো বেঁচে যেতো। ডা. নাভিদ বলেন, বেইলি রোডে অনেক নামকরা রেষ্টুরেন্ট আছে। দেশবরেন্য লোকজন যায়। মানুষ সেখানে অনুষ্ঠান করে, অথচ ওখানে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বাসার বাইরে যদি আমরা নিরাপদ না হই। এটা তো কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত। কোন হোটেল অনুমোদন দেয়ার সময় দেখা উচিত তাদের ফায়ার এক্সিট আছে কিনা। সব কিছু ঠিকমতো আছে কিনা। এসব কঠোরভাবে দেখা জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বরিশাল নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলিটেকনিক রোডের বাসিন্দা বাক প্রতিবন্ধী বাবা রিয়াজুল আমিন বাবুর একমাত্র ছেলে নাহিয়ান আমিন হারিস। তার আরেক কন্যা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী। তার লাশবাহী গাড়ি প্রথমে বরিশাল জিলা স্কুলের পিছনে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের সামনে রাখা হয়। এ সময় জিলা স্কুলের শিক্ষক এবং সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা শেষবারের মত নাহিয়ানের মুখ দেখেন। এরপর লাশবাহী গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় নাহিয়ানের নগরীর বাসভবন পলিটেকনিক রোডে। বাসভবনের সামনে লাশবাহী গাড়ি রাখার পর নাহিয়ানের বাবা-মা বোন এবং স্বজনরাও শেষবারের মত তাদের সন্তানকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক মিজানুর রহমান কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তৃতীয় শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত তাকে পড়ানো এই শিক্ষক বলেন, আমার সন্তানের চেয়েও প্রিয় ছিল হারিস। বরিশাল জিলা স্কুল শিক্ষকসহ সকলের নাহিয়ানকে নিয়ে স্বপ্ন ছিলো। নাহিয়ান জিলা স্কুলকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করবে। পরিবার জানিয়েছেন আছর নামাজের পর বরিশাল সরকারী পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট জামে মসজিদের সামনে নাহিয়ান আমিন হারিসের জানাজা নামাজ শেষে নগরীর মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হয়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT