বাজারে এসেছে আগাম জাতের তরমুজ ফলন ভালো না হওয়ায় কৃষক ক্ষতিতে বাজারে এসেছে আগাম জাতের তরমুজ ফলন ভালো না হওয়ায় কৃষক ক্ষতিতে - ajkerparibartan.com
বাজারে এসেছে আগাম জাতের তরমুজ ফলন ভালো না হওয়ায় কৃষক ক্ষতিতে

3:45 pm , February 24, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের পাইকারী বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের তরমুজ। তবে ফলন ভালো না হওয়ায় দামও মিলছে না। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর কলাপট্টি এলাকার আড়তদার চরমোনাই এন্ড ব্রাদার্সের মো. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারী থেকে তার আড়তে তরমুজ উঠা শুরু করেছে। এসব তরমুজ আগাম জাতের। আগে রোপন করায় আগে উঠেছে।
তিনি জানান, তারা মুলত আড়তদারী নেন। কৃষকরা এনে তাদের আড়তে উঠায়। সেখান থেকে পাইকাররা কিনে নেয়। পরে খুচরা বিক্রেতাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। রফিকুল ইসলাম জানান, তার আড়তে উঠা তরমুজ ছোট সাইজের। তাই দাম একটু কম। পিস হিসেবে বিক্রি হয়। একশ তরমুজ ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। পাইকারী ক্রেতা মো. ফরহাদ বলেন, তিনি ৩ হাজার পিস তরমুজ কিনেছেন। ওই তরমুজ সাতক্ষীরা পাঠানোর জন্য ট্রাক ভর্তি করছেন। তার দাবি সাতক্ষীরা অঞ্চলে ছোট সাইজের তরমুজ বিক্রি হয়। তাই ছোট সাইজের তরমুজ কিনেছেন।
ভোলার চরফ্যাসন থেকে ওই তরমুজ নিয়ে আসা কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, আগাম জাতের এ তরমুজ অগ্রহায়ন ও কার্তিক মাসে রোপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বছর বেশি শীত ও বৃষ্টি হওয়ায় তরমুজের ফলন ভালো হয়নি। আগাম জাতের তরমুজ আবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
কৃষক মিজান বলেন, তিনি সাড়ে ২ একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এতে তার দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করছেন। তার ধারনা এ বছর এক লাখ ৮০ থেকে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হবে।
তবে গত বছর ভালো ব্যবসা করেছিলেন জানিয়ে কৃষক মিজান বলেন, গত বছর আগাম জাতের তরমুজ বিক্রি করে ৪ থেকে সাড়ে লাখ টাকা লাভ হয়েছিলো। কিন্তু এ বছর গতবারের চেয়ে তিন ভাগের একভাগ তরমুজ হয়েছে।
অপর কৃষক নুরে আলম বলেন, চার একর জমিতে এ বছর আগাম জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। এ জমি থেকে ৬০০ পিস তরমুজ পেয়েছেন। আরো কিছু তরমুজ রয়েছে। এবার খরচ বেশি হয়েছে। দুই লাখ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন।
চরফ্যাসনের নুরাবাদ এলাকার কৃষক মো. নাজিম বলেন, তিনি চার একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। এতে ২ হাজার পিস তরমুজ পেয়েছেন। এ তরমুজ পেতে তার ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তার তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক নাজিম বলেন, শীতের কারনে কিছু গাছ মারা গেছে। এ কারনে ক্ষতি বেশি হয়েছে।
মহানগর কলাপট্টি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি ও মের্সাস মনোয়ার বানিজ্যলয়ের মো. মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকদের তরমুজ আবাদের জন্য টাকা দিয়েছেন, বীজ দিয়েছেন। এবার শীত মৌসুমে পরপর তিনবার বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতে পানি জমেছে। এ কারনে ফল ঝড়ে গেছে।
আড়তদার মিজানের মতে আগে কীটনাশক, সার ও বীজে ভেজাল ছিলো না। কিন্তু কীটনাশক ও সারে ভেজাল থাকায় রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে প্রাকৃতিক দুযোগ। যার কারনে প্রকৃত ফলন পাওয়া যায়নি। প্রচুর জমিতে চাষ হয়েছে কিন্তু ফলন হয়নি।
এ বছর বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৬১ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪১ হাজার ৬৪২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। আবাদের অগ্রগতি ৬৭.৯৮ ভাগ।
বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পটুয়াখালী জেলায় ২৮ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোলা জেলায় ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৫ হেক্টরে আবাদ হয়েছে।
বরগুনা জেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৮০৮ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৬৪ হেক্টরে।
বিভাগের বরিশাল জেলায় তরমুজ আবাদ হয় না। ঝালকাঠি জেলায় ৫৫ ও পিরোজপুর জেলায় ১২০ হেক্টরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রোকনুজ্জামান বলেন, সাধারন আমন ধান কাটার পর তরমুজের আবাদ হয়। মার্চের মধ্যবর্তি সময় ফলন কাটার উপযুক্ত সময়। কিছু ক্ষেতে আমন ধানের আবাদ না করে তরমুজ করা হয়েছে। গত নভেম্বরে মিধিলির কারনে আবাদের সময় একটু পিছিয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুল ছিলো। হয়তো অন্য কোন কারনে ফলন ভালো হয়নি। এখন বাজারে যে তরমুজ এসেছে, তা অতটা পরিপক্ক হয়নি। তাই দাম পাচ্ছে না কৃষক।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT