মেধাবী শিক্ষার্থী সাব্বিরকে মেডিকেলে ভর্তির টাকা দিলেন ইউএনও মেধাবী শিক্ষার্থী সাব্বিরকে মেডিকেলে ভর্তির টাকা দিলেন ইউএনও - ajkerparibartan.com
মেধাবী শিক্ষার্থী সাব্বিরকে মেডিকেলে ভর্তির টাকা দিলেন ইউএনও

4:12 pm , February 20, 2024

পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশের পর
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ উজিরপুরের সেই ছাত্রকে মেডিকেলে ভর্তির ফি দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রের হাতে ভর্তির টাকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাকে নিয়ে দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকায় মঙ্গলবার সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর টাকা দেন ইউএনও। ইউএনও সাখাওয়াত হোসেন জানান, মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে অর্থের অভাবে দুচিন্তায় থাকা রমজান খান সাব্বিরকে ভর্তির ফি’র জন্য ২১ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। ভর্তির পর যাতে তার কোন সমস্যা না হয়, সেই জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষকে ফোন করা হয়েছে। তিনিও সব রকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ইউএনও আরো জানান, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষক তার বন্ধু। তারাও সাব্বিরের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনিও ব্যক্তিগতভাবে সব সময় সহায়তা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের দমোদরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ খানের ছেলে সাব্বির। তার বাবা একজন কৃষি শ্রমিক। এছাড়াও ভ্রাম্যমানভাবে গামছা বিক্রি করে চার সদস্যর সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন। তার মেধাবী ছেলে সাব্বির মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৬৭.৭৫ নম্বর পেয়ে মেধাক্রমে ৪৭৪১ হয়ে ভর্তির সুযোগ পায় সে।
যেখানে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে ছেলেকে ভর্তি নিয়ে দুচিন্তায় পড়ে পরিবারটি।
প্রতিবেশি বয়োবৃদ্ধ আনোয়ারা বেগম বলেন, দুই ভাই-বোন সারাক্ষন বই নিয়ে থাকে। তারা বাইরে তেমন কোন খেলাধুলা করে না। অভাব অনটনের মধ্যে কোন রকম খেয়ে পড়ে পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকতো। নিজে নিজে পড়াশুনা করে ডাক্তারী পড়তে সুযোগ পেয়েছে।
মেধাবী শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন, মেডিকেলে ভর্তির জন্য প্রাইভেট পড়ার মতো কোনো সুযোগ ছিল না। পরীক্ষার কোনো বইও কিনতে পারেননি।
“বোনের উপহার পাওয়া ডিজিটাল শুমারির ট্যাব দিয়ে অনলাইন ও ইউটিউব থেকে দেখে পড়াশুনা করেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি।”
ছোটবেলা থেকে মেধা ও পরিশ্রমকে সঙ্গে নিয়ে অভাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সাব্বির বলেন, “বাবা সব সময় বলছেন যত কষ্ট হোক স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করবেন। বাবার এ আশ্বাসে নবম শ্রেণিতে যখন বিজ্ঞান বিভাগ নেই, তখন থেকেই লক্ষ্য ঠিক করি চিকিৎসক হব।”
তিনি জানান, সেই লক্ষ্য পূরণে উজিরপুরের এইচএম ইনস্টিটিউট থেকে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরে ভর্তি হন সরকারি গৌরনদী কলেজে। সেখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও পেয়েছেন জিপিএ ৫।
সাব্বিরের বাবা ফিরোজ খান বলেন, “আল্লাহর রহমতে সাব্বির পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কীভাবে ছেলেকে ভর্তি করব আর পড়ালেখার খরচ বহন নিয়েও চিন্তায় আছি।”
ঋণ করে হলেও ছেলেকে ভর্তি করানোর কথা জানিয়েছিলেন তিনি।#

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT