মহাসড়কের ২৩ পয়েন্টে যানবাহন পারাপারে বিড়ম্বনা অব্যাহত মহাসড়কের ২৩ পয়েন্টে যানবাহন পারাপারে বিড়ম্বনা অব্যাহত - ajkerparibartan.com
মহাসড়কের ২৩ পয়েন্টে যানবাহন পারাপারে বিড়ম্বনা অব্যাহত

4:11 pm , February 3, 2024

বিশেষ প্রতিবেদক ॥  নদ-নদী নির্ভর বরিশাল সড়ক জোনের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে একাধিক সেতু নির্মানের ফলে ফেরি পারাপারে বিড়ম্বনা অনেকটা হ্রাস পেলেও ২৩টি স্থানে এখনো ফেরি সার্ভিসের ওপরই স্থানীয় ও  দূর পাল্লার সড়ক পরিবহন নির্ভরশীল। এর বাইরে খুলনা-বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী পারপারে  রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি  ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে উপকূলীয় ৩টি বিভাগ ও  সমুদ্র বন্দর সমূহের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
গত দুই দশকে এ অঞ্চলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সেতু নির্মানের ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ফেরি পারাপারের বিড়ম্বনা এ অঞ্চলের মানুষের পিছু ছাড়েনি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বরিশাল সড়ক অঞ্চলের ২৩টি পয়েন্টে যে ৫৫টি ফেরি মোতায়েন রয়েছে তারমধ্যে চলমান রয়েছে ৪৮টির মত। এখনো দুই যুগের বেশী পুরনো ‘ইউটিলিটি টাইপ-১’, ‘ইউটিলিটি টাইপ-১ ইমপ্রুভড’ ও ‘ইউটিলিটি টাইপ-২’ ফেরি দিয়ে এ অঞ্চলে যানবাহন পারাপার  অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। উপরন্তু এসব ফেরি সার্ভিস ইজারাদারের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় তাদের খেয়ালখুশির ওপরই এ অঞ্চলের সড়ক পরিবহন অনেকটা নির্ভরশীল। সাম্প্রতিককালে কয়েকটি নতুন ফেরি সহ পুরনো ফেরিতে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন হলেও আরো বেশ কিছু ফেরির পরিপূর্ণ পুনর্বাসন প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের পুরনো ও দুর্বল ইঞ্জিনের কারণে বর্ষা মৌসুমের প্রবল ¯্রােত অতিক্রম করে অনেক ফেরি খর¯্রােতা নদীসমূহ পাড়ি দিতে গিয়ে বিপত্তি ঘটায়। সদ্য বিলুপ্ত বেকুটিয়া ঘাটে মেরিন কোর্টের মামলায় একটি ফেরি গত প্রায় ৫ বছর ধরে চড়ায় তুলে রাখা হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞায় আটকে থাকা ফেরিটির অবকাঠামো সম্পূর্ণ বিনষ্টের পথে।
বরিশাল অঞ্চলের ২৩টি ফেরি পয়েন্টের ৪৬টি ঘাটে ৫৩টি পন্টুনের ৬টি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব পন্টুন ও সংযুক্ত গ্যাংওয়ে ১৫টন ভার বহনক্ষম নকশায় তৈরী হলেও ৩০ টনেরও অধিক পণ্য নিয়ে বড় মাপের ট্রাকগুলো গাংওয়ে ও পন্টুন অতিক্রম করে ফেরিতে উঠে পড়ছে। ফলে প্রায়শই নানা ধরনের বিপত্তি সৃষ্টি হচ্ছে। বিবেকহীন ট্রাক চালকদের এসব অপকর্মে অনেক সময়ই ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী সড়ক অধিদপ্তরের ফেরি সমূহ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষন করে ফেরি বিভাগ। কিন্তু তার পরিচালন সড়ক বিভাগের দায়িত্বে থাকলেও এসব ফেরির চালকদের তেমন কোন প্রশিক্ষন নেই। ইজারাদারের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকা মূল্যের এ রাষ্ট্রীয় সম্পদ পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ইজারাদারদের খামখেয়ালীর কাছে যেমনি দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মহাসড়কের ২৩টি পয়েন্টে যানবাহন পারাপার নির্ভরশীল তেমনি যথেচ্ছ পরিচালন ব্যবস্থার কারণে অনেক সময়ই ফেরিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাশাপাশি জোয়ার-ভাটার বড় ধরনের প্রভাবযুক্ত এ অঞ্চলের ফেরিঘাটগুলো বর্ষা মৌসুমে যে কোন ধরনের দুর্যোগ সহ অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপত্তি ঘটালেও তা থেকে উত্তরনে টেকসই ঘাট নির্মাণে কোন উদ্যোগ নেই। অথচ বর্ষা মৌসুমের অন্তত ৩টি মাস জোয়ারের সময় বেশ কিছু ফেরিঘাট জোয়ারের প্লাবনে বন্ধ হয়ে যায়।
অপরদিকে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে দুটি ফেরি বিভাগ বরিশাল সড়ক অঞ্চলের ফেরিগুলো  মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষন করলেও আজ পর্যন্ত ফেরি নির্ভর বরিশাল অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘœ রাখতে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্কশপ গড়ে ওঠেনি। ফলে এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক ফেরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনের বিষয়টি বাইরের ওয়ার্কশপ ও ঠিকাদারের যন্ত্রাংশ সরবরাহের ওপরই নির্ভরশীল থাকছে।
এসব বিষয় নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বরিশাল ফেরি সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করতে তার দাপ্তরিক সেল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। বরিশাল ও পটুয়াখালী ফেরি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করা হলে তারা উভয়ই বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে ফেরি সার্ভিস সম্পূর্ণ নির্বিঘœ রয়েছে বলে জানিয়ে আগামীতে আরো নতুন ইঞ্জিন ও ফেরি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানান। বর্তমানে বরিশালের আঞ্চলিক ও জেলা সংযোগ সড়কগুলোতে ফেরি সার্ভিস অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক ভাল বলেও দাবী করেন দুটি ফেরি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদ্বয়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT