একমাসে দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ১০ হাজার ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগী একমাসে দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ১০ হাজার ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগী - ajkerparibartan.com
একমাসে দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ১০ হাজার ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগী

3:58 pm , February 2, 2024

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বছরের প্রথম মাসে বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়া ও ৫ সহ¯্রাধিক নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলেও গত মাসে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হাসপাতালেই। এ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ভর্তিকৃত ৩৮ হাজারের বেশী ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ২১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত মাসে সরকারি হাসপাতালে ভর্তিকৃত নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে করোনা সংক্রমন ক্রমশ বাড়লেও বরিশালে টেষ্ট কীটের অভাবে কোভিড শনান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি এখনো। ২০২৩ সালে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতাল গুলোতে প্রায় ৭৭ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছে বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসেই নিউমোনিয়া আক্রান্ত প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে। শিশু ও বয়স্কদের যথা সম্ভব ঠান্ডা এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। গত বছর এ অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৭২ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কোন মৃত্যু ছিলনা। গত মাসে আরো প্রায় ৪ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য আসে।
সরকারি হাসপাতালের বাইরে আরো অন্তত ৩গুন রোগী এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে বেসরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতাল ছাড়াও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। চলতি শীত মৌসুমে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের  ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে যাবার সাথে ইতোমধ্যে দু দফার মাঘের অকাল বর্ষণে জনজীবনে নানা দুর্ভোগের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যেও বিরুপ প্রভাব পড়েছে। শীতের তীব্রতা সহ ঘন কুয়াশায় নিউমোনিয়া ছাড়াও ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিদিনই এ অঞ্চলে দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলা ও উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া রোগীর আগমন বাড়ছে। এর সাথে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
বরিশাল সহ এ অঞ্চলের সব সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিপুল সংখ্যক নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগ সহ ডায়রিয়া আক্রান্তদের নিয়ে বিরুপ পরিস্থিতির শিকার চিকৎসকরা। অনুমোদিত জনবলের অর্ধেকেরও কম চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মী নিয়ে ধুকতে থাকা এ অঞ্চলের সব সরকারি হাসপাতালগুলোতে সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যবস্থাও এখন বিপর্যস্ত। তবে সব সরকারি হাসপাতালেই পর্যাপ্ত ওষুধ সহ চিকিৎসা সামগ্রী মজুদের কথা জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। সব চিকিৎসকই তাদের ডিউটি আওয়ারের বাইরেও হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজার, ২০২২ সালে ৭৭ হাজার ও ২০২১ সালে করোনা মহামারীর সর্বোচ্চ সংক্রমনের মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছে। এদিকে করোনার নতুন প্রজাতি উদ্বেগ তৈরী করলেও টেষ্ট কীটের অভাবে এ অঞ্চলের কোথাও কোভিড পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও ভোলা জেনারেল হাসপাতালে দুটি পূর্ণাঙ্গ ‘করোনা টেষ্ট ল্যাব’ সহ প্রতিটি উপজেলা সদরেও কোভিড-১৯’এর প্রাথমিক সুবিধা থাকলেও কীটের অভাবে কোথাও এখন আর তা শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। তবে খুব দ্রুত টেষ্টকীট সরবরাহ সহ জনবল নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জরুরী বার্তা পাঠাবার পরে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষনের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। কোথাও করোনা উপসর্গ নিয়ে বেশী রোগী দেখা দিলে তা অধিদপ্তরকে জানানোর পরে পরবতী পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলেছে অধিদপ্তর।
এ অঞ্চলে করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন এর ৩ ডোজ গ্রহণের হার এখনো ৬০ ভাগের নিচে। ৫ ভাগের বেশী মানুষ ৪র্থ ডোজ গ্রহণ না করলেও গত প্রায় ৬মাস ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT