ধর্মত্যাগী রুপা ঘোষের কষ্টগাঁথা ধর্মত্যাগী রুপা ঘোষের কষ্টগাঁথা - ajkerparibartan.com
ধর্মত্যাগী রুপা ঘোষের কষ্টগাঁথা

4:09 pm , February 1, 2024

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ পোড়া কপাল নিয়ে জন্ম। তাই দুই সন্তান নিয়ে পথে পথে ভিক্ষা করছেন মা সেলিনা বেগম। বড় মেয়েটির বয়স মাত্র ৭ বছর। একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে তাকে আর ছোট মেয়ের বয়স তিনবছর নয়মাস চলছে। এমনসময় মারা গেলেন স্বামী অন্তর হাওলাদার। ছোট অবুঝ দুই মেয়ে,  অন্ধ শ্বাশুড়ি এবং নবম শ্রেণি পড়ুয়া ননদ রেখে গেলেন সেলিনার জিম্মায়। স্বল্পশিক্ষিত সেলিনা এদের নিয়ে কীভাবে চলবেন? দ্বারে দ্বারে ঘুরে তাই ভিক্ষা চাচ্ছেন আর বলছেন, আমি নও মুসলিম, আমাকে সাহায্য করুন, একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিন। বৃহস্পতিবার আছরের নামাজ শেষে সেলিনা  এর সাথে দেখা বরিশালের জিলাস্কুল মসজিদের দরজায়। বাচ্চা নিয়ে জনে জনে সাহায্য চাইছেন তিনি।
কথা বলে জানা গেছে তার করুন কাহিনী। ভালোবেসে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ঢাকার বিক্রমপুরের ব্যবসায়ী সঞ্জয় ঘোষের মেয়ে রুপা ঘোষ ঘর বেঁধেছিলেন মুসলিম পরিবারের সন্তান ঝালকাঠির আবুল হোসেন হাওলাদারের ছেলে অন্তর হাওলাদারের সাথে।  অন্তরের বরিশাল সিটি করপোরেশন মার্কেটের পাশে চায়ের দোকান ছিল। আট বছরের সংসারে দুই মেয়ে, অন্ধ মা ও ছোট বোন রেখে পরপারে চলে যায় অন্তর হাওলাদার। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ফলে নিজ পরিবারে ফেরার আর কোনো পথ নেই সেলিনার। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদ বলতে শুধু ঝালকাঠি সিটি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘর ছাড়া আর কিছু নেই বলে জানান সেলিনা। বড় মেয়ের মাদ্রাসা ও  চারটি পেটের দুবেলা খাবার জোগাতে প্রতিদিন সইতে হচ্ছে অসংখ্য যন্ত্রণা। যা ভাষায় প্রকাশ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রুপা ঘোষ ওরফে সেলিনা। বলেন, আমি ভিক্ষা চাইনা, অসৎ জীবন চাইনা। ইসলাম ধর্মে এসেছি। ইসলামের আদর্শ মেনে জীবনযাপন করতে চাই, সন্তানদের মানুষ করতে চাই, আপনারা কেউ আমাকে একটা কাজের সুযোগ দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করবেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT