কঠোর নিয়মে নগর ভবন ॥ দপ্তরে থাকতে হবে ৯টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত কঠোর নিয়মে নগর ভবন ॥ দপ্তরে থাকতে হবে ৯টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত - ajkerparibartan.com
কঠোর নিয়মে নগর ভবন ॥ দপ্তরে থাকতে হবে ৯টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত

3:31 pm , January 31, 2024

জুবায়ের হোসেন ॥ সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত দায়িত্ব গ্রহনের পর দাপ্তরিক কঠোর নিয়মে ফিরছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। একটি দায়িত্বশীল দপ্তরের কার্যপদ্ধতি কেমন হওয়া উচিৎ তা এখন স্পস্ট হচ্ছে নগর ভবনের পরিচালন পদ্ধতিতে। যেই নগর ভবনে কর্মকর্তা তো দুরের কথা ছিল না সাধারন কর্মচারিদের আসা যাওয়ার সময়ক্ষন। সেই নগর ভবন এখন কড়া নিয়ম মেনে চলছে। পুরো নগরী সাজাতে হলে, তা নিয়মে আনতে হলে যে আগে নগর ভবনকে নিয়মের আওতায় আনতে হবে, তা মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খুব সহজেই বুঝেছেন। খুব অল্প দিনেই তাই পুরো নগর ভবনকে নিয়ে এসেছেন নিয়ম-শৃংখলার মধ্যে। আগের মত যেমন তেমন ভাবে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আসা যাওয়া ও দায়িত্ব পালনে সুযোগ থাকছে না বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে। এখন থেকে সঠিক সময়ে অফিসে আসা এবং কাজ শেষে ত্যাগ করতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। দায়িত্ব পালন করতে হবে পুরো কার্যদিবস জুড়ে। ব্যক্তিগত কাজ আর অফিস এক করে দায়িত্ব অবহেলার সুযোগ থাকছে না নগর ভবনে। নতুন নিয়মতান্ত্রিকতার ও শৃঙ্খলার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল মহল। এমন নিয়মে নগর ভবনে সেবা গ্রহীতাদের মধ্যেও আস্থা ফিরছে। তাদের ভাষায় এটি যোগ্য মেয়রের যোগ্য পদক্ষেপ, যা আগে কখনো দেখেনি বরিশালবাসীসহ সিটি কর্পোরেশন। এমন নিয়মতান্ত্রিকতায় থাকলে অবশ্যই গতি ফিরবে বিসিসির কাজের। এমনটাই আশাবাদী নগরীর সচেতন মহল। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সূত্রে জানা গেছে,  ৩১ জানুয়ারী থেকে নগর ভবনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিসে প্রবেশ করতে হবে সকাল ৯টা ১৫মিনিটের মধ্যে। প্রবেশ করে স্বাক্ষর করতে হবে হাজিরা খাতায়। সারাদিনে পূর্বের ন্যায় কাউকে কিছু না বলে ত্যাগ করা যাবে না কর্মস্থল। অতিরিক্ত প্রয়োজনে নগর ভবন থেকে বের হতে হলে কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিজ নিজ শাখা প্রধানের কাছ থেকে একটি লিখিত অনুমতি নিতে হবে টোকেন আকারে। বের হওয়ার পথে থাকা গার্ডদের কাছে এই টোকেন জমা দিয়ে বের হতে হবে এবং ফিরতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। এছাড়াও পোশাক পরিচ্ছদে আনতে হবে অফিশিয়াল লুক। এ নিয়মের বাইরে কেউ গেলে তাকে ভোগ করতে হবে শাস্তি। গতকাল বুধবার থেকেই এ নিয়মগুলো চর্চা শুরু হয়েছে নগর ভবনে বলে জানায় সূত্রটি। আগামী সপ্তাহ থেকে আরো কঠোর হবে। এছাড়াও নগর ভবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্তমান মেয়রের নির্দেশনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যাবতীয় প্রক্রিয়া গ্রহন করা হচ্ছে। অদুর ভবিষ্যতে এ সকল প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্ব প্রথম নগর ভবনকে করা হবে উন্নত, আনা হবে একটি প্রকৃত দাপ্তরিক রূপে। গতকাল এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসির এক কর্মচারীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানায়, দীর্ঘ বছর কোন শৃঙ্খলা ছিল না সিটি কর্পোরেশনে। পূর্বের মেয়র নিজেই অফিস করেন নি পুরো ৫ বছরের হাতে গোনা ১০দিন। কিন্তু বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৫ম মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত গত ১৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে পুরো চেহারা পাল্টে গেছে নগর ভবনের। তিনি নিজে যেমন সু-শৃঙ্খল মানুষ তেমনি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন নগর ভবনের কাজে কর্মে। সর্বশেষ অফিসের সময় অফিস করার যে কঠোর নিয়মটি তিনি চালু করেছেন তা অপরিহার্য ছিল বিশৃঙ্খল বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জন্য। প্রথম প্রথম সকলেরই মানতে কিছুটা কষ্ট হলেও কিছু দিনের মধ্যেই এই নিয়মের প্রভাবে পরিবর্তন হয়ে যাবে সিটি কর্পোরেশনের সকল কার্যক্রম। সাধারন বাসিন্দারা সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা পাবে কোন ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই।
নগর ভবনের সেবা নিতে আসা রায়হান নামের এক ব্যক্তি জানান, সিটি কর্পোরেশনের এই চেহারা আগে দেখেননি কখনো। পূর্বে এসে বিভিন্ন শাখায় কাজের জন্য ধর্না দিতে হয়েছে দিনের পর দিন। সকাল ৯টা দুরের কথা ১২টার সময় এসেও অনেক শাখায় লোক খুজে পেতেন না প্রয়োজনে। কর্মকর্তা তো দূরের কথা কর্মচারীরাও অফিসে আসা যাওয়া করতো নিজেদের ইচ্ছা মত। এমন ঘটনা একাধিক বার ঘটেছে যে অফিসে কাজের জন্য এসে দেখা গেছে প্রয়োজনের ব্যক্তিটি মধ্যাহৃ ভোজের জন্য গিয়েছে, কিন্তু আর ফেরেনি অফিসে। তবে এখন যে নিয়ম হয়েছে তা দরকার ছিল অনেক আগেই। এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ গ্রহন করায় মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়বাতকে সকল সেবা গ্রহিতা নগরবাসির পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে। নগরী যে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে নগর ভবনে শৃঙ্খলা ফিরে আসা তার প্রথম লক্ষন বলেছেন এই সেবা গ্রহিতা।
এ বিষয়ে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হেসেন বলেন বুধবার থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আরো কঠোর ভাবে বিষয়টি চর্চা করা হবে। তিনি বলেন আমরা চাই সিটি করপোরেশনে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে। কোন ভাবেই সেবার ফাঁকি দেওয়া যাবে না। তাই সকাল ৯ টায় সকল স্টাফকে অফিসে প্রবেশ করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে হবে। এরপরে হাজিরা খাতা শাখা প্রধানের মাধ্যমে সচিবের কাছে চলে আসবে। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের পর যদি কোন স্টাফ আসে তাহলে বিলম্ভেও ব্যাখ্যা সচিবের কাছে গিয়ে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অফিসে হাজির থাকা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগেরও নির্দেশনা রয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT