আগুনে পুড়ে ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের শিক্ষার্থীর মৃত্যু আগুনে পুড়ে ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের শিক্ষার্থীর মৃত্যু - ajkerparibartan.com
আগুনে পুড়ে ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের শিক্ষার্থীর মৃত্যু

3:41 pm , January 30, 2024

ছেলের সাথে সাথে আগুনে পুড়েছে সবজি বিক্রেতা বাবার স্বপ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া দোকানের সাথে সাথে পুড়ে গেছে সবজি বিক্রেতা বাবার স্বপ্নও। পড়াশুনার পাশাপাশি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করা কলেজ ছাত্র ছেলেরও মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোর রাতে নগরীর নথুল্লাবাদ জিয়া সড়কের বিপরীতে। মৃত সজীব জমাদ্দার (২০) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নাঙ্গলিয়া গ্রামের কালাম জমাদ্দারের ছেলে। সে বরিশাল নগরীর বেসরকারী  ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। অগ্নিকান্ডে মোট চারটি দোকান পুড়েছে বলে সদর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানিয়েছেন। সদর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানান, নথুল্লাবাদ জিয়া সড়কের বিপরীতে এক সারিতে দুইটি ফার্নিচারের, একটি মোটর সাইকেলের যন্ত্রাংশ বিক্রয়ের ও একটি গ্যারেজ রয়েছে। রাত তিনটার দিকে তারা খবর পেয়েছেন ওই ওই সকল দোকানে আগুন জ¦লছে। তারা সেখানে গিয়ে পৌনে এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। আগুন নিয়ন্ত্রনে তাদের পাঁচটি ইউনিট কাজ করেছে। অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত সম্পর্কে ষ্টেশন অফিসার রবিউল বলেন, সঠিক কারন তদন্ত না করে বলা যাবে না। তবে ধারনা করছি বিদ্যুতের শর্টসার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকান্ড হয়েছে। ফার্নিচারের দোকানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মারা যাওয়া কর্মচারী কিভাবে মারা গেল, সেটিও তদন্ত না করে বলা যাবে না। তবে ধারনা করা হচ্ছে অগ্নিকান্ডের সময় বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে সে পুড়ে গেছে। মারা যাওয়া সজিব একটি পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র। পড়াশুনার ফাঁকে হাবিব মটরস নামে দোকানে চাকুরি করতো। রাতে ওই দোকানেই থাকতো। ক্ষয়কতির পরিমান তদন্ত করে বলতে পারবো বলে জানিয়েছেন তিনি। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আল মাহমুদ বলেন, লাশ সম্পূর্ন পুড়ে গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। হাসপাতালের মর্গের সামনে সজীবের বাবা কালাম জমাদ্দার জানান, তিনি সবজি বিক্রি করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন। ছেলে পড়াশুনা করলেও তার খরচ নিজেই বহন করতো। মাঝে মধ্যে টাকা চাইতো। সাধ্য অনুযায়ী দিতেন। ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু আগুনে তার সব কিছু পুড়ে গেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারছিলেন না কালাম জমাদ্দার। সজীবের সহপার্টি সৌরভ মিস্ত্রি বলেন, মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করতে পারেনি। কিন্তু সে মেধাবী ছিলো। পড়াশুনা করে বড় হওয়ার তাগিদ ছিলো তার মধ্যে। পারিবারিক অভাব অনটনের কারনে সিএন্ডবি রোডের একটি দোকানে ৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। পাশাপাশি সে দোকানে থাকতেন। সজিবের মৃত্যুতে শোকের ছাড়া নেমেছে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। খবর পেয়ে হাসপাতালের মর্গে ছুড়ে আসেন বন্ধু ও শিক্ষকরা। ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নুরুল হুদা বলেন, ছেলেটি অত্যন্ত ভদ্র ও অমায়িক ছিলো। পড়াশুনায় মনযোগী ছিলো। অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে সে ছিলো আলাদা। তাকে হারাতে হয়েছে। ওই শিক্ষক আরো জানান, মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে সজীবকে দাফন করা হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT