শীত ও বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে শিশু শিক্ষার্থীরা শীত ও বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে শিশু শিক্ষার্থীরা - ajkerparibartan.com
শীত ও বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে শিশু শিক্ষার্থীরা

3:20 pm , January 18, 2024

সাইদ মেমন ॥ তীব্র শীতের সাথে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে শিশু শিক্ষার্থীরা। শীত ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেও শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে হচ্ছে। জানুয়ারী মাস জুড়েই শীত অব্যাহত থাকাসহ মেঘ ও বৃষ্টি কেটে গেলে মাঝারী শৈত্য প্রবাহের আশংকাও করেছেন বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক বশির আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, কুয়াশার সাথে বৃষ্টিপাত শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়েছে। বশির আহমেদ বলেন, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সকালে বরিশালের তাপমাত্রা সর্বনি¤œ ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিলো। এ তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বিরাজ করছে। বৃষ্টি ও মেঘ কেটে গেলে মাঝারী শৈত্য প্রবাহের আশংকা রয়েছে। পর্যবেক্ষক মো. মাসুদ রানা জানান, বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাসে শীত থাকে বেশি। এরমধ্যে জানুয়ারী শীতলতম মাস। সোমবার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত আরো দুই একদিন অব্যাহত থাকবে। এরপর থেকে আরো বেশি শীত পড়বে।
রুবেলের মতে, জানুয়ারী মাস জুড়ে শৈত্য প্রবাহ থাকবে।
শৈত্য প্রবাহের মধ্যেও প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিশু শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলেন, সিংহভাগ শিশু ঠান্ডায় আক্রান্ত। তাদের নাক দিয়ে সর্দি ঝড়ছে। সাথে কাশিও রয়েছে। সরকারি কোন নির্দেশনা নেই। আমাদের তো করার কিছুই নেই।
নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সিমু বেগম তার শিশু কন্যাকে নিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে বলেন, দুইদিন স্কুলে যাননি। স্কুলে না গেলে শিক্ষকরা মন্দ বলে। এছাড়াও পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়বে। তাই বাধ্য হয়ে কন্যা সাহিদাকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছেন। নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি বিনা পানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর আড়াইটায় গিয়ে দেখা গেছে কোন শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষকরা সবাই বসে আছেন। প্রধান শিক্ষক তানিয়া সুলতানা বলেন, সকাল ১০ টায় বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর অভিভাবকরা এসে তাদের সন্তানদের নিয়ে গেছেন। যে আবহাওয়া সন্তানদের নিয়ে গেলে তো আমাদের করার কিছু নেই। সরকারি সিদ্বান্ত না এলে তো আমাদের করার কিছু নেই।বরিশাল জিলাস্কুলের শিক্ষার্থী অনির্বাণ চন্দ্র বিশ্বাস জানায়, গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া খারাপ। বৃষ্টির জন্য আরো শীত অনুভূত হচ্ছে। এরমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা উচিত। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের কার্যনিবাহী কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম জাফর বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নোটিশ দিয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে স্কুল বন্ধ রাখতে। বৃহস্পতিবার বরিশালে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকায় বন্ধ দেয়া হয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আসেনি। তাই ক্লাস হয়নি। তবে নগরীর শহীদ আরজু ম?নি সরকারি মাধ?্যমিক বিদ?্যাল?য় বৃহস্পতিবার বন্ধ ছিলো। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এ কে এম কামরুল আলম চৌধুরী ব?লেন, শৈত?্যপ্রবা?হের কার?ণে বৃহস্প?তিবার স্কু?ল ছুটি ঘোষণা করা হ?য়ে?ছে। রোববার থে?কে যথা?রীতি স্ক?ু?লের কার্যক্রম চল?বে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, আমাদের যে নির্দেশনা রয়েছে এর বাইরে যাওয়ার তো কোন ক্ষমতা নেই। কিন্তু অভিভাবকদের তো সচেতন হতে হবে। তাদের সন্তান যদি ঠান্ডায় অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তারা আসবে না। আমাদের তরফ থেকে তো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। তারা যদি পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়ে। তাদের পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বর্তমান আবহাওয়ায় শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা উচিত বলে মনে করি। এ সময় শিশুদের উষ্ণ গরম জাতীয় খাবার ও পানি পান করানো উচিত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি ও ডি সহ জিংক খাওয়ানো উচিত। বৃষ্টির মধ্যে বাইরে খেলতে গিয়ে কাপড় ভিজিয়ে ফেলে। সেগুলো পরিবর্তন করা উচিত জানিয়ে বলেন, তা না হলে ঠা-া লেগে নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT