বানারীপাড়ায় যৌতুকের বলি গৃহবধূ বানারীপাড়ায় যৌতুকের বলি গৃহবধূ - ajkerparibartan.com
বানারীপাড়ায় যৌতুকের বলি গৃহবধূ

3:25 pm , January 15, 2024

সাইদুল ইসলাম, বানারীপাড়া প্রতিবেদক ॥ বানারীপাড়ায় ব্রাক্ষ্মনকাঠী গ্রামে যৌতুকের দাবীতে চম্পা (২২) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  হত্যাকান্ডের পর থেকে তার স্বামী সুমন বেপারী দুই বছরের মেয়ে তানহাকে নিয়ে পলাতক রয়েছে। ১৪ জানুয়ারী রবিবার রাত ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চম্পার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৫ জানুয়ারী সোমবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য তার মরদেহ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়না তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরে ওই দিন বাদ আসর তার নামাজে জানাজা শেষে উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে  দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহত চম্পার মা রেবা বেগম বানারীপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চম্পার স্বজনরা জানান, সম্প্রতি মেয়ে জামাতা সুমন বেপারী তাদের ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামে ৬ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন। ওই সম্পত্তি ক্রয় করতে গিয়ে সে ঋনগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তা পরিশোধের জন্য স্ত্রী চম্পাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। দরিদ্র হওয়ার পরেও মেয়ের সুখের কথা ভেবে চম্পার বাবা-মা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে জামাতাকে ১৫ হাজার টাকার ব্যবস্থা করে দেন। এতে জামাতা সুমন সন্তুষ্ট না হয়ে স্ত্রী চম্পা’র কাছে আরও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের সংসারে কলহ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সুমন টাকার দাবিতে গালাগালসহ স্ত্রীকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। স্বামীর অত্যাচারের ফলে ৮/৯দিন পূর্বে চম্পা ছোট শিশু কন্যাকে নিয়ে বানারীপাড়া পৌর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে পিতা কুটিয়াল আনোয়ার মল্লিকের বাসায় এসে ওঠেন। ঘটনার দিন ১৪ জানুয়ারী রবিবার সন্ধ্যায় সুমন শশুরের বাসা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে যেতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি  হয়। এসময় সুমন স্ত্রী চম্পাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করতে তেড়ে গেলে শশুর-শাশুড়ি তাকে শান্ত করেন। পরে সুমন তার বাড়ি ফিরে যান। পরে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে চম্পা তার দুই বছরের শিশু কন্যা তানহাকে নিয়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামে স্বামীর বাড়ি ফিরে যান। সেখানে যাওয়ার পরে তাদের মধ্যে আবার ঝগড়া হয় ও চম্পা মারধরের শিকার হন। ওই দিন রাত ১০টার দিকে  শাশুড়িসহ প্রতিবেশীরা চম্পাকে অচেতন অবস্থায় বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চম্পার পরিবারের দাবি, তাকে মারধর করে হত্যার পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে মৃতদেহ ঝুলিয়ে রেখে চম্পার শশুর-শাশুড়ী আত্মহত্যা বলে প্রচারনা চালিয়ে সুমন সহ নিজেদেরকে বাঁচাতে চাইছেন। অপরদিকে চম্পার শশুর তৈয়ব আলী বেপারী ও শাশুড়ি আলেয়া বেগমের দাবি ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে চম্পা আত্মহত্যা করেছে।  এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার ওসি মো: মাইনুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ময়না তদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT