নানকের চমক দেখার অপেক্ষায় দেশের মানুষ নানকের চমক দেখার অপেক্ষায় দেশের মানুষ - ajkerparibartan.com
নানকের চমক দেখার অপেক্ষায় দেশের মানুষ

3:51 pm , January 14, 2024

হেলাল উদ্দিন ॥ জাহাঙ্গীর কবির নানকের সেই কান্না আজও ভোলার কথা নয় রাজধানীর মোহাম্মদপুর-আদাবরের বাসিন্দারের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন হারিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। নানকের পাশাপাশি তার কর্মীরাও কেঁদেছিলেন সেদিন। কর্মীরা তার গাড়ি আটকে রেখে সে সময় অঝোরে কান্না করেন। নানকসহ তাদের এ কান্না সাধারণ মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। তবে নানক হাল ছাড়েননি। মন্ত্রি-এমপি হারিয়ে পরের পাঁচ বছর রাজপথে ছিলেন। দলের হয়ে গুরু দায়িত্ব পালন করে আবারও দলীয় প্রধানের আস্থাভাজনে পরিণত হন।  আর তাই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে একই পথে হাঁটতে হলো না। ফিরে পেলেন নৌকা প্রতীক। তাতে হাসি ফিরে পেলেন তার কর্মীরা। এবার শুধু সংসদ সদস্যই নির্বাচিত হননি নানক, জায়গা করে নিয়েছেন মন্ত্রিসভাতেও। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিছুদিন পর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর কবির নানক। সর্বশেষ কাউন্সিলে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে কজন হাতে গোনা নেতা শেকড় থেকে শিখরে উঠেছেন তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক অন্যতম। জাহাঙ্গীর কবির নানক শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন এবং অনুগত নেতা হিসেবে পরিচিত। নানক রাজনীতিতে দীর্ঘ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতন ভোগ করেছেন। পঁচাত্তর পরবর্তীতে যারা ত্যাগী রাজনীতিবিদ তার মধ্যে নানক অন্যতম। বিশ্বস্ততার ফলস্বরুপ তাকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করেছেন শেখ হাসিনা। দলের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীর কবির নানকের জন্ম ১৪ই জানুয়ারি ১৯৫৪ সালে। তার পৈতৃক বাড়ি বরিশাল নগরীর খিরোদ মুখার্জী লেন এলাকায়। তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পঁচাত্তরের পর যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি আওয়ামী লীগের হাল ধরতে দেশে আসেন তখন জাহাঙ্গীর কবির নানককে বিশ্বস্ত হিসেবে বেছে নেন। বরিশাল থেকে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় নানকের হাতে। জাহাঙ্গীর কবির নানক পরবর্তীতে যুবলীগের নেতৃত্বে ছিলেন দীর্ঘ বছর। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংকটে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রথমবারের মত এমপি হয়েছিলেন ঢাকা-১৩ থেকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। এরপর নতুন মন্ত্রিসভাতেও আছেন তিনি। গতকাল নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন তিনি। অফিসের প্রথম দিনই তিনি পাটের সোনালী সুদিন ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, দেশের ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া পাটের অতীত সোনালী দিন ও গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে। দেশে পাট শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখাই হবে তার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT