ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপন্ন ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপন্ন - ajkerparibartan.com
ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপন্ন

4:14 pm , January 3, 2024

রবি ফসলের ক্রমশ ঝুঁকি বাড়ছে

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বরিশালে গত তিনদিনে তাপমাত্রার পারদ ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে স্বাভাবিকের ১ ডিগ্রী ওপরে থাকলেও ঘন কুয়াশা আর উত্তর-পশ্চিমের হিমেল হাওয়ায় জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের কাছে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যের সাথে ঝুঁকি বাড়ছে বোরো বীজতলা,গম, গোল আলু  ও সবজির বাগানে। ফলে দু:শ্চিন্তা বাড়ছে কৃষকদের। গত তিনদিন ধরে মাঝরাত থেকে মেঘনা অববাহিকার বরিশাল অঞ্চল ঘন কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে যাচ্ছে। এর সাথে উত্তর-পশ্চিমের হিমেল হাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপন্ন। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। গত সোমবার বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১৫.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে মঙ্গলবারে ১৪ ডিগ্রীতে হ্রাস পাবার পরে বুধবারে তা ১৩.৪ ডিগ্রীতে স্থির হয়। আবহাওয়া বিভাগের হিসেবে জানুয়ারী মাসে বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১১.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে থাকার কথা। কিন্তু তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ১.৫ ডিগ্রী ওপরে থাকলেও ঘন কুয়াশার সাথে উত্তর-পশ্চিমের বায়ু প্রবাহ জনজীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। চিকিৎসকরা এসময়ে সকলকেই রোদের তাপ গায়ে লাগান সহ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের সকালে ও সূর্যাস্তের পরে ঘরের বাইরে যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলতে বলেছেন।
আবহাওয়া বিভাগ থেকে বৃহস্পতি ও শুক্রবার তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির কথা জানিয়ে অতি ঘন কুয়াশার কারণে দিনেও ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে জানান হয়। তবে শুক্রবারের পরবর্তি বর্ধিত ৫ দিনে রাতের তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পাবার কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে ঘন কুয়াশায় সড়ক ও নৌ যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে। ইতোমধ্যে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কে ঘন কুয়াশায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও আরো ১০ জন আহত হয়েছে। সম্প্রতি ভোলাÑঢাকা রুটের একটি যাত্রিবাহী নৌযান ঘন কুয়াশায় মেঘনায় নোঙরে থাকাবস্থায় অপর ১টি পণ্যবাহী নৌযান আছড়ে পড়লে এক যাত্রী নিহত ও আরো প্রায় ২৫ জন আহত হয়। এ সংঘর্ষে যাত্রিবাহী নৌযানটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘন কুয়াশায় নৌপথে সব নৌযান অতি সতর্কতার সাথে চালনা  করতে বলেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে অব্যাহত কুয়াশার কারণে ইতোমধ্যে বোরো বীজতলা ঝুঁকির মুখে পড়তে শুরু করেছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে  ১৭ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষে প্রায় ৭০ ভাগ বীজতলা তৈরী হয়েছে ।  কিন্তু অব্যাহত ঘন কুয়াশায় এসব বীজতলা কোল্ড ইনজুরীর কবলে পড়ার আশংকা ক্রমশ প্রবল হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ১২ হাজার হেক্টরে গোল আলুর আবাদ সম্পন্নের পথে। এসব জমিতে যে প্রায় ২ লাখ টন গোল আলু উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, ঘন কুয়াশায় সেখানেও ‘লেট ব্লাইট রোগ’ হানা দিতে পারে।  ইতোমধ্যে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের বিরুপ পরিস্থিতি কাটিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে যে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে, সেখানে নতুন সংকট তৈরী করছে ঘন কুয়াশার  প্রাকৃতিক দুর্যোগ। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৫ লাখ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু ঘন কুয়াশায় ফুল কপি ও বাধা কপি সহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন ব্যাহত হওয়া সহ গুনগত মান বিনষ্টের আশংকাও ক্রমশ প্রবল হচ্ছে। বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতি মাঠে থাকা গমের ‘ব্লাষ্ট’ নামে এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগের পরিস্থিতি তৈরী করার আশংকা বৃদ্ধি করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT