নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে বরিশাল অঞ্চলের মানুষ বড় কষ্টে আছেন নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে বরিশাল অঞ্চলের মানুষ বড় কষ্টে আছেন - ajkerparibartan.com
নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে বরিশাল অঞ্চলের মানুষ বড় কষ্টে আছেন

3:24 pm , January 1, 2024

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্য নিয়ে আরো একটি নতুন বছরের সূচনা হয়েছে। চাল-ডালের সাথে রান্নার গ্যাস, ভোজ্যতেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা আর মাছ-মাংস সহ কোন নিত্যপণ্য নিয়ে ভাল খবর নেই বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে। ডিম, গরুর গোশত এবং সব ধরনের মুরগীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে এসব খাবার মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অথচ আলু, পেয়াঁজ, ডিম, দুধ, মাছ ও গোশতে স্বয়ংসম্পূর্ণ  এ অঞ্চল। চাল সহ দানাদার খাদ্যেপণ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চল। দেশে উৎপাদিত মোট সয়াবিনের প্রায় ২৫ ভাগের উৎপাদন এ অঞ্চলে। খেশারী ও মুগ ডালের অর্ধেকেরও বেশী উৎপাদন বরিশাল কৃষি অঞ্চলে। কিন্তু এতসব অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কারসাজি কাছে। গত বছর ভরা রবি মৌসুমে মাঠ থেকে এ অঞ্চলের কৃষকরা মাত্র ৫ টাকা কেজি দরে গোল আলু বিক্রী করেছেন। দু-তিন হাত ঘুরে এখন তা ভোক্তাদের ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ টন গোল আলুর উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এবার অগ্রহায়নের অকাল বর্ষণে এ অঞ্চলে গোল আলু সহ সব রবি ফসলের আবাদ অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। গতবছর দেশে উৎপাদিত প্রায় ২.৫৫ লাখটন মুগ ডালের ২.৪৭ লাখ টনই পাওয়া গেছে বরিশাল অঞ্চলে। দেশে উৎপাদিত আড়াই লাখ টন খেশারী ডালের প্রায় ৮০ হাজার টনের যোগান দিয়েছে বরিশাল কৃষি অঞ্চল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে বিগত রবি মৌসুমে দেশে উৎপাদিত ৩৪ লাখ ১৭ হাজার টন পেঁয়াজের সাড়ে ১১ লাখ টনের উৎপাদন হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায়। ডিএই’র হিসেবে বিগত রবি মৌসুমে দেশে উৎপাদিত ২ কোটি ১৭ লাখ টন বোরো চালের প্রায় ১৭ লাখ টনের যোগান দিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলা। এছাড়াও আরো প্রায় ২২ লাখ টন আমন ও ৩ লাখ টন আউশ চালের যোগান দিয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। অথচ বরিশাল অঞ্চলের জনপ্রিয় ‘ব্রি-২৮’ বা ‘আঠাশ বালাম’ চালের কেজিও এখন ৫৫-৫৮ টাকা। মধ্যম মানের মিনিকেট চালের কেজি ৬৫ টাকা। দেশে কৃষি ব্যাবস্থায় অসামান্য অবদানের পরেও বরিশাল অঞ্চলের কৃষি যোদ্ধারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত। সোমবার বরিশালের বাজারে দেশী পেঁয়াজ বিক্রী হচ্ছিল ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে। গোল আলুর কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। মুসুর ডাল এখনো ১৩০ টাকা কেজি, মুগ ডাল ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি।  সয়াবিন সহ ভোজ্য তেলের বাজারেও কোন সুখবর নেই। ১৭৫-১৮৫ টাকা দরে প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রী হচ্ছে। গত ৩ মাসে রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় সাড়ে ৩শ টাকা বেড়ে এখন সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রী হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টাকায়। চিনির কেজিও ১৩৫-১৪০টাকা। ব্রয়লার মুরগীর কেজি গত একমাসে ২৫ টাকা বেড়ে এখন প্রায় ২শ টাকায় বিক্রী হচ্ছে। ইলিশের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়লেও মোট উৎপাদনের ৭০ ভাগেরও বেশী যোগানদার বরিশাল অঞ্চলে এখন ১ কেজি সাইজের একটি ইলিশ বিক্রী হচ্ছে ১৪শ থেকে দেড় হাজার টাকায়। প্রতিটি নিত্যপণ্যের অস্বভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বরিশাল অঞ্চলের সাধারন মানুষের সংসার পরিচালনকে অসম্ভব কষ্টসাধ্য করে তুলেছে ইতোমধ্যে। বাজার নিয়ে স্বস্তি নেই কারো মধ্যে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে গত এক বছরের মূল্যস্ফীতি  নভিশ^াস উঠছে সাধারন মানুষের মাঝে। সোমবার বরিশাল মহানগরীর বটতলা বাজার, নতুন বাজার, বড় বাজার, বাংলা বাজার, নবগ্রাম রোড-চৌমাথা ও সাগরদী বাজার ঘুরে ভোক্তাদের হাতাশার সাথে ক্ষোভও লক্ষ্য করা গেছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT