বরিশাল বিভাগে মহাজোটের মূল প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ বরিশাল বিভাগে মহাজোটের মূল প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ - ajkerparibartan.com
বরিশাল বিভাগে মহাজোটের মূল প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ

3:01 pm , December 22, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ আসন্ন ৭ জানুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে বিভাগীয় সদর, বরিশাল-৫ সহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি আসনে মহাজোটের প্রার্থীদের স্বতন্ত্র ও জোট শরিকদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ঝালকাঠী-১ আসনে সদ্য নৌকায় ওঠা শাহজাহান ওমর, পিরোজপুর-২, পিরোজপুর-৩, বরিশাল-৩ ও বরিশাল-৬ সহ কয়েকটি আসনে জোট শরিকদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতোমধ্যে নানামুখি অনিশ্চয়তারও জন্ম দিচ্ছে।
তবে এর বাইরে বরিশাল বিভাগের অন্য আসনগুলো স্বাভাবিক ভাবেই মহাজোটের প্রার্থীদের জন্য প্রায় নিশ্চিত হয়ে আছে। এমনকি বরিশাল-৫ আসনটিও বর্তমান এমপি ও মহাজোটের প্রার্থী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের জন্য নিশ্চিত হয়ে যাবে। যদি ২ জানুয়ারী সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে সর্বশেষ আইনী লড়াইয়ে সদ্য বিদায়ী সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর আবেদন না মঞ্জুর হয়। আসন্ন নির্বাচনেও বরিশাল সহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পদক সাদিক আবদুল্লাহ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জাহিদ ফারুককে নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে ইতোপূর্বে নির্বাচন কমিশন সাদিকের প্রার্থীতা বাতিলের পরে হাইকোর্টে তিনি তা ফিরে পেলেও আপীল বিভাগের চেম্বার জজ স্থগিত করেন। বৃহস্পতিবার একই আদলত সাদিকের আইনজীবীর লীভ টু আপীলের আবেদনের ওপর শুনানীর জন্য ২ জানুয়ারী তারিখ নির্ধারন করেছেন।
অপরদিকে বাবুগঞ্জ ও মুলাদী নিয়ে বরিশাল-৩ আসনে মহাজোটের এক সময়ের শরিক জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমানের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে। এ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক টিপু সুলতানও দলীয় প্রতিক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে টিপু সুলতান দলীয় সভাপতি রাশেদ খান মেননের নিজ বাড়ীর এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও ২০১৮ সালে তার অবস্থান ছিল ৪র্থ। সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টিপু বিজয়ী হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আতিকুর রহমান তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। ১৯৯১ ও ’৯৬ সালে বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর নিয়ে বরিশাল-২ আসনে এমপি নির্বাচিত হন রাশেদ খান মেনন। ২০০৮ থেকে এ নির্বাচনী এলাকা ভাগ হয়ে মেননের নিজ বাড়ী ও নির্বাচনী এলাকা থেকে উজিরপুর বাদ হয়ে মুলাদী যুক্ত হলেও তিনি আর এ আসনে নির্বাচন করেননি। এবার মহাজোট থেকে মেননকে ঢাকার পরিবর্তে উজিরপুর-বানরীপাড়া নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসনে পাঠানো হয়েছে নৌকা প্রতিক নিয়ে । এ আসনের সাবেক দু এমপি’কেই বসিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
অপরদিকে পটুয়াখালী-১ আসনে দলীয় প্রার্থী আফজাল হোসেনকে বসিয়ে দিয়ে জাতীয় পার্টির রুহুল আমীন হাওলাদারকে আওয়ামী লীগ ছাড় দিলেও বরিশাল-৬ আসনে তার স্ত্রী রতœা আমীন’কে কোন সুবিধা দিতে রাজী হয়নি দলটি। এ আসনে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হাফিজ মল্লিক। এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক পরিচিত মুখ মনোনয়ন চাইলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এখনো নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করতে পারেন নি নতুন প্রার্থী। তবে এসব কিছুর পরেও রত্মা আমীন নিজের অবস্থান কতটা ধরে রাখতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় আছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে।
এদিকে ঝালকাঠী-১ আসনে শাহজাহান ওমরের পক্ষে এখনো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীগন মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেননি। ইতোপূর্বে ওমরের নিজ উপজেলা রাজাপুরের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিক সভা করে শাহজাহান ওমরের পরিবর্তে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামানের ঈগল মার্কার পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেও গত বুধবার রাতে বরিশালে আমীর হোসেন আমুর বাস ভবনে এক বৈঠকে তার নির্দেশে সে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শাহজাহান ওমর’ও ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র এখনো তেমন পরিবর্তন ঘটেনি। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান শেষ পর্যন্ত শাহজাহান ওমরের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
অপরদিকে পিরোজপুর-২ আসনে ৮ বারের এমপি জেপি’র আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জন্য দুঃশ্চিন্তা তৈরী করেছেন তারই এক সময়ের রাজনৈতিক শিষ্য ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন মহারাজ। মহারাজ দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জন্য সরে দাড়িয়েছেন। কিন্তু মঞ্জুর জন্য এবারের নির্বাচন অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তে পারে জেলা পরিষদের সাবেক নির্বাচিত চেয়ারম্যান মহারাজের কারণে।
মঠবাড়ীয়া উপজেলার পিরোজপুর-৩ আসনটিও আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় পার্টির জন্য ছেড়ে দিলেও এ আসনে দলটি অবস্থান পরিবর্তন করে ৭ বারের বর্তমান এমপি ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর পরিবর্তে মাশরেকুল আজমকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরাজীর সাথে তাকেও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অনেক নেতা-কর্মী জাপা প্রার্থীর জন্য কাজ করছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে পিরোজপুর-১ আসনেও সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আউয়াল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল হক-এমপি’র জন্য বিরূপ পরিস্থিতি তৈরী করছেন। ইতোমধ্যে এ আসনে সংঘর্ষে আউয়ালের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সাবেক এমপি আউয়াল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠিন পরিস্থিতি তৈরী করেছেন। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি আসনের অনেক এলাকার মত পিরোজপুর-১ আসনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রধান প্রতিপক্ষ ঐ দলেরই মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী। ফলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারীর প্রধান বিরোধী দলহীন এ নির্বাচন নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায়ই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতেও শুরু করেছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT