সন্ধ্যা নদীর ভাঙন থেকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু’ রক্ষায় প্রকল্প ব্যয় ৩২৩ কোটিতে উন্নীত হচ্ছে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন থেকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু’ রক্ষায় প্রকল্প ব্যয় ৩২৩ কোটিতে উন্নীত হচ্ছে - ajkerparibartan.com
সন্ধ্যা নদীর ভাঙন থেকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু’ রক্ষায় প্রকল্প ব্যয় ৩২৩ কোটিতে উন্নীত হচ্ছে

3:40 pm , December 20, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বরিশালÑফরিদপুরÑঢাকা জাতীয় মহাসড়কের দোয়ারিকাতে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুটি সন্ধ্যা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রকল্প ব্যয় ২৮৩ কোটি থেকে ৩২৩ কোটিতে উন্নীত হচ্ছে। ভাঙন রোধ প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে ৭০ ভাগেরও বেশী শেষ হয়েছে।  গত বছর ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও তা আগামী জুনেও শেষ হবে কিনা সে বিষয়টি ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপরই নির্ভিরশীল। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অর্থে ‘ডিপোজিট ওয়ার্ক’ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ।
তবে সেতু সহ সন্নিহিত এলাকা ভাঙন থেকে রক্ষায় ইতোপূর্বে প্রকল্প-প্রস্তাবনায় যে ৩.৭৬ কিলোমিটার নদী তীর রক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ না করলেও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রায় এক দশকের ফাইল চালাচালি ও নানা সমীক্ষার পরে ২০২০ সালের জানুয়ারীতে ‘সন্ধ্যা নদীর ভাঙন থেকে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু রক্ষা প্রকল্প’টি একনেক এর অনুমোদন লাভ করে।
দেশীয় পানি সম্পদ গবেষনা প্রতিষ্ঠান ‘আইডব্লিউএম’এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন কবলিত বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু ও এর সংযোগ সড়কের ভাঙন প্রতিরোধে নকশা প্রনয়ন করে। নকশা অনুযায়ী সুগন্ধ্যা নদীর বাম তীরে ২ কিলোমিটার ও ডান তীরে ১ হাজার ৭৬৫ মিটার এলাকায় ৮ লাখ ১৫ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে বিভিন্ন মাপের ১৫ লাখ সিসি ব্লক ফেলা হচ্ছে। ভাঙন কবলিত এলাকার উজানে সুগন্ধ্যা নদীর যে বিশাল বাঁক তৈরী হয়েছে, তা কেটে প্রবাহ কিছুটা সোজা করতে সোয়া ৬শ মিটার এলাকা থেকে সাড়ে ৩ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হয়েছে প্রকল্পটির আওতায়।
এ লক্ষ্যে ১১টি প্যাকেজে নির্মান প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে চুক্তির পরে ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সেতু সন্নিহিত এলাকার তীর রক্ষার দৈর্ঘ্য আরো বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে নদী গবেষনা প্রতিষ্ঠান সহ পানি উন্নয়ন  বোর্ড। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড  সংশ্লিষ্ট দুটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠকে সেতুটি রক্ষায় সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং বৃদ্ধির মাধ্যমে ভাঙন রোধে নদী তীর রক্ষার কাজের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এ লক্ষ্যে কোন সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি দায়িত্বশীল সূত্র। আগামী ফেব্রুয়ারীর মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হলে অবশিষ্ট ৩০ভাগ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল মহল।
ইতোপূর্বের চুক্তি অনুযায়ী গত বছর ডিসেম্বরে এ ভাঙন রোধ প্রকল্পটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবনা অনুমোদন হলে আগামী জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করা হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড আশা প্রকাশ করলেও বিষয়টি সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের ওপর নির্ভিরশীল বলে দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT