চমৎকার উন্নয়ন ভোলায় : গ্যাসের রাজ্যে ঘরে ঘরে পৌঁছেনি গ্যাস চমৎকার উন্নয়ন ভোলায় : গ্যাসের রাজ্যে ঘরে ঘরে পৌঁছেনি গ্যাস - ajkerparibartan.com
চমৎকার উন্নয়ন ভোলায় : গ্যাসের রাজ্যে ঘরে ঘরে পৌঁছেনি গ্যাস

3:36 pm , December 14, 2023

দেখা থেকে লেখা
আরিফ আহমেদ, ভোলা থেকে ॥ ভোলা শহরের ভেদুরিয়া ফেরীঘাটে পা রেখেই টের পাওয়া যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতার সবটুকু চাহিদা পূরণ হয়েছে এই ভোলা জেলায়। বিশেষ করে সড়কের উন্নয়ন খুবই চোখে পড়ার মতো। যদিও পৌর এলাকায় অটোরিকশার চাপ দেখে এই শহরকে অটোরিকশার শহরও বলা যায়। ভোলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের প্যারাডাইস লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে সদর রোডে যতদূর চোখ যায়, পুরোটাই অটোরিকশায় পরিপূর্ণ। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্যারাডাইস লাইব্রেরীর পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ বাবুল বলেন, এই যে সড়ক দেখছেন এটাই মূলত ভোলা শহর থেকে সোজা চলে গেছে ১০০ কিলোমিটার দূরের দক্ষিণ আইচা পর্যন্ত। পথেই পড়বে বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন। আমরা ভোলাবাসী শহরে পাইপলাইনে গ্যাসও পাচ্ছি। অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ছাড়া আমাদের আর কোনো উল্লেখযোগ্য বাহনও নেই। তাই শান্তিতে আছি বলতে পারেন।
এসময় পাশে দাঁড়ানো কবি মহিউদ্দিন মাহিন বলেন, তাই বলে ভাববেন না এই একটি সড়ক এখনো এ অঞ্চলে। বছর পাঁচেক আগে বাইপাস আর একটি সড়ক হয়েছে। এই পৌর এলাকার বাইরে দিয়ে ভেদুরিয়া থেকে সেটি এসে মিশেছে মহাসড়কে। মহাসড়ক ধরে ভোলা থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া আমাদের গন্তব্য। সাথী ও পথপ্রদর্শক সাংবাদিক আজাদ আলাউদ্দিন। তার দেখানো পথে মহাসড়ক রেখে বাইপাস সড়কে চলতে যেয়ে চোখে পড়ে গ্রামের ভিতর দিয়ে চলে গেছে চমৎকার পিচঢালা পথ। এই পথ বলে দেয় এ অঞ্চলের সড়কের ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎতো আছেই, সাথে ওয়াইফাইয়ে চলছে ইন্টারনেট সুবিধা। এখানের কাচিয়া ইউনিয়নের কুঞ্জের হাট বাজারে এসে প্রথম বাজার দর ও গ্যাস নিয়ে অভিযোগ ও ক্ষোভ শোনা গেল সাধারণ মানুষের মুখে। কাছেই শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র এই ইউনিয়নের মানুষের গর্বিত অহংকার। যেখানে দশবছর আগেও চাপকলে চাপ না দিলেও অটোমেটিক গ্যাস ও পানি বের হতে। মানুষ সেই গ্যাস চা দোকানে বা রান্নার কাজে ব্যবহার করতো। কিন্তু সরেজমিনে ১৪ ডিসেম্বর কাচিয়া ইউনিয়নের কাচিয়া গ্রামের শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র ঘুরে দেখা যায়, চাপকলটি আজো আছে, আছে চাপকল থেকে পাইপ দিয়ে চা দোকানে গ্যাস ব্যবহার করার চিহ্ন। তবে এখন আর শত চাপলেও গ্যাস আসেনা এই চাপকল বা আশেপাশের বাড়িতে। গ্যাসক্ষেত্রের ভিতরে প্রবেশ নিষেধ। বাইরে থেকে নিরাপত্তা রক্ষী জানালেন, এখানে এখন পাঁচটি কুপ থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে এবং তা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে সংযুক্ত। তবে ভোলা শহরে কিছুটা যাচ্ছে বলে জানান তারা।
এদিকে নতুন আবিস্কৃত গ্যাসক্ষেত্র ২ থেকে কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) হিসেবে সিলিন্ডারে ভরে  গ্যাস পৌঁছে দেওয়া সিদ্ধান্তের পর থেকে ক্ষুব্ধ এখানের প্রতিটি মানুষ। এখানের ব্যবসায়ী ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বলেন,  এই এলাকার গ্যাস দিয়ে ২২৫ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলছে। সামান্য কিছু গ্যাস এখান থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের ভোলা শহরেও পাইপলাইন সংযোগ হয়েছে। তবুও এই এলাকার বাসিন্দারা গ্যাস পায়নি। আমাদের জ্বালানী খাতে প্রতিমাসে কম হলেও ২/৩ হাজার টাকা খরচ যাচ্ছে। এই টাকা আমরা সরকারকে দেবো তবুও আমাদের গ্যাস আগে আমাদের দিন। অনেকটা না পাওয়ার কষ্ট নিয়েই কথাগুলো বললেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র এলাকার বাসিন্দারা। আশেপাশের দালাল বাজার, পদ্মমনসা গ্রামের বাসিন্দারাও একই দাবীতে বরিশালের বাসদ নেত্রী  ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর আন্দোলনকে সমর্থন করেন বলে জানান। বাসদ নেত্রী মনীষা গত ১৮ জুলাই থেকে ভোলার গ্যাস ভোলাবাসীসহ বরিশালে আগে দেয়ার দাবীতে আন্দোলন চালাচ্ছেন। তার এই আন্দোলনে ভোলা ও বরিশাল বিভাগের দলমত নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করেন বরিশালের সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরাও।সামাজিক আন্দোলনের নেতা কাজী মিজানুর রহমান,  সুজন সম্পাদক রফিকুল আলমসহ সবাই একবাক্যে এটিকে ন্যায্য আন্দোলন ও অধিকার রক্ষার দাবী বলে জানান।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT