দক্ষিণাঞ্চলে ৬৫ ভাগ ধানের বেশীর ভাগই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, নিরাশ কৃষি যোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলে ৬৫ ভাগ ধানের বেশীর ভাগই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, নিরাশ কৃষি যোদ্ধারা - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলে ৬৫ ভাগ ধানের বেশীর ভাগই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, নিরাশ কৃষি যোদ্ধারা

3:33 pm , December 11, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের ক্ষতিতে কৃষকের দু:শ্চিন্তার মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলের ১১ জেলায় ৮ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রায় ৮ লাখ ৮২ হাজার হেক্টরে আমন আবাদ হলেও পর পর ৩টি ঘূর্ণিঝড়ে উৎপাদন বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে লক্ষ্য অর্জন নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছে ডিএই।
অপরদিকে ঘূর্নিঝড় ‘মিগজাউম’ দুর্বল হয়ে মিলিয়ে যাবার পরে অগ্রহায়ণেই তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ নামতে শুরু করায় বোরো বীজতলা নিয়েও দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে বরিশালে তাপমাত্রা প্রায় ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস হ্রাস পেয়ে সোমবার ১৪ ডিগ্রীর কাছে ঘোরাফেরা করছিল। তবে তাপমাত্রার এ অবস্থার চেয়েও উত্তর-পশ্চিমের কনকনে হাওয়া জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। বেলা বাড়ার আগে কৃষি শ্রমিকরা ধান কাটতে আমনের পানি ভরা জমিতে নামতেও পারছেন না। সাথে শেষরাত থেকে মাঝারী কুয়াশা বোরো বীজতলার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। বরিশাল অঞ্চলের ১১ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৫ ভাগ জমিতে ইতোমধ্যে বোরো বীজতলা তৈরী হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, এ অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার  অতিরিক্ত আবাদ হলেও প্রায় ৫০ ভাগ ধানই মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় উৎপাদন লক্ষ্য অর্জনই কষ্টকর হবে। সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দেশে ৫৯.৯০ লাখ হেক্টরে আমন আবাদের মাধ্যমে ১ কোটি ৭২ লাখ টন চাল পাবার লক্ষ্য স্থির করে কৃষি মন্ত্রণালয়। কিন্তু আবাদ লক্ষ্য অতিক্রম করলেও একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন কোন পর্যায়ে পৌঁছবে সে হিসেব নিশ্চিত হবে বরিশাল অঞ্চলের পুরো আমন ঘরে তোলার পরে।
গত ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’এর মাঝারি বর্ষণে আমনের কোন ক্ষতি না হলেও আগাম সবজি আবাদ পিছিয়ে যায়। কিন্তু গত ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগের ঝড় নিয়ে বরিশাল উপকূলে আছড়ে পড়ায় আমনের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। ঐ ঝড়ের প্রভাবে মাত্র ১২ ঘন্টায় বরিশালে ২শ’ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। এর ২২ দিনের মাথায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আরেক ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ আমাদের দক্ষিণ উপকূল থেকে সাড়ে ১২শ’ কিলোমিটার দূরে উপকূলে আঘাত হানলে তার প্রভাবে টানা ৫ দিনের মেঘলা আবহাওয়ার সাথে অগ্রহায়ণের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত আমনের আগের ক্ষতিকে আরো তড়ান্বিত করেছে বলে মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদরা জানিয়েছেন।
সোমবার পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের ১১ জেলার মধ্যে ৫ জেলায় আবাদকৃত ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর আমনের প্রায় ৯৫ ভাগ ধান কর্তন হলেও অবশিষ্ট ৬ জেলায় যে ৭ লাখ ২ হাজার হেক্টরে আবাদ হয়েছে, সেখানে মাত্র ৩৫ ভাগ ধান কর্তন সম্ভব হয়েছে। মাঠে থাকা অবশিষ্ট ৬৫ ভাগ ধানের অন্তত ৮০ ভাগই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে এসব ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবার আশংকার কথা বলেছেন কৃষকরা।  এমনকি পর পর ৩টি ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বরিশাল অঞ্চলে আগাম শীতকালীন সবজির প্রায় পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবার সাথে সবজি সহ অন্যান্য রবি ফসলের আবাদ  পিছিয়ে গেছে। ফলে এবার বরিশাল অঞ্চলের কৃষকরা আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রবি ফসল আবাদের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও ক্রমশ ক্ষীন হয়ে আসছে।
এসব ব্যাপারে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, আমরা রবি মৌসুমে ১ লাখ ৭০ হাজার কৃষককে সার, বীজ সহ বিভিন্ন ধরনের প্রনোদনা দেবো। সেখানে আমনের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে সরেজমিনে ঘুরে মাঠ পর্যায়ের একাধিক কৃষিবিদ পর পর ৩টি ঘূর্ণিঝড় এবার বরিশাল অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে যথেষ্ঠ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন। এর পরেও চলতি রবি মৌসুমে বোরো এবং গমের আবাদ লক্ষ্য অর্জিত হলে ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষিবিদগন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT