অগ্রহায়নের অকাল বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের সর্বনাশ অগ্রহায়নের অকাল বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের সর্বনাশ - ajkerparibartan.com
অগ্রহায়নের অকাল বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের সর্বনাশ

3:31 pm , December 7, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ‘যদি বর্ষে আগুনে-রাজা নামে মাগনে’ খনার বচনের এ প্রবাদকে সত্যি করে দক্ষিনাঞ্চলের কৃষকের ভয়াবহ সর্বনাশ হতে চলেছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ পায়রা বন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ১২শ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলে গত সোমবার আঘাত হেনে দূর্বল হয়ে স্থল নি¤œচাপে পরিনত হয়েছে। কিন্তু তার প্রভাবে বুধবার রাত থেকে দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে হালকা বৃষ্টিপাত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে মাঝারী বর্ষণের রূপ নেয়ায় মাঠে থাকা ৮০ ভাগ পাকা ও আধা পাকা আমন ফসলের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার আশংকা তৈরী করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বরিশালে প্রায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এবার দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় ৮ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করায় প্রায় ২৩ লাখ টন চাল উৎপাদনের আশা ছিল কৃষি মন্ত্রনালয়ের। পাশাপাশি প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টরে যে ১৬ লাখ টন শীতকালীন সবজী উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তা বার বারই পিছিয়ে যাচ্ছে তিন দফার ঘূর্ণিঝড় সহ প্রাকৃতিক দূর্যোগে।
গত ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’এর মাঝারী বর্ষণে আমনের কোন ক্ষতি না হলেও আগাম সবজি আবাদ পিছিয়ে যায়। কিন্তু গত ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র বয়ে আনা হেমন্তের প্রবল বর্ষণের সাথে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগের ঝড়ে বরিশাল অঞ্চলের ২ লাখ হেক্টর জমির পাকা-আধাপাকা আমন ধান ছাড়াও আগাম শীতকালীন সবজী, গম, খেসারী ডাল ও পান সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পরিমান ছিল প্রায় ২শ কোটি টাকার মত। ঐ ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের বেশীরভাগই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অথচ সে সময় অর্ধেকেরও বেশীরভাগ জমির আমন থোর অবস্থায় এবং মাত্র ১০ ভাগ জমির ধান কর্তন হয়েছিল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালায় মাত্র ১২ ঘন্টায় বরিশালে প্রায় ২শ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বিপুল ফসলী জমি প্লাবিত হয়।
সে সময়ে নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার অনেক নিচে প্রবাহিত হওয়ায় দ্রুত পানি সরে যায়। কিন্তু মাত্র ২২ দিনের মাথায় আরেক ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম’ এর প্রভাবে বুধবার রাত থেকে হালকা বৃষ্টিপাত আমন সহ শীতকালীন সবজির মারত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, আমন এখনো দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ‘দানাদার খাদ্য ফসল’। পুরো অঞ্চলে আমনের এখন চুড়ান্ত পর্যায়। অন্তত ৬০ ভাগ ধান পাকা-আধাপাকা পর্যায়ে রয়েছে। তবে অগ্রহায়নের এ বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা সহ কৃষকদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখে সঠিক পরামর্শ দিতে মাঠ কর্মীদের নির্দেশের কথা জানান তিনি।
ভাটির এলাকা বিধায় দক্ষিণাঞ্চলে আমন আবাদের মত তার কর্তনও সারা দেশের থেকে সব সময় ১৫ দিন থেকে দেড় মাস পর্যন্ত পেছনে থাকে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলে এখনো প্রায় ৬৫ ভাগ আমন ধান মাঠে রয়েছে। গত বছর ২০ অক্টোবর বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’এর গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রবল বর্ষণে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সয়লাব হয়ে যাবার সাথে মাঠে থাকা আমন ধান মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে যায়। ফলে অন্তত ২০ ভাগ আমন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যা প্রায় ১৫ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলেল কৃষি অর্থনীতিতে যথেষ্ঠ বিরূপ প্রভাব ফেলে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT