উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততায় বরিশালের একের পর এক পুকুর, খাল, নদী দখল ও দূষনের কবলে পড়েছে উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততায় বরিশালের একের পর এক পুকুর, খাল, নদী দখল ও দূষনের কবলে পড়েছে - ajkerparibartan.com
উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততায় বরিশালের একের পর এক পুকুর, খাল, নদী দখল ও দূষনের কবলে পড়েছে

3:25 pm , December 7, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষায় জলাশয়-জলাভূমির গুরুত্ব’’ শীর্ষক আলোচনা সভা বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির “বেলা” আয়োজনে নগরীর পুলিশ লাইন্স রোডের সেলিব্রেশন পয়েন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক আঃ মোতালেব হাওলাদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওমর ফারুখ, পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, আনজুমান নেছা, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোঃ মকসুমুন হাকিম রেজা। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলা’র বরিশাল বিভাগের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন। এরপর ‘‘প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষায় জলাশয়-জলাভূমির গুরুত্ব শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন রানের নির্বাহী পরিচালক ও বেলা’র নেটওয়ার্ক সদস্য মোঃ রফিকুল আলম। তিনি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, পৃথিবীর সৃষ্টির পর হতে বিগত ৬৫.৫ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত ৫ বার ‘ম্যাস এক্সটিঙ্কস’ ঘটেছে যাকে ‘বিগ ফাইভ’ বলা হয়। যার কারনে ৭৫% প্রাণিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। যার মধ্যে ডায়নোসরের মতো বিশালাকায় প্রাণিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এগুলো মূলত: প্রকৃতিগত ভাবে ঘটেছে। মানব সৃষ্ট অনিয়মের কারনে গত ১০ হাজার বছরে বিশ্বের সকল প্রাণবৈচিত্র্যের যেটুকু ক্ষতি হয়নি তা গত ২০০ বছরে ১০০০ গুন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে’। উন্মুক্ত আলোচনায় বরিশালের সুধীজনরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততায় বরিশালের একের পর এক পুকুর, খাল, নদী দখল ও দূষনের কবলে পড়েছে। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ অঞ্চলের জলাশয়-জলাভূমি রক্ষা করা অতীব জরুরী। সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উচিত জলাশয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা। সেই সাথে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকেও যথাযথ কার্যকর করার তাগিদ দিয়েছেন। তাঁরা আরও বলেন, দেশে আইন আছে, বাস্তবায়ন নেই। যারা আইনের বাস্তবায়ন করবে তাদের নির্লিপ্ততার সুযোগে ভূমিদস্যুরা জলাশয় ও জলাভূমি দখলে নিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সার্বিক পরিবেশ। সৃষ্টি হচ্ছে বিপর্যয়। এখনই আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন না হলে আমাদের পরিবেশ সুরক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। আলোচকরা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সাধারনকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার আহ্বান জানাবে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অথচ উল্টোভাবে সাধারন জনতাকে এখন পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করতে হচ্ছে’। গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়ে বক্তব্য রাখেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিআবুল খায়ের সবুজ, কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার আনোয়ার জাহিদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই মাহবুব, হীরন কুমার দাস মিঠু, সহকারী অধ্যাপক টুনু রানী কর্মকার, মহিলা নেত্রী জেসমিন আক্তার, রাজনীতিবিদ সিকদার হারুন মাহমুদ, সাংবাদিক মিথুন সাহা, সৈয়দ মেহেদী হাসান, এটিএম খোরশেদ আলম, যোসেফ বিশ্বাস, বেবী জেসমিন, জাহানারা বেগম স্বপ্না প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অতিথিরা বলেন, ‘‘আমাদের জীবন প্রবাহের জন্যই জীববৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে। জলাশয়-জলাভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হলে ইকোসিস্টেম ব্যাহত হয়। বিশ্বময় শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহারের কারনে বিশ্বের তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যাওয়ার কারণে নানা রকম বিপর্যয় শুরু হয়েছে। এর সাথে আমরা কিভাবে টিকে থাকতে পারি সে বিষয়ে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। বায়ু, মাটি, পানি সহ দেশের পরিবেশ-প্রতিবেশ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে অর্থাৎ এই বিপর্যয়ের সমষ্টিগত ক্ষতি মোকাবেলা করা এখন আমাদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT