বরিশালে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান দিপাবলী উৎসব আজ: আগামীকাল শ্যামা পূজা বরিশালে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান দিপাবলী উৎসব আজ: আগামীকাল শ্যামা পূজা - ajkerparibartan.com
বরিশালে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান দিপাবলী উৎসব আজ: আগামীকাল শ্যামা পূজা

3:14 pm , November 10, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান দিপাবলী উৎসব আজ শনিবার। এদিন সমাধীর পাশে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করবেন স্বজনরা। পাশাপাশি প্রয়াত প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে তাঁর সমাধিস্থলে নিবেদন করা হবে প্রয়াতের পছন্দের নানা ধরনের খাবার।এছাড়া আগামীকাল রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত শ্যামা পূজা বা কালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।হিন্দু পূরাণ মতে- কালী দেবী দূর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে- শক্তির পূজা। জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।কালী পূজার দিন হিন্দু সম্প্রদায় সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন।দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহে বা মন্ডপে মৃন্মময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে বা গৃহে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী বা ধাতুপ্রতিমাতেও কালীপূজা করা হয়। মধ্যরাত্রে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়।লোকবিশ্বাস অনুযায়ী- কালী শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এই কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে শ্মশানে মহাধুমধামসহ শ্মশানকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে দিপাবলী উৎসবকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে প্রয়াতদের সমাধি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং রঙের কাজ করেছেন তাদের স্বজনরা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস কালি পুজার আগের দিন ভূত চতুর্দশী তিথিতে পূজা অর্চনা করলে প্রয়াত ব্যক্তির আত্মা শান্তি লাভ করে।তাই আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি প্রয়াত প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে তার সমাধিস্থলে নিবেদন করা হয় প্রয়াতের পছন্দের নানা ধরনের খাবার।সবকিছু করা হয় তিথি থাকা অবস্থায়।এছাড়া সমাধীর পাশে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন স্বজনরা।বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল মালাকার বলেন, ‘ভূত চতুর্দশীর পূণ্য তিথিতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও আয়োজন করা হয়েছে দিপালী উৎসবের। শ্মশানে চলছে ধোয়া মোছার শেষ মুহুর্তের কাজ। প্রিয়জনের সমাধি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর রং-তুলির কাজ গতকাল শুক্রবার শেষ হয়। গত দুদিন ধরে শ্মশানের ভেতরে এবং বাইরে আলোকসজ্জার কাজ করা হয়। তিথি শুরু হলেও প্রয়াতদের স্বজনদের ভিড় শুরু হবে দুপুরের পর থেকে। লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জী কুডু জানান, কথিত আছে এশিয়া মহাদেশ তথা পৃথিবীর বৃহত্তম আয়োজন এটি। ভারতে এটি দীপাবলি উৎসব নামে পরিচিত হলেও বরিশালে শশ্মান দীপাবলি উৎসব হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। নতুন পুরনো মিলিয়ে বরিশাল মহাশ্মশানে কাঁচা-পাকা মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার সমাধি রয়েছে।এছাড়াও প্রায় ৯শত সমাধি রয়েছে, যাদের স্বজনরা এ দেশে থাকেন না।সেসব সমাধিগুলোকে হলুদ রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।পাশাপাশি সমাধিগুলোতে কমিটির উদ্যোগে দিপালী উৎসবের দিন সন্ধ্যায় মোমবাতি, ধূপকাঠি ও প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে।মানিক মুখার্জী কুডু জানান, ৫ একর ৯৬ শতাংশ জমির উপর স্থাপিত মহাশ্মশানের পুরনো অংশের অধিকাংশ সমাধি ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনো সেখানে ব্রাহ্মণদের ২/৩টি এবং রূপসী বাংলার কবি জীবনান্দ দাসের বাবা সত্যানন্দা দাস ও পিতামহ (দাদা) সর্বানন্দা দাস, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ বিপ্লবী দেবেন ঘোষ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী মনোরমা মাসি মা, শিক্ষাবিদ কালি চন্দ্র ঘোষসহ খ্যাতনামা ব্যক্তিদের সমাধি রয়েছে।শশ্মান দিপাবলী উৎসব নির্বিঘœ এবং উৎসবমুখর করতে মহাশ্মশানের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা এবং নিয়োগ করা হয়েছে স্বেচ্চাসেবী।গত বৃহস্পতিবার শ্মশান দিপালী ও কালী পূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও শ্মশান কমিটি কর্তৃক গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্তে নগরীর পুজা উদযাপন কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দর সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।বিএমপি সদরদপ্তর সম্মেলন কক্ষে পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম বিপিএম-বার সভাপতিত্ব করেন।এ সময় সভাপতি বলেন, শ্মশান দিপালী ও কালী পূজা-২০২৩ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বরিশাল মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। এছাড়া মহাশ্মশান কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত সিসিটিভ ক্যামেরা স্থাপন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, স্বেচ্ছাসেবক মোতায়ন করা, মেলায় যে সকল দোকান বসবে তাদের আইডি কার্ড থাকা ও তাদের প্রত্যেকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT