3:48 pm , November 7, 2023
বেপরোয়া থ্রি-হুইলার চলছে মূল সড়কে ॥ বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
জুবায়ের হোসেন ॥ নানা জটিলতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীত করার কাজ থেমে গেলেও বরিশাল নগরীর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তের কাজের অগ্রগতি বেশ দৃশ্যমান। মহাসড়কের যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে (পিএমপি) রোড মেজর মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম নামের এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৪ ফুটের সড়কটিকে ৫৪ ফুটে প্রশস্ত করার প্রকল্প হাতে নেয়। নগরীর গড়িয়ারপাড় থেকে চৌমাথা এবং চৌমাথা থেকে দপদপিয়া সেতু পর্যন্ত দুই ভাগে এই কাজ চলছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমডি মাহফুজ খান লিমিটেড এ বছর ২ ও ১৪ মার্চ কার্যাদেশে স্বাক্ষর করে শুরু করে সড়ক প্রশস্ত করন কাজের। বর্তমানে সড়ক প্রশস্ত করে পিচ ঢালাই দিয়ে সিএন্ডবি রোডের মডেল মসজিদ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দৃশ্যমান হয়েছে বরিশাল নগরীর সবচেয়ে বড় সড়কটি। তবে সড়ক প্রশস্ত হওয়ার সাথে সাথে বেড়েছে হলুদ অটো সহ থ্রী হুইলারের বেপরোয়া চলাচল। ১৩ কিলোমিটারের এই সড়কের মাত্র ৪ টি পয়েন্ট ট্রাফিক বিভাগের নিয়মিত নজরদারি আওতায় থাকায় অন্যান্য স্থানগুলোতে যেমন ইচ্ছা তেমন চলাচলের অভিযোগ রয়েছে থ্রী হুইলার ধরনের যানগুলোর বিরুদ্ধে। এতে করে যানযট ও দুর্ঘটনার প্রবনতা কোনটিই কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া এত প্রশস্ত সড়কে চলাচল সহ পারাপারে অনভ্যস্থ পথচারিরাও থাকছে দুর্ঘটনার ঝুকিতে। মঙ্গলবার সড়কের এক পথচারির সাথে আলাপকালে জানান, যানযট নিরসনে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। তবে সড়ক প্রশস্ত হওয়ার সাথে সাথে দুর্ঘটনার ঝুকি কমার তুলনায় বেড়েছে। এর একমাত্র কারন প্রশস্ত এই সড়কে যান চলাচলে এখনও কোন নিয়ম তৈরি না করা। এছাড়াও কোন ধরনের যান সড়কের কোন অংশে চলাচল করবে তারও কোন সঠিক নিয়ম বা নজরদারি এখনও শুরু হয়নি। এই পথচারি বলেন, গড়িয়ারপাড় থেকে দপদপিয়া পর্যন্ত এই ১৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ন অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, এখনও সড়ক প্রশস্ত করনের কাজ শেষ হয়নি, তবে আশাবাদ এই কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই যান ও পায়ে হাটা পথচারিদের চলাচলের জন্য একটি কঠোর ও সুষ্ঠু চলাচলের নিয়ম নির্ধারন করা হবে।রাস্তার এই কাজের বিষয়ে চৌমাথা এলাকার সালাম মিয়া জানান, এবারের রাস্তার কাজ অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে। দ্রুততম সময়ে এই কাজ করার জন্য ঠিকাদার এম খান গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এ বিষয়ে আলাপকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের সূত্র জানায়, সড়ক প্রশস্তকরনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। শেষ হলে কোনো ধরনের থ্রী-হুইলার মহাসড়কের মুল অংশে প্রবেশ করে চলাচল করতে পারবে না। এছাড়াও তাদের যাত্রী নামাতে হবে ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত স্থানে। সড়কটি অনেক প্রশস্ত হওয়ায় পায়ে হাটা পথচারিদের রাস্তা পারাপারের জন্য থাকবে নির্ধরিত স্থান। আর এ সকল বিষয়ে কঠোর নজরদারি করবে ট্রাফিক বিভাগ। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আল আমীন এর সাথে আলাপে জানান, কাজের শুরুতে পল্লী বিদ্যুৎ সহ যাদের স্থাপনা সড়ক প্রশস্ত করনের কাজের জন্য সরানোর প্রয়োজনীয়তা ছিল তাদের কারনে মূল কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়। তবে বর্তমানে বেশ দ্রুততার সাথে কাজ এগোচ্ছে। সিএন্ডবি রোডের মডেল মসজিদ পর্যন্ত ইতিমধ্যে সড়ক প্রশস্ত করে পিচ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। দুই ভাগে কাজটি হচ্ছে। এক ভাগে গড়িয়ারপাড় থেকে চৌমাথা এবং অপর অংশে রয়েছে চৌমাথা থেকে দপদপিয়া সেতু পর্যন্ত। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরও জানান, সড়ক প্রশস্ত করার পর মুল সড়কে একটি ডিভাইডার দেয়া হবে। যানবাহনের চলাচলের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংকেত থাকবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৩ কিলোমিটার সড়কের যে যে স্থানে প্রশস্ত করনের কাজের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা স্ব স্ব দপ্তরে ভবিষ্যতে যোগাযোগ করে জনস্বার্থে অপসারন করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগমী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এই কাজ সমাপ্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
