3:42 pm , November 6, 2023
নগরীতে আশঙ্কাজনকভাবে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল নগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া এলাকার বাসীন্দা সানাউল্লাহ সুমন। মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে রবিবার ৫ নভেম্ববর ঢাকায় ছুটে যান তিনি। রাত আনুমানিক ১০টায় একটি বেসরকারী হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ে সুমনের একমাত্র মেয়ে। রাতেই এ্যাম্বুলেন্সযোগে মেয়ের লাশ নিয়ে বরিশালে আসেন সুমন ও তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু লাশ নিয়ে এসে দেখেন বাসায় থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ দামী সবকিছু কিছু নিয়ে গেছে চোরচক্র। একদিকে বাবা-মায়ের কোল খালি অন্য দিকে ঘরও খালি। সবকিছু হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ সানাউল্লাহসহ পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী সুমন জানান, তার একমাত্র মেয়েকে দুই বছর আগে বিয়ে দেন কুমিল্লায়। মেয়ে জামাতা বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। শ্বশুর বাড়ী থাকা অবস্থায় মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত ছুটে যান কুমিল্লা। বরিশালের বাসা ছিলো পুরো খালি। মেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে রবিবার ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মৃত্যুবরণ করে। মেয়ের লাশ নিয়ে রাতেই রওয়ানা দেন বরিশালের উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাসায় এসে দেখেন সামনের দরজার তালা ভাঙ্গা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন বাসায় থাকায় সবকিছু নিয়ে গেছে চোরচক্র। সুমনের দাবী চোরচক্র নগদ ২৮ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর গহনাসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় ঘরে থাকা দামী সব জামাকাপড়ও চুরি হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ঘরের সামনের দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে চোরচক্র। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে পেশাদার চোররা এ কাজ করেনি। যারা চুরি করতে এসেছিলো তারা অনেকটা স্বাস্থ্য সচেতনও বটে। কারণ ঘরে ঢুকে দামী সব ¯েœা, পাইডার ও লোশন ব্যবহার করে ফেলে রেখে গেছে চোরের দল। রবিবার দিবাগত রাতের যেকোন সময় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী সানাইল্লাহ সুমনের।
চুরির বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সুমন বলেন ‘একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। চুরি নিয়ে মাথা ঘামাবেন কখন। তাছাড়া পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন ফল হবেনা বলে মনে করেণ তিনি।
এই নগরীতে চোরের পাল্লায় যে কেবল সুমনই পড়েছেন তা কিন্তু নয়। সম্প্রতি নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক অবনতি ঘটেছে। প্রতিরাতে তো বটেই দিনের বেলায় বাসার গ্রীল কেটে চুরির ঘটনা ঘটছে অহরহ। রবিবার নগরের মুসলিম গোরস্থান রোড এলাকায় এক সাইকেল চোরকে হাতেনাতে আটক করে বেধে রাখে স্থানীয়রা। এসময় তাকে উত্তম মাধ্যমও দেওয়া হয়। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে গোরস্থান রোড এলাকাতেই বেশ কয়েকটি বাসায় চুরি সংগঠিত হয়েছে। ব্রাউনকম্পাউন্ড এলাকায় দিনেদুপুরে একটি বাসার গ্রীল কেটে ঘরের ভেতরে থাকা বেশ কিছু মালামাল নিয়ে গেছে চোরচক্র।
নগরবাসীর অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই মুহূর্তে ব্যস্ত রাজনীতির মাঠ সামাল দিতে। ফলে সাধারণ জনগণের জানমাল রক্ষায় তাদের তেমন কোন আগ্রহ নেই বললেই চলে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতর কারণে পুলিশ চুরি-ডাকাতির দিকে নজর রাখতে পারছে না এমন অভিযোগের সাথে অবশ্য একমত না বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, চুরি নিয়ে আমরা সব সময়ই কাজ করি। চুরি-ডাকাতি হয়েছে এমন রিপোর্ট এখন পর্যন্ত আমার কাছে নেই। প্রতিদিন কতগুলো অভিযোগ এলো, জিডি হলো সব তথ্যই কিন্তু আমাদের কাছে আসে। চুরি, ডাকাতি দস্যুতা এই তিনটি বিষয় নিয়ে আমরা সব সময়ই সতর্ক। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আমাদের এখানে কোন কিছু চুরি হলেও কিন্তু তা উদ্ধার হয়। প্রতিটা অফিসার থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সবাই সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
