বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে অচলাবস্থা, সুযোগ নিচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে অচলাবস্থা, সুযোগ নিচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা - ajkerparibartan.com
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে অচলাবস্থা, সুযোগ নিচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা

4:04 pm , October 30, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গত কয়েক মাস ধরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই সুযোগে যেমন একটি মহল বাড়তি সুবিধা গ্রহণ করেছে তেমনি সেবা গ্রহীতারা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর মাঝে সুযোগ নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। নগরীর এমন কোন গুরুত্বপূর্ন সড়ক নেই যেখানে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনেক সড়কের প্রায় অর্ধেক দখল করে রেখেছে তারা। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ অস্থায়ী হলেও অনেকে কয়েক মাস ধরে স্থায়ীভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দিনের বেলায় এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের আধিক্য কম পরিলক্ষিত হলেও পড়ন্ত বিকেলের পরই শুরু হয় কার্যক্রম। অভিযোগ রযেছে সিটি কর্পোরেশনের একটি গ্রুপ মাসোহারা নিয়ে এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের সড়কে ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুটপাতে দোকানপাট গড়ে ওঠায় সাধারণের  চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে দিনে দিনে ফুটপাথসহ সড়কে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই ধরনের প্রতিষ্ঠান বেশি গড়ে উঠছে সিটি কর্পোরেশনের আশপাশ এলাকাসমূহ ফজলুল হক এভিনিউ, চকবাজার এবং হেমায়েত উদ্দিন সড়কে। এমনকি অলি গলিতেও ফুটপাত দখল হয়ে গেছে। নগরীর ব্রাউন কম্পাউন রোডে মসজিদের পর থেকে রয়েল হাসপাতাল সিটি হাসপাতাল পর্যন্ত পুরো ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছে দিনের পর দিন। দেখার কেউ নেই। একাধিক সূত্র জানায়, ভ্রাম্যমাণ এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার নেপথ্যে সদ্য বিদায়ী মেয়রের কতিপয় অনুসারীর স্বার্থ নিহিত রয়েছে। বিশেষ করে ৯, ১০, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতারা বেশি সুবিধা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী জানান, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক যত ঝামেলা আছে তা আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তি মোকাবিলা করেন। বিনিময়ে তিনি প্রতিদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত হারে একটি অর্থ উত্তোলণ করে থাকেন। এছাড়া তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার বদৌলতেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে থাকেন। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, প্রতিদিন সংগ্রহীত অর্থ একটি ফান্ডে রাখেন সালাম। মাস শেষে তিনি সেই অর্থ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদেরসহ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাকে দিয়ে থাকেন। এই সালাম সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী। তাকে ইতিপূর্বে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিয়ে সাদিক আব্দুল্লাহ’র কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। যদিও তিনি এখন নিজেকে বরিশাল সদর আসনের এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এবং নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর কর্মী হিসেবে দাবি করছেন। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের একাধারে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনসংযোগ কর্মকর্তা ও পরিসংখ্যানবিদ কর্মকর্তা তিনটি পদ বাগিয়ে নেওয়া স্বপন কুমার দাসের নিজস্ব কিছু ফুটপাত দখলকারী রয়েছে। যারা নিয়মিত সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পর সর্বোচ্চ প্রভাবশালী এ স্বপনকে মাশোহারা দিয়ে ফুটপাত দখল করে রেখেছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT