3:54 pm , October 13, 2023
কাউন্সিলর জয়নালের ছেলে সহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ঘুরতে আসা মহানগর ট্রাফিকের পুলিশের সার্জেন্টের স্ত্রীর উপর কিশোর গ্যাং হামলা করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে হামলার পর কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ছেলেসহ কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ সদস্যর বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছে সার্জেন্টের স্ত্রী বলে জানিয়েছে ওসি আনোয়ার হোসেন।
আটক ইয়ামিন (১৬) নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কেডিসি আব্দুর রাজ্জাক কলোনীর বাসিন্দা আলমগীরের ছেলে। মহানগর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রহিম জানান, ট্রাফিক সার্জেন্ট টুটুলের স্ত্রী সিফাত জাহান মীম স্বজনদের নিয়ে সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ঘুরতে যায়। তাদের সাথে একটি পোষা বিড়ালও ছিলো। এ সময় সেখানে আসা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পোষা বিড়াল গাঁজা সেবন করাতে নিয়ে আসছেন বলে কটুক্তি করে। সার্জেন্ট টুটুলের স্ত্রী প্রতিবাদ করলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রথমে নাজেহাল ও পরে হামলা করে। খবর পেয়ে সার্জেন্ট টুটুল ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে একজনকে আটক করে কোতয়ালী মডেল থানায় সোপর্দ করেছে। হামলার শিকার সিফাত জাহান মীম জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বড়বোন, তাদের ছেলে মেয়ে এবং কয়েকজন বান্ধবীকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানের হেলিপ্যাড অবস্থান করছিলেন। এর কিছুক্ষন পরে ২০ থেকে ২৫টি কিশোর উদ্যানে হেলিপ্যাডে এসে অবস্থান নিয়ে একটি কেক কাটে। কেক কাটা শেষে তারা গাঁজা সেবন করছিলো। এর কিছুক্ষন পরে একটি ছেলে তাদের কাছে গিয়ে বিড়ালকে গাঁজা সেবন করাতে উদ্যত হয়। কিশোরদের আচরন দেখে সেখান থেকে চলে আসার সময় অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে। এর প্রতিবাদ করায় আটক ইয়ামিন তাকে লাথি, কিল-ঘুষি দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। তখন অন্যান্য দর্শনার্থীরা এসে তাদের উদ্ধার করে।
মীম বলেন কিছুক্ষন পরে, স্থানীয় ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জায়নাল আবেদীনের ছেলে আশরাফুল দলবল নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলা চালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তারা পালিয়ে যায়।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, হামলার শিকার মোট্রেপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট টুটুলের স্ত্রী সিফাত জাহান মীম বাদী হয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনের ছেলে আশরাফুল হকসহ ২৫ জনকে আসামী করে মামলা করেছে। আটক ইয়ামিনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালানা করা হচ্ছে।
মহানগরের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফলজুল করীম বলেন, মামলায় নামধারী ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে আসামী করা হয়েছে। ঘটনার সাথে যারা যুক্ত ছিলো তাদের চিহ্নিত করে সকলকে গ্রেফতার করে আইনে আওতায় আনা হবে। তাতে সে যতবড়ই ক্ষমতাধর হউক না কেন?
