নগরীতে বেড়েছে ছিচকে চোর ও মাদকাসক্তের উৎপাত নগরীতে বেড়েছে ছিচকে চোর ও মাদকাসক্তের উৎপাত - ajkerparibartan.com
নগরীতে বেড়েছে ছিচকে চোর ও মাদকাসক্তের উৎপাত

3:48 pm , September 26, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নগরীর পাড়া-মহল্লায় বেড়েছে ছিচকে চোর ও মাদকাসক্তের উৎপাত। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িতে ঘটছে চুরির ঘটনা। কারো বাড়ির কাপড়-চোপড় কিম্বা মোবাইল ফোনটি জানালা দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কারো বাড়ির ছাদ টপকে পাশের বাড়িতে হানা দিচ্ছে, কিছু না পেলে পায়খানা করে চলে যাচ্ছে চোর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এগুলো মাদকাসক্তদের কাজ। এরা একটা বড় গ্রুপ। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরই বিভিন্ন পাড়ার ফাঁকা প্লটে জড়ো হয়। ওখানে বসে মাদক কেনার টাকা সংগ্রহ করতে মানুষের বাড়িঘরের খোঁজ নেয়। যে বাড়িতে মানুষের উপস্থিতি কম টের পায় সেখানেই হানা দেয় মাঝরাতে। কোনো পাড়া-মহল্লায় নৈশ প্রহরী নেই। যাও আবার আছে সব প্রধান সড়ক কেন্দ্রিক। এ   কারণে চোরদের সুবিধা হয় চুরি করতে এমনটাই জানান ১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, খান সড়ক ১ নং রোডের শেষ মাথায় চম্পা ভিলার পাশের ফাঁকা প্লটে মাদকাসক্তদের আড্ডা হয় । কয়েকবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাউকেই ধরতে পারেনি।
এদিকে গতরাতেই এখানের ইউনুস খানের বাড়িতে চোর ঢুকে কিছু নিতে না পেরে পায়খানা করে চলে গেছে বলে জানান ভাড়াটিয়া রফিকুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, তার বাড়ির ভাড়াটিয়া পুলিশ কনস্টেবলের ঘরের কাপড় চোপড় তছনছ করেছে। পকেট থেকে টাকা পয়সা যা পেয়েছে নিয়ে গেছে।
এরআগে গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর ভাটিখানা এলাকার শাহজাহান মিয়ার বাড়ির দুই ভাড়াটিয়ার মোবাইল ফোন ও শার্টপ্যান্ট নিয়ে গেছে চোর।
এদিকে ফরেস্টার বাড়ির পোল এলাকার দোকানদার আসিফ বলেন, গত জুন মাসে এখানে একই দিনে এক সঙ্গে ১১ টি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ চক্রের সদস্যদের কবে আইনের আওতায় আনা হবে। নাকি শুধু অভিযোগ দিয়েছি তাতেই শেষ।
গত ২০ মে বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় মুখে টর্চ লাইট নিয়ে মিতালী প্লাজার টিন কেটে পরপর ৯টি দোকানে চুরি করে এক যুবক। লুট করে কয়েক লাখ টাকা। তবে থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও এখনও জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।
একই স্টাইলে এমন চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে নগরের সিকদারপাড়া, করিম কুটির, আমতলার মোড়, সিএন্ডবি রোড, জেলাখানা মোড় এলাকায়। গত তিন মাসে চুরি হয়েছে কমপক্ষে ৪০টি দোকান ও শতাধিক বাসা বাড়িতে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশিরভাগ পাড়া-মহল্লায় রাতে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। পরিকল্পিত হাউজিং অঞ্চলে বাড়ির মালিকরা সমন্বয়করে কিছু নৈশ প্রহরী নিয়োগ দিলেও বেশিরভাগ ওয়ার্ডে এ সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসী।
এ নিয়ে গত ছয়মাসে ছোট বড় অসংখ্য চুরির ঘটনা রেকর্ড হয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার ৪টি থানায়। কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, গত তিন মাসে তার থানায় অটোরিকশা, ইজিবাইক ও বাসা বাড়িতে চুরির ১৫টি এবং মোবাইল চুরির ৫০টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এগুলো বেশিরভাগই মাদকাসক্ত ও টোকাইদের কাজ দাবী করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে ২৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং  মাদকাসক্তদের বেশ কয়েকটি আড্ডা ভেঙ্গে দিয়েছে মডেল থানা পুলিশ।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম জানিয়েছেন, বন্দর থানাসহ বরিশালের চার থানায় কিছু চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বেশকিছু চোরাই মালামাল উদ্ধারও হয়েছে। বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, এ সব ছোটখাট চুরির ঘটনার থানায় অভিযোগ না হলেও মাদকাসক্তদের উৎপাত বেড়েছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুদিন আগে এরকম চুরি যাওয়া ৪১টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম আরো বলেন,  এ জাতীয় ছিচকে চুরি ঠেকাতে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি সভা করা হচ্ছে। জনগণকে সচেতন করতে এবং তাদের সম্পৃক্ত করতেই এই সভা করা হয়। এখানে সবাই মতামত ও সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। কমিউনিটি পুলিশের এই সভায় সবাইকে অংশ নেয়ার পরামর্শ দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক বলেন, আমি বেশ কয়েকটি সভায় এটা বলেছি যে, শুধু প্রধান সড়কে টহল জোরদার করলেই পুলিশের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পাড়া-মহল্লার অলিগলিও নজরদারিতে আনতে হবে। এজন্য নৈশপ্রহরী জরুরী। কমিউনিটি পুলিশের একটা অংশ এই নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে পারে। এজন্য স্থানীয় কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত চেষ্টা থাকতে হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT