ডিজেলে ভেজাল আতঙ্ক ॥ বরিশালে মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ ডিজেলে ভেজাল আতঙ্ক ॥ বরিশালে মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ - ajkerparibartan.com
ডিজেলে ভেজাল আতঙ্ক ॥ বরিশালে মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ

3:32 pm , September 20, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ গত ৩/৪ চারদিন ধরে বরিশালের পেট্রোল পাম্পগুলোতে চলছে ডিজেলে ভেজাল আতঙ্ক। একই সাথে মাপেও কম দেওয়ার অভিযোগ ডিলার ও ডিপোর বিরুদ্ধে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন কোনো ভেজাল নেই। মাপে কম দেয়ার প্রশ্নই আসেনা। রং এর তারতম্য ঘটলেও তেলে কোনো সমস্যা নেই।
গত সোমবার সকালে বরিশালের বিভিন্ন স্থানের প্রায় ৮/১০টি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে ডিজেলে ভেজাল দেওয়ার অভিযোগ তোলেন গাড়ি চালকরা। বিশেষ করে বাস ও ট্রাক চালকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত কালো রং এর ডিজেল দেয়া হচ্ছে বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে প্রথমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন তুর্য্য ফিলিং স্টেশনে গেলে জানা যায়, গত পরশু পদ্মা অয়েল  কোম্পানির ডিজেল পুরোটাই কালো রং ছিলো। তাই তারা আর পদ্মা থেকে তেল না এনে মেঘনা ডিপো থেকে নিয়েছেন।
নগরীর রুপাতলী হাউজিং সংলগ্ন ডোস্ট  পাম্প  পদ্মার তেল গত দু’দিন গ্রহণ করেনি। তারপরও তাদের ডিজেল রং হালকা কালো দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানালেন এই হালকা কালোটাই ডিজেলের রং করা হয়েছে। এরকম আরো কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, পদ্মা ডিপোর ডিজেলে প্রায়শই এ জাতীয় সমস্যা হয়। কখনো লালচে, কখনো সাদা, কখনো গভীর কালো হচ্ছে ডিজেলের রং। সেই সাথে মাপেও কম দেয় বলে একাধিক পেট্রোল পাম্প থেকে অভিযোগ ওঠে। মালিকপক্ষ বলছেন, একটি ট্যাংক লড়িতে ৯ হাজার লিটার তেল থাকার কথা। যা সাধারণ পেট্রোল পাম্পের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু অনেক সময়ই পরিমানে কম পাই।
একই অভিযোগ পেট্রোল পাম্পগুলোর বিরুদ্ধে গাড়ি চালকদেরও। মাপে কম দেয়ার কারণে বরিশালের বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পকে ইতিপূর্বেই জরিমানা করেছে বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, সমিতিভুক্ত নয় এমন কিছু পেট্রোল পাম্প মালিকদের কারসাজি এগুলো। তবে আমরা ডিপো থেকে কম পেলেও গ্রাহকদের কখনো কম দেইনা।
এদিকে তেলে ভেজাল গুজব কানে এসেছে এবং রং কালো হলেও তেলে কোন সমস্যা নেই জানিয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানির বরিশাল ডিপোর ম্যানেজার মোহাম্মদ লোকমান বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চিটাগং থেকে আসা বার্জটির তেলের কালার কালো ছিলো। এটা কেন হয়েছে তা আমরা জানিনা, তবে এখানে শুধু উত্তোলন ও সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়। গতকাল তা কমে ৭৫ হাজার লিটার হয়েছে। এটা অবশ্য গত দুদিন টানা বৃষ্টির কারণে হয়েছে। তবে মাপে কম দেয়ার কোনো সুযোগই আমাদের নেই উল্লেখ করে লোকমান আরো বলেন, আমরা শুধু ডিজেল সরবরাহ করি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি সরাসরি বিদেশ থেকে এই তেল আমদানি করে। চিটাগং থেকে এটি তিনটি কোম্পানি রিফাইন করে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামের তিনটি সরকার পরিচালিত কোম্পানিকেই তা সরবরাহ করে। পদ্মা শুধু ডিজেল সরবরাহ করে। মেঘনা ও যমুনা সবগুলোই সরবরাহ করে। কালার পরিবর্তন হলেও তেলের মানে কোনো সমস্যা নেই। আর মাপে কমবেশি বিষয়টির জন্য আমরা কখনোই দায়ী না। এটা ট্যাঙ্ক লড়ি চালকদের কারসাজি হতে পারে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কেননা ডিজেলে ভেজাল করার কিছু নেই, অকটেন বা পেট্রোল ভেজাল সম্ভব, ডিজেল নয়।
এ বিষয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি এর বিপণন বিভাগের পরিচালক অনুপম বড়ুয়া বলেন, বরিশাল পদ্মা অয়েল কোম্পানি সম্পর্কে আগেও আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এবার ডিজেলের রং পরিবর্তন অভিযোগ বরিশাল সেনাবাহিনী থেকেও আমাদের কাছে এসেছে। এটা পদ্মা অয়েল কোম্পানির সমস্যা না কি এটি রিফাইন করে যে প্রতিষ্ঠান তাদের সমস্যা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়টি বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান পরিচালক।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT