বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের ৮টি চায় রওশন এরশাদ বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের ৮টি চায় রওশন এরশাদ - ajkerparibartan.com
বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের ৮টি চায় রওশন এরশাদ

3:09 pm , September 17, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বর্তমান জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ আগামী সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে আওয়ামী লীগের কাছে ১১০ আসন চাইছেন। এর মধ্যে বরিশালের সদর আসনসহ বিভাগের ০৮ টি আসনের তালিকা দেয়া হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি মাধ্যমে জাপার কাঙ্খিত ১১০ আসনের তালিকা প্রধানমন্ত্রী কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ১৯ আগস্ট রওশন এরশাদ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইতোমধ্যে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে যাওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সরকারের সঙ্গে থাকতে দলটির প্রায় সব এমপি ও অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতার চাপ রয়েছে।
বরিশাল বিভাগের মধ্যে বর্তমানে চারটি আসনে জাতীয় পার্টির এমপি আছেন। বরিশাল-৩ আসনে গোলাম কিবরিয়া টিপু, বরিশাল-৬ আসনে নাসরিন জাহান রতœা, পটুয়াখালী-১ আসনে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং পিরোজপুর ৩ আসনে রুস্তুম আলী ফরাজী। পুরনো এই চারটি আসন ছাড়া আরও চারটি আসনে মনোনয়ন চায় জাতীয় পার্টি। এরমধ্যে বরিশাল সদর আসনও রয়েছে। নতুন করে বরিশাল সদর আসনে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি একেএম মরতুজা আবেদীন, বরিশাল-২ আসনে চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, ভোলা ২ আসনে মিজানুর রহমান মিজান এবং বরগুনা ২ আসনে মিজানুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে জাতীয় পার্টি।
বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন বরিশাল সদর। আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে। নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার সুযোগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে এখানে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণ। ২০১৮ সালে দলীয় টিকিট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন জাহিদ ফারুক শামীম। আগামী সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। একই সাথে সদর আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, মাহবুব উদ্দীন আহমেদ বীরবিক্রম এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এই দৌঁড়ঝাপের মধ্যে হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছেন জাতীয় পার্টির নেতা একেএম মরতুজা আবেদীন। যিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৫ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। জাতীয় পার্টির এই নেতাকে এবার এমপি পদে চাইছে হাইকমান্ড। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো তালিকায়ও নাম রয়েছে মরতুজা আবেদীনের। যদিও এই মুহুর্তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজী হননি জাতীয় পার্টির এই নেতা। তিনি বলছেন বিষয়টি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত। আপাতত বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরণের মন্তব্য করতে চাননা তিনি।
বানারীপাড়া-উজিরপুর নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসনটিতে মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে জাতীয় পার্টি। এই আসনটি সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে দখলে ছিলো জাতীয় পার্টির। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা মনিরুল ইসলাম মনি। তবে ২০১৪ ও ২০১৮ এর নির্বাচনে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুচ। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ইউনুসকে বাদ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় শাহে আলমকে। এই আসনে আগামী নির্বাচনে শাহে আলম ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার ইউনুস, মনিরুল ইসলাম মনি এবং জেলা আওয়ামমী লীগের সভাপতি ও মন্ত্রী পদ মর্যাদায় থাকা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছোট ছেলে আশিক আব্দুল্লাহ মনোনয়ন চাইছেন।
বাবুগঞ্জ-মুলাদী নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসনটি দখলে আছে জাতীয় পার্টির। বিগত দুটি নির্বাচনেই জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হয়। বর্তমান এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুকে আবারও দলীয় প্রার্থী হিসেবে চাইছে জাপা। তবে আসনটি আর ছাড় দিতে রাজনী না স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তারা বলছেন বিগত দিনে স্থানীয় এমপি এলাকার কোন উন্নয়ন না করে জাতীয় পার্টির উন্নয়ন করেছেন। ফলে সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন আওয়ামী লীগ নেতা সমাজসেবক আতিকুর রহমান ও মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান তরিকুল হাসান খান মিঠু। আতিকুর রহমান ২০১৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে গেলেও সাবেক এমকজন মন্ত্রীর কারিশমায় পরাজিত হন। তবে এবার দলীয় টিকিট পেতে আটঘাট বেধে মাঠে নেমেছেন আতিক। দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি ইতিমধ্যে অনেকটা নিশ্চিত করেছেন বলেও একাধিক সূত্র দাবী করেছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৬ আসনটি দীর্ঘ বছর ধরেই আছে জাতীয় পার্টির। আগামী নির্বাচনেও এই আসন চাইছে জাপা। বর্তমান এমপি নাসরিন জাহান রতœাকে প্রার্থী হিসেবে চেয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এখানে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেতে জোর লবিং করছেন।
মঠবাড়ীয়া  উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ আসন বরাবরের মত এবারও চাইছে জাতীয় পার্টি। এই আসনে টানা চারবারের সংসদ সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজী জাতীয় পার্টির নেতা। এলাকায় অনেক জনপ্রিয়তা রয়েছে তার। ফলে আগামী নির্বাচনে আসনটি যে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হবে এটা অনেকটাই নিশ্চিত।
২০১৮ সালের নির্র্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে মনোনয়ন পেয়ে এমপি হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। আবারও আসনটি ভাগাতে চাইছে জাতীয় পার্টি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT