সার্বজনীন পেনশন স্কিমে বরিশালে জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা সার্বজনীন পেনশন স্কিমে বরিশালে জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা - ajkerparibartan.com
সার্বজনীন পেনশন স্কিমে বরিশালে জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা

3:12 pm , September 14, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ সরকারের সার্বজনীন পেনশন স্কিম সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন অনেকেই এসে এ সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়ার পাশাপাশি খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সারাদেশে ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সার্বজনীন পেনশন স্কিমে ৭ কোটি ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩২ টাকা জমা পড়েছে বলে  জানিয়েছেন ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ১৭ আগস্ট সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এক মাসেরও কম সময়ে এই পেনশন ব্যবস্থার চারটি একাউন্টে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা জমা পড়েছে। যা সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। দেশের ১৮ বছরের বেশি বয়সী সব নাগরিককে পেনশন সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রকল্পটি চালু করা হয়। ওইদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কার্যক্রমের  উদ্বোধন করেন। এই আয়োজনে তিনটি জেলা  গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও রংপুর এবং সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অংশগ্রহণকারী এবং সুবিধাভোগীরা সংযুক্ত ছিলেন। দেশের চার শ্রেণির প্রায় ১০ কোটি মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে এই পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সার্বজনীন পেনশন প্রকল্পের অধীন ছয়টি পরিকল্পিত প্যাকেজের মধ্যে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা এবং প্রবাসী নামে চারটি প্যাকেজ প্রাথমিকভাবে চালু করা হয়েছে।প্রগতি প্যাকেজ বেসরকারি চাকরিজীবীদের এতে অন্তর্ভুক্ত করবে। অন্যদিকে সুরক্ষা স্ব-কর্মসংস্থান ব্যক্তিদের জন্য, নি¤œ আয়ের লোকদের জন্য সমতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য প্রবাসী প্যাকেজ গঠন করা হয়েছে। আর বাকি দুটি প্যাকেজ পরে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো নাগরিক ৬০ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করে অবসর জীবনের সময় পেনশন সুবিধা পেতে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
৫০ বছরেরও বেশি বয়সী একজন ব্যক্তি এই ব্যবস্থায় যোগ দিতে পারবেন। তবে ব্যক্তিকে একটানা ১০ বছর ধরে কিস্তি দিতে হবে।
গত ২৮ আগস্ট বরিশালের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম এর উদ্যোগে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  তবে প্রচারণার অভাবে ওই সভার খুব একটা সুফল পাওয়া যায়নি বলে মনে করেন জেলা অর্থনীতি সমিতির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, একেতো এটা অনলাইন নির্ভর,  তার উপর নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সোনালী ব্যাংকের কাছে সরাসরি টাকা জমা দেয়ার বা তাদের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়ার সুবিধা নেই। এটা প্রধানমন্ত্রীর চমৎকার একটা উদ্যোগ, বাস্তবায়নে সরাসরি সোনালী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক সম্পৃক্ত হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত হবে। কেননা ইদানিং অনলাইন প্রতারণা অনেক বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ লেনদেনে অনেক সচেতন।
সোনালী ব্যাংক সদর রোড শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সেলিম হায়দার জানিয়েছেন, সরকার ঘোষিত সার্বজনীন পেনশন স্কিম করতে মানুষের মাঝে আগ্রহের যেন শেষ নেই। এ সময় তিনি এক রিকশাচালকের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বরিশাল নগরীর কাজীপাড়া থেকে একটি রিকশায় কর্মস্থল নগরীর বগুরা রোড সোনালী ব্যাংকে আসছিলেন। এ সময় রিকশাচালক পেনশন কিভাবে করবে তা জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি নগরীর একটি কম্পিউটারের দোকান দেখিয়ে দেন। পরদিন আবারো সেই রিকশাচালকের সাথে দেখা। রিকশা চালাতে চালাতে বলছিলেন ‘স্যার পেনশন স্কিম করেছি। কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের বুথ থেকেই সাধারণ মানুষ এই একাউন্ট করার সুবিধা পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
এসময় ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার  চারটি একাউন্টে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত জমা হওয়া টাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
তাতে দেখা গেছে, প্রবাসী নামের একাউন্টে ৮৯ লাখ ২০ হাজার ৩ টাকা, সাধারণ মানুষের জন্য প্রগতি স্কিমে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা,  সুরক্ষা নামের একাউন্টে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১০ টাকা এবং সমতা নামের একাউন্টে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার ২০ টাকা জমা পড়েছে।
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সেলিম হায়দার আরো বলেন, নগরীর অধিকাংশ কম্পিউটার ও বিকাশের দোকান, পোস্ট অফিসের ই সেন্টার থেকেও এই একাউন্ট ওপেন করা যাবে। সোনালী ব্যাংকে এজন্য একটি বুথও ওপেন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বরিশালের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, সার্বজনীন পেনশন স্কিম যেহেতু কেন্দ্রীয় একটি প্রকল্প তাই আমরা জনগণকে এটা সম্পর্কে জানাতে অবহিতকরণ সভা করছি। যে সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছি। সাধারণ মানুষের মাঝে এটা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT