উৎপাদন লক্ষ্য ২২ লক্ষাধিক টন চাল উৎপাদন লক্ষ্য ২২ লক্ষাধিক টন চাল - ajkerparibartan.com
উৎপাদন লক্ষ্য ২২ লক্ষাধিক টন চাল

3:46 pm , September 11, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ মৌসুমজুড়ে  বৃষ্টিপাতের ঘাটতির পরে গত মাসেই স্বাভাবিকের চেয়ে ৮০ ভাগ বেশী বৃষ্টির পরে ভাদ্রের শেষ ভাগের বড় অমাবশ্যা নিয়ে মারাত্মক দুঃশ্চিন্তায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ৮.৭০ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের মাধ্যমে ২২ লাখ ৮ হাজার টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে এখনো মাঠে কৃষি যোদ্ধারা। ইতোমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫% ভাগ জমিতে রোপা আমনের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই জানিয়েছে।  পুরো ভাদ্র মাস শেসে অশি^নের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রোপা আমনের আবাদ চলে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে। আসন্ন বড় অমাবশ্যার  সাথে অসময়ের অস্বাভাবিক তাপ প্রবাহ এ অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের জন্য বাড়তি বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী করছে। গত কয়েকদিন ধরেই বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কাছে রয়েছে। গত মাসের প্রথমভাগে শ্রাবনের অমাবশ্যায় ভর করে একটি লঘু চাপের প্রভাবে অস্বাভাবিক বর্ষণের সাথে ফুসে ওঠা সাগর ও উজানের ঢলের পানিতে বরিশাল কৃষি অঞ্চলের আমন বীজতলা ও রোপা আমন ছাড়াও আধা পাকা আউশ ধানের প্রায় পুরোটাই প্লাবিত হয়েছিল। তবে সাগর দ্রুত শান্ত হয়ে উজানের পানি গ্রহণ করায় নদ-নদী স্বাভাবিক ধারায় ফিরলেও প্রবল বর্ষণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পুরো সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। ফলে জুলাই মাসে যেখানে বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল স্বাভাবিকের ৫৮% কম, সেখানে আগস্টে তা ৮০% বেশী ছিল। গত মাসে বরিশালে স্বাভাবিক ৪৩৩ মিলিমিটারের স্থলে ৭৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ।
চলতি মাসে বরিশাল অঞ্চলে স্বাভাবিক ৩১৬ মিলিমিটারের স্থলে ২৮৫ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের কথা বলা হলেও মাসের প্রথম ১০ দিনে প্রায় ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ভাদ্রের শেষ দিনেই অমাবশ্যার শুরু হবে বিধায় এ অঞ্চলের কৃষকরা যথেষ্ট শংকিত। বিগত ৩টি বছরই ভাদ্রের অমাবশ্যার প্রবল বর্ষণের সাথে ফুসে ওঠা সাগরের জোয়ার আর উজানের ঢলের পানিতে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের আমন ফসলী সয়লাব হয়ে যায়। ফলে ব্যাপক ক্ষতির কবলে পড়েন কৃষকরা।
অতীতের ক্ষত মাথায় রেখেই এখন শংকিত বরিশাল কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা। প্রায় ১৫ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা এখনো সম্পূর্ণভাবেই প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। পুরো মৌসুম জুড়েই বৃষ্টির অভাবে খরিপ-১ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ৯২% আউশ ধানের কর্তন সম্ভব হলেও শ্রাবনের প্রথম সপ্তাহের প্রবল বর্ষণে প্লাবিত হয়ে আউশের উৎপাদন যথেষ্ট ব্যাহত হবার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত যে ১.৫৭ লাখ হেক্টরের আউশ কর্তন হয়েছে তাতে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-১ মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না।
সাথে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমন নিয়েও শংকায় কৃষকরা। তবে ডিএই’র দায়িত্বশীল মহল আউশের সামান্য ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও আমন নিয়ে এখনই কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের মতে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আসন্ন অমাবশ্যায় প্রবল বৃষ্টি হলেও যে কোন ক্ষতি পুনর্বাসনে প্রস্তুতি রয়েছে মাঠ পর্যায়ে।  বিরুপ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেই প্রতি বছর বরিশাল অঞ্চলের কৃষি যোদ্ধারা আউশ,অমন ও বোরা ধান ঘরে তুলছেন। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলা দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় ১৫ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত। ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’, ‘আইলা’ ‘মহাসেন’, ‘ইয়াশ’,‘অশণি’ ও ‘সিত্রাং’এর মত ভয়াবহ প্রকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বরিশাল কৃষি অঞ্চলের কৃষি যোদ্ধারা গত অর্থ বছরের খরিপ-১,খরিপ-২ ও রবি মৌসুমে  প্রায় ৫০ লাখ টন দানাদার খাদ্য ফসল উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন। গত বর্ষা মৌসুমেও বছরজুড়ে বৃষ্টির অভাবের পরে মৌসুম শেষে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’এ ভর করে প্রবল বর্ষণে প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমন ব্যাপক ঝুঁকির কবলে পড়ে। তবে সব দুর্যোগ অতিক্রম করে এ অঞ্চলে প্রায় ২২ লাখ টন আমন চাল ঘরে তুলেছিলেন কৃষি যোদ্ধারা।
চলতি খরিপ-২ মৌসুমে দেশে প্রায় ৫৬ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের আমন আবাদের মাধ্যমে ১ কোটি ৬৮ লাখ টন চাল পাবার লক্ষ্য স্থির করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। যার প্রায় ২২ লাখ টন উৎপাদন লক্ষ্য রয়েছে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT