বরিশাল-ভাঙা-ফরিদপুর মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প কবে হবে ? বরিশাল-ভাঙা-ফরিদপুর মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প কবে হবে ? - ajkerparibartan.com
বরিশাল-ভাঙা-ফরিদপুর মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প কবে হবে ?

4:19 pm , July 26, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ পরিবহন ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহনের পাশাপাশি বেপরোয়া গতি এবং মানসম্মত যান ও চালকদের বিবেকহীন বেআইনী পরিচালন ব্যবস্থার কারণে বরিশাল অঞ্চলের সড়ক, মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাথে দীর্ঘতর হচ্ছে হতাহতের মিছিল। পদ্মা সেতু চালু হবার পরে পরিবহন সংস্থাগুলো ‘ কে কত আগে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছে দিতে পারে’, এ মরন প্রতিযোগিতায় বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কেই দুর্ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটনা। এমনকি বেশীরভাগ পরিবহন সংস্থাগুলো যে পরিমান গাড়ীর রুট পারমিট গ্রহন করেছে তার কয়েকগুন বেশী যানবাহন পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ থাকলেও বিআরটিএ সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অজ্ঞাত কারণে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বরিশালগামী একটি যাত্রিবাহী বাসের সামনের চাকা ফেটে গিয়ে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পাশ^বর্তী পুকুরে পড়ে গেলে ১৭ জনের মৃত্যু ছাড়াও আরো ১৮ যাত্রী আহত হয়। এর তিনদিন পরেই বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের গৌরনদীতে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি  বাস ডোবায় পড়ে গেলে অন্তত ১৮ জন আহত হয়। অপর বাসটি রাস্তার পাশের গাছে আটকে রক্ষা পায়।
এধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াও ছোটখাটো অঘটন বরিশাল-ভাঙা-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়মিত ঘটনায় পরিনত হয়েছে। মহাসড়কগুলোতে চলাচলকারী যানবাহনের সক্ষমতা পরীক্ষা ছাড়াও চালকদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার বিষয়টি এখন আর যাচাই করা হচ্ছে না। হাইওয়ে পুলিশ এবং বিআরটিএ’র কর্মকান্ড নিয়ে অনেক অভিযোগের পরেও পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষনীয় নয়। ফরিদপুরের ভাঙা ও বরিশালের গৌরনদীর হাইওয়ে থানা পুলিশ প্রায়শই মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে চৌকি বসালেও বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রন সহ যানবাহন ও চালকদের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারেনি এখনো। উপরন্তু বরিশালের দক্ষিণে কোন মহাসড়কেই হাইওয়ে পুলিশের কর্মকান্ড নেই।
ইতিহাসে সর্বাধিক ব্যায়বহুল পদ্মা সেতু সহ সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ৫৫ কিলোমিটার ভাঙা-মাওয়াÑঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে রাজধানী থেকে দুটি সার্ভিস লেনসহ ভাঙা পৌঁছার পরে বরিশাল অঞ্চলের মহাসড়কগুলোর অবস্থা এখনো মানসম্মত নয়। এমনকি পদ্মাসেতু চালু হবার পরে ১৯৬০ থেকে ’৬৫ সালে নির্মিত বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়ক বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে পারছেনা বলেই মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। অথচ ভাঙা থেকে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোর উন্নয়ন গত প্রায় এক দশক ধরে নানা পরিকল্পনায় আবদ্ধ। এসব মহাসড়কের উন্নয়নে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবশ্য আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাঙা থেকে ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে বরিশাল, ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে পায়রা বন্দর ও ২০৩ কিলোমিটার দক্ষিণে কুয়াকাটার সাথে সংযুক্ত মহাসড়কগুলো বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দেয়ার ক্ষমতা নেই। সড়ক অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা এর সাথে দ্বিমত পোষন করছেন না। এসব মহাসড়ক এখনো মাত্র ১৮ফুট থেকে ২৪ ফুট প্রস্থ। এমনকি এরমধ্যে ফরিদপুরÑবরিশাল মহাসড়কটি নির্মিত হয় ১৯৬০ থেকে ‘৬৫ সালের মধ্যে। ১৯৭৮ থেকে ’৮২ সালের মধ্যে নির্মিত হয় বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক। পরবর্তিতে তা কুয়াকাটা পর্যন্ত সম্প্রসারণ ঘটলেও পদ্মা সেতু চালু পরবর্তি বাড়তি যানবাহন পরিবহনের সক্ষমতা নেই। বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর-খুলনা মহাসড়ক ছাড়াও ওই মহাসড়কেরই ঝালকাঠীর রাজাপুর থেকে ভান্ডারিয়া হয়ে পাথরঘাটা, বাকেরগঞ্জ থেকে বরগুনার মহাসড়কগুলোর একই অবস্থা। এসব মহাড়কের প্রায় সবটাই মাত্র ১৮ ফুট প্রস্থ।
অথচ পদ্মাসেতু চালু হবার পরে প্রতিটি জেলার সাথেই সংযুক্ত মহাসড়গুলোতে যানবাহনের সংখ্যা তিনগুনেরও বেশী বেড়েছে। এমনকি সড়ক পরিবহন বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নৌযোগাযোগ ব্যাবস্থার ইতোমধ্যে জবনিকা হওয়ার পথে। ফলে সড়ক পথে যাত্রী ও যানবাহন ক্রমশ বড়লেও তা বহনের সক্ষমতা নেই বরিশাল অঞ্চলের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোর। সাথে নানা অনিয়ম ও বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রনে উদাসীনতায় প্রতিনিয়ত জানমালের ক্ষতির সংখ্যা বাড়ছে ।
বরিশাল থেকে ভাঙা পর্যন্ত মহাসড়কটির টেকেরহাট, মোস্তফাপুর, ভূরঘাটা, গৌরনদী,বাটাজোড় হয়ে সবশেষে বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, নবগ্রাম রোড-চৌমাথা, আমতলা মোড়, সাগরদী বাজার ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় বিশৃঙ্খলা আর যানযট এখন নিয়মিত ঘটনা। এসব স্থানের দুই পাশে ক্যারেজওয়ে পর্যন্ত অবৈধ দোকানপাটের সাথে নানা অবৈধ অবকাঠামো মহাসড়কটির গলা টিপে ধরে আছে। ফলে সুষ্ঠু ও নির্বিঘœ পরিবহন ব্যবস্থা এখন কল্পনারও অতীত। এসব অনিয়ম-অব্যবস্থার হাত ধরেই বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যাও।
ফরিদপুর-ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা/পায়রা মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নয়নের লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ২০১৫ সাল থেকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সহ বিস্তারিত নকশা প্রনয়ন সম্পন্ন হলেও প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ প্রকল্পটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। মহাসড়কটি উন্নয়নে দেশীয় অর্থে ভূমি অধিগ্রহনে ১৮শ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারীতে একনেক-এর অনুমোদন সহ অর্থ বরাদ্দ হলেও প্রকল্প মেয়াদ শেষ হবার এক বছর পরেও অর্ধেক জমিও অধিগ্রহন হয়নি।  এমনকি অর্থের সংস্থান না হওয়ায় মহাসড়কটি প্রাথমিক পর্যায়ে ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত ১২৪  কিলোমিটার ৬ লেনে উন্নীতকরণের সিদ্ধান্ত হলেও এখন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ২০১৫ সালে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সহ নকশার পরিবর্তে নতুন করে সব কিছু করতে বলেছে।
ফলে প্রকল্পটি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। এসীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী পুনরায় সব কিছু তৈরী করতে চলতি অর্থ বছর শেষ হয়ে যাবারই সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালকের সাথে তার দাপ্তরিক সেল ফোনে গত এক সপ্তাহ ধরে যোগোযোগের বহু চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT