চরম দূর্ভোগ ও পথ দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে নগরবাসী চরম দূর্ভোগ ও পথ দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে নগরবাসী - ajkerparibartan.com
চরম দূর্ভোগ ও পথ দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে নগরবাসী

4:08 pm , July 11, 2023

বরিশাল মহানগরীর গনপরিবহণে নৈরাজ্য
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বরিশাল মহানগরী জুড়ে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ যানবাহন ইতোমধ্যে নগরবাসী ও গনপরিবহনে গলার কাটা হয়ে উঠেছে। নগরীতে অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত রিক্সার কাছে পুরো নগরী জিম্মি। সিটি করপোরেশন গঠনের দুই দশক পরেও এ মহানগরীতে একটি সুষ্ঠু ও জনবান্ধব গনপরিবহন ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। এমনকি অবৈধ যানবাহন পুরো নগরী জুড়ে যানযটকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে ইতোমধ্যে। অসহায় নগরবাসী। বিষয়টি নিয়ে সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে সব মেয়র প্রার্থীই সাধারন জনগনের নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছেন। সব প্রার্থীকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পরতে হয়েছে। সকলেই ‘নির্বাচিত হলে জনবান্ধব নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা’র কথা বললেও নব নির্বাচিত মেয়র কতটা কি করতে পারবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। মান সম্মত ও নিরাপদ নগর পরিবহনে সহনীয় যাত্রী ভাড়ার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু গন পরিবহন ব্যবস্থার দাবী বরিশাল নগরবাসীর দীর্ঘ দিনের। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ ক্ষেত্রে নুন্যতম বিধি বিধানও অনুসরন না করায় এ নগরীর গনপরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। ইতোপূর্বে নগর ভবন থেকে ইস্যুকৃত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার প্যাডেল চালিত রিক্সার বেশীরভাগেরই লাইসেন্স নবায়ন হয়নি বছরের পর বছর। এ নগরীতে অবৈধ কত ব্যাটারী চালিত রিক্সা চলমান আছে, তার কোন পারিসংখ্যান নগরভবন ও মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কাছে না থাকলেও সংখ্যাটা ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে একাধিক সূত্রে বলা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে বৈধ ১২ হাজার প্যাডেল রিক্সার ৫ হাজার লাইসেন্সও নবায়ন হয়নি বলে নগর ভবনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। অবৈধ ইজিবাইকের সংখ্যাটাও ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ নগরীতে এলপি গ্যাস চালিত স্কুটারের জন্য নগর ভবন বা ট্রফিক পুলিশের কোন বৈধ অনুমোদন লাগেনা। এধরনের স্কুটারের সংখ্যাও অন্তত দু হাজার।
তবে কয়েক বছরে বরিশাল মহানগরীর গনপরিবহন চরম অব্যবস্থা ও অনিয়মের মধ্যে দিয়ে চলার খেশারত দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এ মহানগরীর পথে নামলেই নানাভাবে নাকাল হতে হচ্ছে বলে সুস্পষ্ট অভিযোগ নগরবাসীর। নগরীর প্রায় ৯০ভাগ মানুষ পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট। ব্যাটারী চালিত অবৈধ রিক্সার দাপটে মহানগরীর সর্বত্র দূর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে দূর্ঘটনাজনিত রোগীর একটি বড় অংশই ব্যাটারি চালিত রিক্সায় দূর্ঘটনার শিকার।
উপরন্তু গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সাথে এ নগরীতে এলপিজি চালিত স্কুটার ও থ্রী-হুইলারের ভাড়া দ্বিগুন হলেও জ¦ালানীর দাম কমলেও যাত্রী ভাড়া আর কমেনি। পুরো বিষয়টি দেখার কেউ আছে বলেও মনে করেন না নগরবাসী।
বিগত নগর পরিষদের সময়কাল পর্যন্ত এ নগরীতে প্রায় আড়াই হাজার ইজিবাইক চলাচলের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান নগর পরিষদের প্রথম বছর পরেই সেসব বাইকের লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ করে দেয়া হয়। গত বছর নতুন করে আরো ৫ হাজার ইজি বাইকের লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও আবেদন ফরম বিতরন করা হয়েছে ১০ হাজার। কিন্তু আগের নগর পারিষদের প্রায় অড়াই হাজার ইজি বাইকের ভবিষ্যত এখনো নির্ধারন হয়নি। ফলে গত কয়েক বছর ধরে পুরো নগরী জুড়ে অবৈধ ইজি বাইকের ছড়াছড়ি। ইতোমধ্যে এ অবৈধ যানের সংখ্যাকে ১০ হাজারের ওপরে নিয়ে গেছে। আর এ সুযোগে কতিপয় ট্রাফিক পুলিশ এসব ইজিবাইক আটকে নানাভাবে অবৈধ সুযোগ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।পূর্বে ইস্যুকৃত ইজি বাইকের লাইসেন্স কি নতুন করে গ্রহন করতে হবে, নাকি নবায়ন করা হবে, সে ব্যাপারে নগর ভবনের সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লাইসেন্স শাখা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার মতে, পূর্বের ইস্যুকৃত প্রায় আড়াই হাজার ইজি বাইকের বৈধ লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন করে ইস্যু করার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। অপরদিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নগর পরিষদ ও সিটি মেয়রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবেদন কারীদের মাঝে ফরম বিতরন করে নতুন লাইসন্স ইস্যুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তার মতে পূর্বে ইস্যুকৃত আড়াই হাজার ইজি বাইকের লাইসেন্সও প্রদান করা হচ্ছে। তবে এপর্যন্ত ঠিক কতজন আবেদন করেছেন ও কি পরিমান লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারেন নি। ব্যাটারী চালিত হাজার হাজার অবৈধ রিক্সা পুরো নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ২০১৯ সালে এসব রিক্সা বন্ধে মহানগর ট্রাফিক বিভাগ ও নগর ভবন উদ্যোগ নিলে চালকরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আমরন অনশন করে এক বছরের জন্য সদর রোড বাদে নগরীতে চলাচলের সম্মতি আদায় করে রাজপথ ছাড়ে। কিন্তু সে একবছর পাড় হয়ে আরো দু বছর অতিক্রম হলেও নগর ভবন সিদ্ধান্তহীনতায়। অজ্ঞাত সিদ্ধান্তহীনতার সুযোগে এ নগরীতে প্রতিদিনই অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সার সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
সিটি করপোরেশন থেকে তিন চাকা পর্যন্ত অযান্ত্রিক যানবাহন ও তার চালকদের লাইসেন্স প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমান নগর পরিষদের প্রথম বছর অতিক্রমের পরে তা বন্ধ রেখেছে।
এদিকে নগরী জুড়ে এলপি গ্যাস চালিত থ্রী-হুইলারের লাইসেন্স প্রদান করছে বিআরটিএ। কিন্তু ঐসব যানবাহনের ভাড়া ও রুট নির্ধারন সহ কোন নিয়ম শৃংখলার বিষয়টি সিটি করপোরেশন বা কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে নেই। এমনকি এ নগরীতে এলপি গ্যাস চালিত স্কুটারও চলছে বিআরটিএ’র লাইসেন্সে। কিন্তু সেখানেও নগর ভবন সহ বিআরটিএ বা জেলা প্রশাসনের কোন নিয়ন্ত্রন নেই। কতিপয় প্রভাবশালী চাঁদাবাজ রুট ও ভাড়া নির্ধারন সহ এনগরীর বেশীরভাগ গনপরিবহন নিয়ন্ত্রন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোঃ ফারুক জানান, আমরা ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদানে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছি। নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় নিয়মÑশৃংখলা ফিরিয়ে আনতে আগামীতে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT