শুধু সমস্যা আর সমস্যা!! শুধু সমস্যা আর সমস্যা!! - ajkerparibartan.com
শুধু সমস্যা আর সমস্যা!!

3:35 pm , April 30, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক। আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নগরীর ৩০ টি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিতে ইতিমধ্যে প্রচার প্রচারণা সহ নানা ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিটি  ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের ছোট বড় প্রয়োজন মেটাতে সর্বদা সজাগ থাকছন তারা। প্রতিদ্বন্দ্বী সম্ভাব্য প্রার্থীদের অসমাপ্ত ও অপরিপক্ক উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে তুলে ধরে  এবার নগরের ২৮ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীরা চালাচ্ছেন তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। তাদের দাবি এতদিনের কারচুপির ভোট যদি পুনরায় হয় তবে অনেকেই নির্বাচনে অনিচ্ছুক। মেয়র যেই হোক না কেন কাউন্সিলর প্রার্থীদের যদি সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয় তবে নির্বাচিত হয়ে এতদিনে থমকে থাকা উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবেন। দূর করবেন এলাকার সাধারণ ভোটারদের সকল নাগরিক সমস্যা। পূর্বের পাঁচ বছরে নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডের  ন্যায় ২৮ নং ওয়ার্ডেও ছিলোনা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। দৃষ্টিগোচর হওয়ার মতো কোন উন্নয়নই হয়নি এই ওয়ার্ডটিতে। তাই ভোটারদের আশা যদি একজন সুযোগ্য মেয়র পান তবে এলাকার সার্বিক সমস্যা দূর হবে।
নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল দৈনিক আজকের পরিবর্তন গিয়েছিল নগরীর  ২৮নং ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডটি থেকে এবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ঘরানার তিনজন এবং বিএনপি ঘরানার একজন কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এরা হলেন : বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন রুবেল, সাবেক ইউপি সদস্য  সৈয়দ গোলাম কবির মামুন, প্রয়াত  কাউন্সিলরের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির এবং  সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মোঃ হুমায়ুন কবির। গতকাল ২৮ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যালোচনায়  গিয়ে আলাপ করা হয় সাধারণ ভোটারদের সাথে। তারা জানান, বিগত পাঁচ বছরে বরিশালের অন্যান্য ওয়ার্ডের ন্যায় এই ওয়ার্ডটিতে কোন উন্নয়ন কার্যক্রম হয়নি। নির্বাচিত কাউন্সিলর এর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে নির্বাচিত বর্তমান কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন রুবেল পারেননি ওয়ার্ডের কোন সমস্যা সমাধান করতে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রভাবে সার্বিক উন্নয়নতো  দূরের কথা ঠিকভাবে বন্টণ করতে পারেননি সাধারণ ভোটারদের নাগরিক সুবিধা। পুরো পাঁচ বছরে এই ওয়ার্ডে দুটি রাস্তার কাজ হয়েছে তাও যেনতেনভাবে।  এলাকায় বড় সমস্যা বর্তমানে রাস্তাঘাট, ড্রেন, পানির সমস্যা, সড়কবাতি। আছে মাদকের ছড়াছড়ি। এ সকল সমস্যার কোন সমাধানই তারা পাননি নির্বাচিত কাউন্সিলর এর কাছ থেকে। কারণ তাকেই রাখা হয়েছে কোণঠাসা করে। এক কথায় চরম নাগরিক দুর্ভোগে ভুগছে ২৮ নং ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটাররা। প্রয়াত মেয়র  শওকত হোসেন হিরন এর পর ওয়ার্ডের মানুষ দেখেননি উন্নয়নের কোন চিত্র। সাধারণ ভোটারদের দাবি মেয়র বা কাউন্সিলর কে নির্বাচিত হলো তা তাদের দেখার বিষয় না। যে তাদের সকল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দেবে এবং নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি ও পরের কার্যক্রম এক হবে এমন কাউকে বিশ্বাস করে কাউন্সিলরের পদে বসাবেন তারা। ওয়ার্ডের সম্ভাব্যপ্রার্থীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান নানা প্রতিবন্ধকতায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা না করতে পারার কথা। বর্তমান কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন রুবেল বলেন, নির্বাচিত হয়েছেন ঠিকই কিন্তু ওয়ার্ডের কোন উন্নয়ন করতে পারিনি। বর্তমানে ওয়ার্ডটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এখানে রয়েছে রাস্তাঘাট, ড্রেন, পানির সমস্যা, খালের সমস্যা,  সড়ক বাতিসহ বিশুদ্ধ পানির সমস্যা । আছে মাদকের ভয়াবহ প্রকোপ। কিন্তু এ সকল সমস্যা নিরসনে কোন ব্যবস্থাই নিতে জাহিদ হোসেন রুবেল। কাজ করতে গিয়ে তাকে রোষানলে পড়তে হয়েছে।  ওয়ার্ডের নাগরিকরা চরম দুর্ভোগ পোয়াচ্ছেন বলে স্বীকার করেন এই কাউন্সিলর। প্রায় আট হাজার ভোটারের এই ওয়ার্ডটিতে যোগ্য মেয়র  নির্বাচিত হয়েই পারেন সকল সমস্যা দূরীকরণে সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে । আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হলে তার অধীনে সকল নাগরিক সমস্যা দূর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।সাধারণ ভোটারদের সকল চাহিদা পূরণ করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিলোত্তমা নগরী  গড়তে শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাবেন বলেও জানান তিনি। আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ গোলাম কবির মামুন  বলেন, দীর্ঘদিন তিনি এই এলাকায় মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে পুরো হতাশ তিনি। কোন কাজ তো হয়নি উল্টো এই পাঁচ বছরে নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে গেছেন মেয়র। ২৮ নং ওয়ার্ডে এখন এমন অনেক পানির লাইন রয়েছে যেখানে পানি না আসলেও মাস শেষে বিল আসে ঠিকই । ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে পাঁচ বছরে আয় না বাড়লেও বেড়েছে হোল্ডিং ট্যাক্স সহ নানাবিধ খরচ। এক কথায় গত পাঁচ বছরে অন্যান্য ওয়ার্ডের ন্যায় এই ওয়ার্ডের ভোটাররাও জিম্মি হয়ে গেছে । এই এলাকায় রাস্তাঘাটের কোন কাজই হয়নি। তিনি মেম্বার থাকাকালীন সময়ে এই ওয়ার্ডে মাটির রাস্তা নির্মাণ  করেছিলেন। এরপর উন্নয়ন হয়েছে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আমলে। মহানগর আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সাবেক  এই সদস্য বর্তমান ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কে কারচুপির ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কোন কাজ করতে না পারায় বর্তমান কাউন্সিলরকে অযোগ্য হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। একই সাথে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নিরপেক্ষ যদি নির্বাচন হয়, সাধারণ জনগণকে ভোট দিতে দেয়া হয় তবে তিনি নির্বাচন করবেন এবং শতভাগ জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আর সাধারণ মানুষের ভোটে যদি জয়যুক্ত হতে পারেন তবে দলমত নির্বিশেষে কাজ করবেন। সকল সমস্যা দূর করতে ওয়ার্ডের সকল স্তরের বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে  কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অপর সম্ভাব্য প্রার্থী ওয়ার্ডের প্রয়াত কাউন্সিলরের ছোট ভাই এবং বরিশাল বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, রাস্তাঘাটের প্রধান সমস্যায় ভুগছে ২৮ নং ওয়ার্ডটি। আর এই ওয়ার্ডে তারা বর্তমানে বসবাস করছেন রোহিঙ্গাদের মত। বিএনপির সময় বারবার নির্যাতিত হওয়া পরিবারের সন্তান হয়েও তারা কোন ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারেননি ।ওয়ার্ডবাসীর সুবিধায় কাজ করতে গিয়েও বারবার থমকে দাঁড়াতে হয়েছে তার এবং তার পরিবারকে । গত পাঁচ বছরে এই ওয়ার্ডে কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি। দুটি রাস্তার কাজ হয়েছে তবে তা নামমাত্র । ওয়ার্ডে সকল ধরনের সমস্যা রয়েছে। টিসিবি  কার্ড, নাগরিকত্ব সনদ বিতরণ ছাড়া উপনির্বাচনে নির্বাচিত কাউন্সিলর কোন কাজই করতে পারেনি। আমলাদের সহায়তায় নির্বাচিত বর্তমান কাউন্সিলর প্রকৃতপক্ষে এই ওয়ার্ডের সন্তান নয় তাই এই ওয়ার্ডের মানুষের দুঃখ দুর্দশা তিনি কিভাবে বুঝবেন। বর্তমানে এই ওয়ার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যায় না, নেয়া যায় না কোন সুষ্ঠু পদক্ষেপ। জনগণের অবস্থাও ঠিক একই রকম বলেন। গত নির্বাচনে কাউন্সিলর পদটি ছিনিয়ে নেয়া  হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়যুক্ত হওয়ার আশাবাদী তিনি। কোন প্রার্থীর নিকটাত্মীয় যদি বড় আমলা হয় তার প্রভাব যেন নির্বাচনে না পড়ে সেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে রাখার আহ্বান জানান তিনি। যদি টাকার ছড়াছড়ি না হয় ,সাধারণ ভোটাররা যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে তবে অবশ্যই তিনি নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন । আর নির্বাচিত হলে জনগণের ভোগান্তি শতভাগ দূর করবেন বলেও জানান। তিনি ইভিএম নয় ব্যালটের ভোট চেয়েছেন।
বিএনপি নেতা এবং ২৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক জননন্দিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন,  এই ওয়ার্ডের জনগণের ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলর তিনি। জনগণের দুঃখ কষ্ট, দুঃখ দুর্দশা সবকিছুই তার নখদর্পণে। এই ওয়ার্ডের মানুষগুলো শুধু পাঁচ বছরই নয় বঞ্চিত এর আগ থেকেই। ওয়ার্ডের মানুষগুলো সাধারণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে প্রতিদিন। ওয়ার্ডের আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই খারাপ যে এটিকে একটি সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড বলতে লজ্জা পাবেন অনেকেই। ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলররা কিভাবে একটি ওয়ার্ডের প্রতিনিধি হয়ে কেন উন্নয়ন করতে পারেন না তা তার বোধগম্য নয়। এই ওয়ার্ডে রয়েছে রাস্তাঘাটের সমস্যার পাশাপাশি মাদক, বিশুদ্ধ পানির অভাব, অপর্যাপ্ত সড়ক বাতি, ঠুনকো নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো সমস্যাগুলো। যা চাইলেই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে অনেকাংশ সমাধান করা সম্ভব। একজন কাউন্সিলরকে হতে হবে জনগণের প্রতিনিধি। কারণ জনগণের জন্যই তার নির্বাচিত হওয়া এবং জনগণের স্বার্থ আদায় করাই তার প্রথম কাজ। নির্বাচিত অবস্থায় তিনি পূর্বেও এই কাজটিই করে গেছেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত হলে দলমত নির্বিশেষে জনগণের সকল সমস্যায় সর্বদা পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ যদি থাকে তবে তিনি শতভাগ আশাবাদী জয়ী  হওয়ার। নির্বাচিত হলে কাজ করবেন জনগণের জন্য। নগরপিতা যেই হোক না কেন জনগণের প্রতিনিয়ত তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো উপস্থাপন করবেন এবং যথা সম্ভব তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করবেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT