ব্যালট ও সেনাবাহিনী চান তাপস ব্যালট ও সেনাবাহিনী চান তাপস - ajkerparibartan.com
ব্যালট ও সেনাবাহিনী চান তাপস

3:54 pm , April 29, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যালটে ভোট ও সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস। শনিবার বেলা ১১ টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, বিগত নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়নি। সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি এবং ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। যার কারনে বিএনপিসহ অনেক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করার ঘোষণা দিয়েছে। আমরা এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছি। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা কিছু দাবি ও প্রস্তাব পেশ করছি। তিনি বলেন, প্রথমত আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না, ব্যালট পেপারে নির্বাচন চাই। দ্বিতীয়ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও যথাযথ ক্ষমতা প্রদান করে, নির্বাচনের দিন নিরপেক্ষ নির্বাচন গ্রহনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হোক যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে এবং নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে।
এ সময় তিনি ইভিএম সম্পর্কে বলেন, ইভিএম এর অংশ মূলত দুইটি। একটি হার্ডওয়্যার। এতে রয়েছে মাদার বোর্ড, মাইক্রোপ্রসেসর ও ভোট গ্রহণের জন্য সংযোজিত অন্যান্য যন্ত্রপাতি। দ্বিতীয় অংশ সফটওয়্যার। এতে রয়েছে অপারেটিং সিস্টেম, ডিভাইস ড্রাইভার, বিভিন্ন ফাইল ও কম্পিউটার এপ্লিকেশন। যেহেতু ইভিএমে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের উপর নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করে, তাই এই অংশের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে তার পক্ষে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা খুব সহজ বলে আমি মনে করি। ইভিএমের সঙ্গে সংযোজিত যেকোনো ইনপুট পোর্টের মাধ্যমে যন্ত্রটির ভেতর ম্যালওয়্যার (ম্যালওয়্যার-মলিকুলাস কোড) প্রবেশ করিয়ে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব। জনগন ইভিএম ব্যবহারে অভ্যস্থ না থাকার কারনে ভোট প্রদানে ধীরগতি, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বয়স্ক সহ অনেক ভোটারই ভোট না দিয়ে ফিরে যায়। প্রযুক্তিগতভাবে ইভিএম একটি দুর্বল যন্ত্র। এতে ‘ভোটার ভেরিফাইড পেপার অডিট ট্রেইল’ (ভিভিপিএটি) নেই, যার ফলে কমিশন ভোটের যে ফলাফল ঘোষণা করবে তা-ই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহন করতে হবে এবং এটি স্বচ্ছ ভাবে পুনঃগণনা বা নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকে না।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির কারণে ইভিএম ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতিও করা যায়। বায়োমেট্রিক ভিত্তিক ইভিএম অনেক ভোটারকেই শনাক্ত করতে পারে না, ফলে কমিশন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদেরকে তাদের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে যন্ত্রটি খুলে দেয়া তথা ইভিএমকে ওভাররাইড করার ক্ষমতা দিয়ে থাকে। যে কোনো ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রের মতো প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে ইভিএমের ফলাফল নিয়েও কারসাজি করা যায়। এছাড়া নির্বাচনের সময়ে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত কারিগরি টিমও নির্বাচনী ফলাফল বদলে দিতে পারেন। গত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অন্তত দুইবার ফলাফল প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে, যা কেবল ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, ইভিএম ব্যবহার করার কারণে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তব কারনে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় ভাবে ইভিএম-এ ভোট গ্রহন না করার আহবান জানিয়ে আসছে।
তাপস বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত আইনের প্রায়োগিক দিকের প্রধান শর্ত হচ্ছে পদ্ধতিটি হতে হবে স্বচ্ছ। এ কারণেই ভোটের প্রাক্কালে সব দলের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খুলে দেখানো হয়। কিন্তু ইভিএম মেশিন হচ্ছে এমন একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠ যার ভেতরে আসলে কী আছে তা জানা সম্ভব নয়, যদি না এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সকলের সামনে উম্মুক্ত না করা হয়। যেহেতু, জনমনে ইভিএম নিয়ে আস্থাহীনতা আছে, আগে সেটি দূর করতে হবে। অনেক দেশ ইভিএম থেকে সরে এসেছে। বাংলাদেশের মতো দেশে কাগজের ব্যালটে প্রচলিত পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন করাই সর্বোত্তম। তাই আমাদের দাবী ব্যালট পেপারেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা ভোট দিতে অভ্যস্ত।
মেয়র প্রার্থী বলেন, আমরা দেখে এসেছি দেশের মানুষের সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা। তাই ভোটারদের ভীতি দূর করতে, ভোট কেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সকল প্রকার অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন অত্যন্ত জরুরি এবং সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করতে হবে।
আমরা চাই, এই দাবি সমূহ মেনে নিয়ে নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করবে অর্থাৎ নির্বাচন ও ভোট প্রদানে পূর্ব থেকেই ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে এবং ভোটের দিন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় জাতীয় পার্টি বরিশাল মহানগরের আহবায়ক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, সহ সভাপতি আক্তার হোসেন সপ্রু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT