দক্ষিণাঞ্চলের ঈদ বাজারে করোনার থাবার পরে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির রেশ দক্ষিণাঞ্চলের ঈদ বাজারে করোনার থাবার পরে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির রেশ - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলের ঈদ বাজারে করোনার থাবার পরে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির রেশ

3:44 pm , April 9, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ মধ্য রমজান পেরিয়েও দক্ষিণাঞ্চলে ঈদ কেন্দ্রিক বেঁচাকেনা এখনো ব্যবসায়ীদের হতাশ করছে। বরিশাল মহানগরীর চক বাজারের তৈরী পোষাকের দোকানে।করোনা মহামারী সহ নানামুখি অর্থনৈতিক সংকটের রেশ ধরে বিগত ৩টি বছরের মত এবারো দক্ষিণাঞ্চলে ঈদ বাজার খুব স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে না। এমনকি ঈদের বাজার ধরতে সারা বছরে লেনদেনের হিসেব মেলাতে ও বকেয়া আদায়ে চৈত্রের হালখাতাও করছে না প্রায় সব রেডিমেড গার্মেন্টস সহ কাপড় ও পোষাক ব্যাবসায়ীরা। সবার লক্ষ্য ঈদের ক্রেতা সমাগম। কিন্তু মধ্য রমজান পেরিয়েও সে আশা পুরন হচ্ছে না। এখনো বরিশালের চকবাজার, গীর্জা মহল্লা, সদর রোড, ফজলুল হক এভেনিউ ও পুলিশ লাইন্স-এর শহিদ নজরুল সড়কের তৈরী পোষাক, শাড়ী ও মহিলাদের থ্রী-পীস সহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় ব্যাবসায়ীরা ক্রেতা সমাগমের প্রহর গুনছেন।২০২০-এর মার্চে সারা দেশের সাথে দক্ষিণাঞ্চলেও করোনা মহামারীর ছোবলে এ অঞ্চলের ব্যাবসা-বানিজ্য থেকে সামাজিক সব কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি পরের বছরও সব ধরনের দোকানপাট সহ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সমুহে বকেয়া আদায়ের চৈত্র মাসেও লক ডাউনের কারণে সব বন্ধ ছিল। গত বছর পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও অর্থনৈতিক সংকটের রেশ ধরে ব্যাবসা সে ধারায় ফেরেনি। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য সংকট আরো কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেলেও বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশীরভাগ এলাকাতেই ব্যবসা-বানিজ্য ইতিবাচক ধারায় ফেরেনি।দেশের প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে তৈরী পোষাক, থান কাপড়, টেইলরিং সপ,পাদুকা, প্রশাধন সহ মুদি ও মসলা ব্যাবসায়ীরা এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তবে দশ রমজান থেকে তৈরী পোষাকের দোকানে ক্রেতা সমাগম কিছুটা বাড়লেও ঈদ কেন্দ্রীক বানিজ্য এখনো অনুপস্থিত বলে ব্যবসায়ীদের অভিমত। এবারো নানা নামে ও বাহারি রঙে শিশু এবং নারী-পুরষের পোষাকের পসরা সাজিয়ে বসলেও ক্রেতার অভাবে এখনো দোকানীদের মুখে খুব হাসি ফুটে ওঠেনি।রোববার বরিশাল মহানগরীর চকবাজার, গীর্জা মহল্লা, ফজলুল হক এভেনিউ, সদর রোড, এবং শহিদ নজরুল সড়কের বিপনি বিতানে একাধীক ক্রেতার সাথে আলাপ করে সবার মুখেই একটি কথা শোনা গেছে, ‘নিত্যপণ্যে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে জীবন ধারনই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, ফলে পরিবার পরিজনকে নিয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার মত অর্থনৈতিক সাচ্ছন্দ ক্রমশ দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়ে পড়েছে’।গত ৩টি বছরের সংকটের পরে এবার দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাবসায়ীদের লক্ষ্য ছিল ঈদ উল ফিতরে একটু ভাল বেচাকেনার আশায় ক্রেতাদের দোকান মুখি করা। সে ক্ষেত্রে এখনো ব্যাবসায়ীদের সফলতা খুব আশা ব্যঞ্জক নয়। তবে সিমিত সাধ্যের মধ্যেও পরিবার পরিজনের মুখে একটু হাসি ফোটাতে অনেকে চেষ্টা করলেও বিগত দু বছরের করোনা সংকট যে আর্থিক সীমাবদ্ধতা তৈরী করেছে, তার রেশ পড়েছে ঈদের বাজারেও। করোনা মহামারী দক্ষিণাঞ্চলের নি¤œ-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটিয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা এখনো অনেকের কাছেই দুঃসাধ্য হয়ে আছে। তাই সাধ থাকলেও এবারের ঈদের আনন্দ উপভোগও যে সবার জন্যই ততটা সম্ভব হচ্ছেনা তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট। করোনা সংকটের অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি দক্ষিণাঞ্চলের নি¤œ-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে আরো সংকটে ফেলেছে।তবে এরপরেও সিয়াম সাধনার পরে সারা দেশের মত দক্ষিণাঞ্চলেও ঈদ আসছে। কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরবে ঈদের বাজারে। তবে সব ব্যাবসায়ীদেরই বক্তব্য ‘তিন বছরের করোনা সংকট কাটিয়ে যেভাবে বেচাকেনা হবার কথা, তার কাছেও নেই এবারের ঈদ বাজার’। এরপরেও ঈদের আগে যেকটি দিন হাত আছে, সে সময়টিকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছেন ব্যবসায়ীরা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT