রুট পারমিট ছাড়াই বরিশালে চলছে অসংখ্য যানবাহন: নিরব বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ রুট পারমিট ছাড়াই বরিশালে চলছে অসংখ্য যানবাহন: নিরব বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ - ajkerparibartan.com
রুট পারমিট ছাড়াই বরিশালে চলছে অসংখ্য যানবাহন: নিরব বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ

3:43 pm , April 8, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ শুধু বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নয়, নগরীতে অবৈধ যানবাহন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ট্রাফিক পুলিশ ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের নীরবতাও। স্থানীয় কাউন্সিলর বা নেতাদের সাথে যোগসাজসে অবৈধ যানবাহন থেকে মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ এই দুটি সংস্থার বিরূদ্ধেও।
নগরীর নবগ্রাম রোডের বটতলা মোড়ে ম্যাজিক বা ঝিকঝাঁক নামের ৪০-৬০টি গাড়ির চলাচল রয়েছে। আছে সিএনজি ও মাহেন্দ্র। বেশিরভাগে গাড়ির কোনো রুট পারমিট বা ফিটনেস নাই। ঝুঁকি  নিয়েই এসব যানবাহনে চলছে যাত্রী চলাচল। সরেজমিনে নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের আশেপাশে একরকম অনেক ম্যাজিক,  মাহেন্দ্র ও সিএনজি দেখা গেছে যারা দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন করছে। রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের আশেপাশের স্টেশন করে এরা পিরোজপুর,  বরগুনা, পাথরঘাটা এবং কুয়াকাটা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে। এদের রয়েছে বরগুনা,  ভোলা, পিরোজপুর ইত্যাদি জেলার নম্বরপ্লেট। অন্যদিকে নথুল্লাবাদ থেকে ভাঙা, পদ্মাসেতু,  আরিচা, গৌরনদী পয়সার হাট গোপালগঞ্জ ইত্যাদি রুটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে। বেশিরভাগ ম্যাজিক নামের চার চাকার টেম্পুটির প্রকৃত আসন সংখ্যা ছয়টি। সেটা খুলে ফেলে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে। ছয়জনের স্থানে ১০জন এবং সামনে দুজন করে মোট বারোজন যাত্রীর চাপাচাপি ও ঝুকিপূর্ণ চলাচল এই পরিবহনে।  তারপরও নাকি এগুলোর ফিটনেস ও রুট পারমিট রয়েছে দাবী করেন ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা।  এরকম বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম জানা গেছে যারা এইসব যানবাহন থেকে নিয়মিত সম্মানী আদায় করেন ও এদের শহরের ভিতর চলাচলে সহায়তা করেন। দূরের পথেও রয়েছে বিআরটিএ ও ট্রাফিক কর্মকর্তাদের সাক্ষরিত ভিজিটিং কার্ড ও ফোন নম্বর সিস্টেম।  স্বয়ং বিআরটিএ বিভাগীয় কর্মকর্তাও এতে যুক্ত বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
বটতলা মোড়ের ম্যাজিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন তিন চারজন পরিবহন শ্রমিক। এদের নেতা বা কেয়ারটেকার বাসার বলেন, এখানে বটতলা মোড় থেকে ঝালকাঠির নবগ্রাম ও পিরোজপুরের আটঘর কুড়িয়ানা দুইটি রুটে ম্যাজিক পরিবহনের ৪০টি গাড়ি চলাচল করে। গাড়ি প্রতি ২০ টাকা স্ট্যান্ডিং ও সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ খরচ নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, চৌমাথা স্ট্যান্ড ও এই স্ট্যান্ড একই নেতার নিয়ন্ত্রণে।  আমরা এখানে তারই প্রতিনিধি। নতুন গাড়ি এই রুটে চালাতে হলে আগে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের অনুমোদন নিতে হবে।  এসময় একজন মাহেন্দ্র ও একজন ম্যাজিক পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান জানান, নতুন কাউকে আর ঢুকতে দেবে বলে মনে হয় না। গাড়ির সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। তাছাড়া নতুন নাম্বার প্লেট পেতেও অনেক ঝামেলা রয়েছে। বিআরটিএ ম্যানেজ করতে এখন আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগে বলে জানান তিনি।
এদের গাড়ির সামনে বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা নাম্বার প্লেটে  লাগানো। তবে বরিশালের প্লেটের রং পেস্ট কালার। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে নগরীর চৌমাথা ট্রাফিক বক্সের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও একজন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর জানালেন, এদের বেশিরভাগের জেলার নম্বর প্লেট রয়েছে। মহানগরতো পড়ে হয়েছে ফলে এরা কোথায় যাবে? তাই মানবিক খাতিরেই চলতে দিতে হয়। তাছাড়া এদের বেশিরভাগেরই রুট পারমিট রয়েছে।
এ বিষয়ে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হলে বিভাগীয় পরিচালক প্রথমে অবজ্ঞার স্বরে বলেন, আপনারাও দেখি নম্বর বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছেন! পরে নম্বরপ্লেটের ছবি দেখে জানালেন, এখানের একটি গাড়িতেও ফিটনেস অনুমোদন ও রুট পারমিট নেই। এগুলো ঠিক করে নিতে তাদেরকে আগামী ঈদুল ফিতর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও ঈদের পরপরই বিশেষ অভিযানে নামবে বিআরটিএ জানালেন বিআরটিএর বরিশাল বিভাগের পরিচালক জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন,  জিপিএস ট্রেকিং ও ফিটনেসসহ রুট পারমিট না নিয়ে কোনো গণপরিবহন রাস্তায় চলতে পারবে না।  এজন্য প্রয়োজনীয় আইনেরও সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান জিয়াউর রহমান।
আর ট্রাফিকের উপ-পুলিশ কমিশনার এসএম তানভির আরাফাত বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকার ভিতরে চলাচলের জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন জরুরী। নগরীতে কতগুলো চলবে কি চলবে না তা সিটি কর্পোরেশনই ঠিক করবে। আর আমার ট্রাফিক বিভাগের কোনো দূর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সাথে সাথে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তানভীর আরাফাত।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT